স্বাধীনতার ঘোষণা পেল কাতালান তবে কার্যকারিতা স্থগিত

October 11, 2017 0

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েও তা অকার্যকর করে রাখলেন কাতালোনিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্লেস পুইগডেমন্ট। মঙ্গলবার তিনি স্পেনের কাছ থেকে কাতালোনিয়ার ঘোষণা দেন।

বে বলেন, মাদ্রিদ সরকারের সঙ্গে আলোচনার দুয়ার খোলা রেখে আপাতত স্বাধীনতার কার্যকারিতা স্থগিত রাখছেন তিনি। বার্সেলোনায় কাতালানের আঞ্চলিক পার্লামেন্টে তিনি মঙ্গলবার বক্তব্য রাখেন।

সেখানে বলেন, একটি প্রজাতন্ত্র হিসেবে এই অঞ্চলের স্বাধীনতার পক্ষে কাতালোনিয়ার মানুষ অনুমোদন দিয়েছে। কাতালোনিয়া স্বাধীন রাষ্ট্র হওয়া উচিত।

কিন্তু আমি আলোচনার পথ খোলা রেখে বোঝাপড়ায় সম্মত হওয়ার জন্য স্বাধীনতার কার্যকারিতা স্থগিত করছি। তবে তার এই আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে স্পেনের সরকার।

কাতালানের প্রেসিডেন্ট কার্লেসের স্বাক্ষর করা স্বাধীনতার ঘোষণার বিবৃতিকেও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাজয় এ নিয়ে মন্ত্রীপরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন।

সেখানে সরকারের পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এতে বলা হয়, মঙ্গলবার কাতালানের স্বাধীনতার ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন কার্লেস। জটিল পরিস্থিতির মধ্যে, এমনকি তার কাতালানেই ব্যাপক দ্বিধাবিভক্তির ভিতর দিয়ে তিনি এই ঘোষণা দিয়েছেন।তাকে জেলে যাওয়ার হুমকি পর্যন্ত দেয়া হয়েছে।

তিনি কে, কোথায় আছেন, কোথায় যাচ্ছেন তা তিনি জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন স্পেনের উপ প্রধানমন্ত্রী সোরায়া সায়েঞ্জ ডি সান্তামারিয়া। কাতালানের স্বাধীনতাকে কেন্দ্র করে স্পেন ভয়াবহ রাজনৈতিক সঙ্কটে পড়েছে।

বলা হচ্ছে, গত চার দশকের মধ্যে এটাই সেখানে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সঙ্কট। গত ১লা অক্টোবর কাতালোনিয়াকে স্বাধীন করার প্রশ্নে গণভোট হয়।

তাতে শতকরা ৯০ ভাগের বেশি মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে রায় দেন, যদিও ভোটার উপস্থিতি ছিল খুব কম। ওই গণভোটকে অবৈধ ঘোষণা করেছে স্পেনের সাংবিধানিক আদালত।

নানা জল্পনা, ঝুঁকিকে সামনে নিয়ে মঙ্গলবার বার্সেলোনিয়ায় কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক পার্লামেন্টের অধিবেশন আহ্বান করেন প্রেসিডেন্ট কার্লেস।

সেখানে তিনি বলেন, গণভোটের ফলে তার শায়ত্তশাসিত কাতালান স্বাধীনতার অধিকার অর্জন করেছে।

তিনি আরো বলেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম কাতালান প্রজাতন্ত্রকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য আমি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দেশ ও সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। জনগণের ইচ্ছাতেই মাদ্রিদের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছে কাতালান।

তবে তিনি কাতালানের স্বাধীনতা নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনা প্রশমনও করতে চান। তিনি এমপিদের উদ্দেশে বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে এ নিয়ে আমরা আলোচনা করতে চাই।

এমন আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে সম্মত হওয়া জরুরি। সে পর্যন্ত স্বাধীনতার ঘোষণা কার্যকর করা স্থগিত রাখার প্রস্তাব করছি। এরপরই তিনি ও কাতালানের অন্য নেতারা স্বাধীনতার ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন।

তবে এই স্বাধীনতার কোনো আইনগত মর্যাদা আছে কিনা তা পরিষ্কার নয়। ওদিকে বার্সেলোনায় সমবেত হয়েছিলেন বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক। প্রেসিডেন্ট কার্লেস স্বাধীনতার ঘোষণায় স্বাক্ষর করতেই তারা উল্লাসে ফেটে পড়ে।

পরে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলে তাদের কারো কারো মধ্যে হতাশা দেখা দেয়। ওদিকে প্রেসিডেন্ট কার্লেসের আলোচনার প্রস্তাব আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে নাকচ করে দিয়েছেন স্পেনের উপ প্রধানমন্ত্রী সান্তা মারিয়া।

তিনি বলেছেন, আলোচনার প্রস্তাব কার্লেস পুইগডেমন্ট বা অন্য কেউ চাপিয়ে দিতে পারেন না। ইতিহাসে সবচেয়ে উত্তেজনাকর অবস্থায় কাতালানকে নিয়ে গেছেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট কার্লেস শায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলটিকে সবচেয়ে অনিশ্চয়তায় নিয়ে গেছেন। মঙ্গলবার যে বক্তব্য রেখেছেন তাতে তিনি বুঝতে পারেন নি তিনি কে।

ওদিকে স্পেনের আইনমন্ত্রী রাফায়েল কাতালা আবারও সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেছেন, ১লা অক্টোবরের ওই গণভোট বেআইনি ও অবৈধ।