l

সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ১২:৪১ অপরাহ্ন

ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে সিলেটের অধিকাংশ ভবন

ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে সিলেটের অধিকাংশ ভবন

এখানে শেয়ার বোতাম

সিলেট প্রতিনিধি: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভুমি সিলেট ভূমিকম্পের প্রধানতম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। এ অঞ্চলে দালানকোঠা নির্মাণে মানা হচ্ছে না বিল্ডিং কোড, দেদারসে চলছে পাহাড় কাটা, জলাশয় ভরাটসহ পরিবেশ বিপর্যয়কারী নানা কার্যক্রম। ভূ-প্রাকৃতিক গঠনের কারণে এ অঞ্চল অধিক ঝকিপূর্ণ সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের কোন নজর নেই।

২০০৯ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি (সিডিএমপি) পরিচালিত জরিপে জানা গেছে, সিলেট অঞ্চলে ৫২ হাজার ভবন রয়েছে। এর মধ্যে ২৪ হাজার ভবনই ভূমিকম্পের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ। সরকারি ও বেসরকারি অনেক ভবন ইতিমধ্যেই ঝুকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হলেও এগুলোতে নিয়মিত চলছে কার্যক্রম। ফলে যেকোন সময় বড় ধরণের ভূমিকম্প হলে হাজার হাজার ভবন ধ্বসে পড়তে পারে। ব্যাপক হারে ঘটতে পারে প্রাণহানির ঘটনা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সিলেট নগরীতে সরকারি ও বেসরকারি শতাধিক ঝূঁকিপূর্ণ ভবনে নিয়মিত চলছে কার্যক্রম। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি অফিস, বিপনী বিতান ও বাসাবাড়ি। এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ধসে পড়লে বিপুল প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিটি করপোরেশন ও গণপূর্ত বিভাগ সমপ্রতি সিলেট নগরীর কিছু ঝঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে সেগুলোতে ‘ঝুঁকিপূর্ণ ভবন’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখে। তবে এখন পর্যন্ত কেবল চিহ্নিত করা আর সাইনবোর্ড ঝুলানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে এই দুই কর্তৃপক্ষের কাজ। ভবনগুলোতে যথারীতি ঝুঁকি নিয়েই চলছে কার্যক্রম। ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করার পর জেলা কালেক্টরেট ভবন-৩ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও সমপ্রতি ভবন স্বল্পতার দোহাই দিয়ে আবার এ ভবনে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সিটি করপোরেশন ও গণপূর্ত বিভাগ থেকে যেসকল ভবন ঝুকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- কালেক্টরেট ভবন-৩, সমবায় ব্যাংক ভবন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় ভবন, খাদ্য অধিদফতর ভবন, কাস্টমস ও ভ্যাট অফিস ভবন, জেলা এসএ রেকর্ড অফিস। সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন সিটি সুপার মার্কেট, হকার্স মার্কেট। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যে রয়েছে- সুরমা মার্কেট, সবুজ বিপনী, মধুবন সুপার মার্কেট, রাজা ম্যানশন, মিতালী ম্যানশন, ফরিদ প্লাজা, মহাজন পট্টির ইদ্রিস মার্কেট, সিলেট চেম্বার অব কমার্স বিল্ডিং প্রভৃতি।

সরকারি ভবন ও স্থাপনার পাশাপাশি মহানগরীতে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ব্যক্তি মালিকানাধীন অনেক আবাসিক জরাজীর্ণ বহুতল ভবনও রয়েছে। জানা গেছে, গত এক দশকে নগরী ও এর আশপাশে ব্যাপক হারে গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন, বিপণী বিতান ও আবাসন প্রকল্প। এসব ভবনের অধিকাংশই নির্মাণের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের অনুমতি নেয়া হলেও নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ হয়নি। দ্বিতল ভবনের অনুমতি নিয়ে ৫ তলা ভবন নির্মাণ করলেও তা তদারকির কেউ নেই। তাছাড়া মহানগরীর অধিকাংশ ভবন নির্মিত হয়েছে ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুসরণ না করে। সয়েল টেস্ট ছাড়া এসব ভবন নির্মাণের কারণে ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সিলেট ফায়ার সার্ভিস ডিফেন্স স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের হাজার হাজার বহুতল ভবনের মধ্যে মাত্র ১০৭টি ভবন বিল্ডিংকোড মেনে তৈরি হয়েছে। অন্য সবগুলো দালান নির্মাণে মানা হয়নি নিয়ম। এদিকে, ভূমিকম্প কিংবা ভবন ধসের ঘটনা পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতার জন্য নেই পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও সরঞ্জাম। এ অবস্থায় কোন অঘটন ঘটলে ঢাকা থেকে যন্ত্রপাতি ও লোকবল এনে উদ্ধার কাজে নামতে হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স-এর সহকারী পরিচালক পরিমল কুন্ডু।

সম্প্রতি ভয়াবহ সাভার ট্রাজেডি পর ঘন ঘন ভূমিকম্প এবং ভবন ধসের ঘটনায় আতঙ্কিত সিলেটের লোকজন। ২০১২ সালে সিলেটে ছোট-বড় ২৯টি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ সাঈদ  চৌধুরী। তিনি জানান, ইউরেশিয়ান ও ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান প্লেটের কারণে সিলেট থেকে ৭৪ কিমি. দূরে ডাউকি ফল্টে যে ভূমিকম্প হয় সেটি মারাত্মকভাবে সিলেটে আঘাত হানে। যে হারে ভূমিকম্পের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে সে তুলনায় সিলেট অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর পরিণতি কী হবে তা বলাই-বাহুল্য। দিনের বেলায় ভূমিকম্প আঘাত হানলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হবে বেশি। রান্নাঘরে গ্যাসের আগুন ও আতঙ্কে মানুষের ছুটাছুটির কারণে মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হবে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, রেক্টার স্কেলে ৬ মাত্রা বা তার অধিক মাত্রার ভূমিকম্প হলে সিলেট মৃত্যুপুরীতে পরিণত হবে। এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাথে যোগাযোগ করা হলে, দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা জানান, সিটি করপোরেশনের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কোনো তালিকা নেই। দুর্যোগ দেখা দিলে মাঝেমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করা হয়। তবে সিটি করর্পোরেশনের মালিকানাধীন সিটি সুপার মার্কেট এবং নগর ভবনের অনতিদূরে সুরমা মার্কেটসহ নগরীতে বেশ কয়েকটি সরকারি অফিস, বিপনী বিতান ও বাসাবাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তার পর্যবেক্ষন করছেন। এ ব্যাপারে নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

 


এখানে শেয়ার বোতাম






পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

All rights reserved © 2021 shirshobindu.com