l

রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৩:১২ পূর্বাহ্ন

৬ এপ্রিল ঘিরে উত্তাপ

৬ এপ্রিল ঘিরে উত্তাপ

এখানে শেয়ার বোতাম

শামছুদ্দীন আহমেদ: আগামী ৬ এপ্রিল শনিবার দিনটিকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে এক ধরনের উত্তাপ, উত্তেজনা। মহানবী (সা.) ও ইসলাম অবমাননাকারী ব্লগারদের শাস্তিসহ ১৩ দফা দাবিতে এদিন ঢাকামুখী লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে একইদিনে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছে মহাজোট সমর্থক ইসলামী ঐক্যজোট। একই দাবিতে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চও এদিন ঢাকায় সমাবেশ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক সহিংসতা ও একের পর এক হরতালে উদ্বিগ্ন হয়ে কর্মসূচি নির্ধারণে ৬ এপ্রিল রাজধানীতে ব্যবসায়ীদের নিয়ে সম্মেলন করার কথা জানিয়েছে তাদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)।

হেফাজতে ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট, গণজাগরণ মঞ্চ ও এফবিসিসিআইয়ের একইদিনে ঢাকায় শো-ডাউনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সরকারও উদ্বিগ্ন। ইসলামী ঐক্যজোট, গণজাগরণ মঞ্চ ও এফবিসিসিআইয়ের কর্মসূচি নিয়ে সরকারে তেমন দুশ্চিন্তা না থাকলেও হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অভিমুখী লংমার্চ নিয়েই বেশি চিন্তা। সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কায় উত্কণ্ঠিত রাজধানীবাসীসহ সারাদেশের মানুষও। লংমার্চে বাধা দেয়া হলে ৭ এপ্রিল থেকে লাগাতার হরতাল কিংবা অবস্থান ধর্মঘটের কর্মসূচি দেয়া হবে বলে হেফাজতে ইসলাম যে আগাম হুমকি দিয়ে রেখেছে, তা উদ্বেগকে আরও ভারি করে তুলেছে। এর ওপর বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ৮ ও ৯ এপিলের সম্ভাব্য হরতালের কর্মসূচিও দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে তাদের।

এদিকে, আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এইচএসএসি ও সমমানের পরীক্ষা। ৬ এপ্রিলের কর্মসূচিসমূহ এবং এর পরবর্তীতে পরিস্থিতি কোনদিকে গড়ায় তা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রায় ১০ লাখ পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। যদি হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হয় এবং এর জের ধরে তারা পূর্ব হুমকি অনুযায়ী পরদিন থেকে হরতাল কর্মসূচিতে যায়, তাহলে পরীক্ষার কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে। ১৮ দলও আগামী সপ্তাহে ফের হরতাল ডাকলে আরও জটিল সমস্যায় পড়তে হতে পারে শিক্ষার্থীদের। শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ পরীক্ষার সময় হরতাল না দিতে আহ্বান জানালেও কেউ এতে এখন পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দেননি।

৬ এপ্রিলকে ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনা এবং আবারও হরতালের আগাম হুমকি সম্পর্কে সুশাসনের জন্য নাগরিক, সুজন সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, মানুষ বিভ্রান্ত ও শঙ্কিত। সত্যিকার অর্থেই তারা দিশেহারা। মনে হচ্ছে সবাই ‘উগ্র’ অবস্থান নিতে যাচ্ছে। কিছু বিষয়ের সমাধান হওয়া উচিত পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে, কিছু বিষয়ে সমাধান হওয়া দরকার আদালতে। কিন্তু সেদিকে না গিয়ে সবাই যেন রাজপথকেই সমস্যা সমাধানের মাধ্যম হিসাবে বেছে নিচ্ছে। এতে সমস্যার সমাধান তো হবেই না, বরং পরিস্থিতি সহিংসরূপ ধারণ করতে পারে। পরিস্থিতি যেন আরও খারাপের দিকে না যায়, সেলক্ষ্যে সবারই শুভবুদ্ধির পরিচয় দেয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময় রাজনৈতিক কর্মসূচি সম্পর্কে সুজন সম্পাদক বলেন, সরকারসহ সকল পক্ষ যদি যার যার অবস্থানে অটল থাকে তাহলে পরীক্ষার্থীরা মুশকিলে পড়বে। লেখাপড়া ও নিজেদের ভবিষ্যত্ নিয়ে তাদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য সবারই অভিভাবকসুলভ আচরণ করা উচিত। তবে পরীক্ষার সময়ও হরতালের মত কর্মসূচি সম্পর্কে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কর্মসূচি দেয়ার সময় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ও পরীক্ষার বিষয়টি আমরা সবসময়ই বিবেচনা করি। কিন্তু জাতি যখন অস্তিত্ব সংকটে পড়ে, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন যখন বিপর্যস্ত হয়, তখন সেটিই দেশবাসীর সামনে বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। দেশ, জনগণ ও গণতন্ত্র এখন বিপর্যস্ত। এজন্য সবাইকে আগে এগুলোকে রক্ষার সংগ্রামে শামিল হতে হবে।

হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফী ইতিমধ্যে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ৬ এপ্রিলের ঢাকামুখী লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে তারা যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। চট্টগ্রামের হাটহাজারিসহ দেশের সকল জেলা থেকে এদিন ঢাকায় অন্তত ৫০ লাখ লোকের সমাগম ঘটানোর টার্গেট নিয়েছেন তারা। ৫ এপ্রিলের মধ্যে সরকার তাদের দাবি মেনে না নিলে এবং লংমার্চে বাধা দেয়া হলে পরদিন থেকে লাগাতার হরতাল বা অবস্থান ধর্মঘটের মত কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।

হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দের একাংশ গত বৃহস্পতিবার রাতে বৈঠক করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের ৬ এপ্রিলের কর্মসূচির প্রতি নৈতিক সমর্থন জানানো হয়েছে। ১৮ দলের অন্যতম শরিক জামায়াতেরও মৌন সমর্থন রয়েছে লংমার্চে। এই কর্মসূচির প্রতি শুক্রবার সমর্থন দিয়েছেন চরমোনাই পীরসাহেব। এছাড়া আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট শরিক জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদও তাদের এই কর্মসূচির প্রতি গতকাল সমর্থন ঘোষণা করেছেন।

মহাজোট সরকারের সমর্থক বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিজবাহুর রহমান চৌধুরী গত ২০ মার্চ এক সাংবাদিক সম্মেলনে ৬ এপ্রিল ঢাকার মতিঝিলে মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে দলটি এই কর্মসূচি দিয়েছে। অভিন্ন দাবিতে একইদিন শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চেও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে, দেশে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা এবং একের পর এক হরতালে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা। তারা একাধিকবার নিজেদের উদ্বেগের কথা জানালেও রাজনৈতিক দলগুলো তাতে সায় দেয়নি। এ অবস্থায় শুধু বক্তৃতা-বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এবার তারাও কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামতে চান। কর্মসূচি ঠিক করতে সারাদেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে আগামী ৬ এপ্রিল রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে সকাল ১০টায় সম্মেলন করতে যাচ্ছে এফবিসিসিআই। জানা গেছে, সম্মেলনে যোগ দিতে অনুরোধ জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদের সদস্য চেম্বার ও সমিতিগুলোকে এফবিসিসিআই চিঠি দিয়েছে।

 


এখানে শেয়ার বোতাম






পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
All rights reserved © 2021 shirshobindu.com