ফেসবুকের অপব্যবহার

November 13, 2017 0

প্রযুক্তি আকাশ ডেস্ক: ফেসবুক একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। কোটি কোটি মানুষের জীবনযাপনের অপরিহার্য অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে এটি।

ফেসবুকের মাধ্যমে মানুষ সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার আগেই জেনে যাচ্ছে অনেক খবরাখবর। বিপন্ন মানবতার পাশে সহায়তার হাত বাড়ানোর ক্ষেত্রেও ফেসবুক প্রশংসনীয় অবদান রাখছে। তবে স্বীকার করতেই হবে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার ব্যক্তি, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নানা অকল্যাণও ডেকে আনছে।

বিশেষত ধর্মান্ধ উগ্রবাদী শক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে তাদের অপকর্মের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়ায় বিপর্যয় অনিবার্য হয়ে উঠছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলার ক্ষত শুকাতে না শুকাতে রংপুরে তাদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের পেছনে একই অপশক্তির কালো হাত জড়িত। ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগে একদল কাণ্ডজ্ঞানহীন মানুষ জ্বালাও-পোড়াও উন্মত্ততায় মেতে উঠলেও বিষয়টি যে শতভাগই পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র তা মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

কারণ রংপুরে টিটু রায় নামের যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফেসবুকে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার মতো ছবি ও মন্তব্য পেস্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে সে রংপুরের নিজ বাসভূমে অবস্থান করছেন না কয়েক বছর ধরে। লেখাপড়া না জানা এমন ব্যক্তির পক্ষে ফেসবুক খোলা এবং সেখানে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানে এমন ছবি ও মন্তব্য পোস্ট করা সম্ভব কিনা তা এখন বড়মাপের প্রশ্ন। হামলার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদারদের সহযোগী একটি দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মী সমর্থকরা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

রাজনৈতিক ফায়দা লোটার উদ্দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বী অশিক্ষিত এক নিরীহ যুবকের নামে ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে তাতে আপত্তিকর ছবি ও মন্তব্য জুড়ে দেওয়া হয়েছে কিনা তদন্ত করে দেখা উচিত।

ফেসবুকে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার সঙ্গে যে বা যারা জড়িত তাদের যেমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কাম্য, তেমন যারা আইন হাতে তুলে নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘর লুটপাট ও ভাঙচুর করেছে তাদের প্রাপ্য শাস্তিও নিশ্চিত হওয়া দরকার। অতীতে বেশ কয়েকবার এ ধরনের অপকর্ম ঘটলেও দোষীদের আইনের আওতায় না আনার কারণে দুর্বৃত্তদের দুঃসাহস বেড়ে গেছে। ফেসবুককে যারা সংঘাতের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে তাদের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর হতে হবে।