l

শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৫:১০ অপরাহ্ন

শুধু পণ্য নেয়া বন্ধ করলেই সমাধান হবে না

শুধু পণ্য নেয়া বন্ধ করলেই সমাধান হবে না

এখানে শেয়ার বোতাম

সাভারে ভবন ধ্বসের ঘটনায় ইতোমধ্যেই প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম বিশ্লেষণধর্মী রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এ পর্যায়ে বিবিসি অন লাইনে একটি অনুসন্ধানি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত রিপোর্টে তারা বরেছে, ব্যাপক হতাহতের ঘটনায় আন্তর্জাতিক প্রচার মাধ্যম ও বিভিন্ন সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। উৎকণ্ঠায় রয়েছে তারা, যারা বাংলাদেশ থেকে পোশাক ক্রয় করে।

এ নিয়ে এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের গার্মেন্টস নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবার খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সাভারের রানা প্লাজা ভবনে পাঁচটি পোশাক কারখানা ছিল। কিছু পর্যবেক্ষক এই বিপর্যয়কে টনক নড়ার উপলক্ষ হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, এত বড় ঘটনার পরও বাংলাদেশের পোশাক কারখানার পরিস্থিতি বদলানোর সম্ভাবনা খুব কম।

দারিদ্র্যবিরোধী দাতব্য সংস্থা ওয়ার অন ওয়ান্ট-এর গণমাধ্যম কর্মকর্তা পল কলিন্স বলেন, ‘আমরা আমাদের বাংলাদেশি অংশীদার জাতীয় পোশাক শ্রমিক ফেডারেশনের কাছ থেকে দিক নিদের্শনা নিচ্ছি। তিনি বলেন, আমাদের বর্জনের ডাক দেয়া উচিত নয়। এটা একটা পদ্ধতিগত সমস্যা। এ নিয়ে অনেক জরিপ হয়েছে। এখানকার (যুক্তরাজ্য) ক্রেতা কোম্পানিগুলো যেসব কারখানা থেকে পোশাক কেনে, সেসব কারখানার শ্রমিকদের সঠিক মজুরি নিশ্চিত করেনি তারা। তাই ব্রিটিশ সরকারকে এই সমস্যার বিষয়ে কাজ করতে হবে। শ্রমিকদের বিষয়ে একটি মানবাধিকার কমিশন গঠন করতে হবে। আমরা ব্রিটিশ আদালতে এর প্রতিকার চাইতে পারি।’

গত প্রায় সাত বছর আগে একই এলাকায় একই ধরনের একটি ভবনধ্বসের ঘটনা ঘটে। এতে ৬৪ জন পোশাক শ্রমিক নিহত হন। পোশাক কারখানায় অগ্নিকা- ও হুড়োহুড়িতে পদদলিত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এতে শত শত শ্রমিকের প্রাণ গেছে। গত বছর তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকান্ডে শতাধিক শ্রমিক নিহত হন। বাংলাদেশের বার্ষিক রপ্তানির ৮০ শতাংশ আসে এই শিল্প থেকে। ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের উৎস পোশাকশিল্প।

আর সম্প্রতি বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোতে কর্মপরিবেশের উন্নয়নে উৎসাহ জোগাতে এখন ‘যথাযথ ব্যবস্থা’ নেওয়ার কথা ভাবছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সাভারে ভবনধসের ঘটনায় তৈরি পোশাক কারখানার কর্মীসহ ব্যাপক প্রাণহানির এ ব্যাপারে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিনডা স্কট বলেন, সমস্যার সমাধানে নানামুখী চাপে দরকার। কিন্তু আসল চাপটা দিতে হবে বাংলাদেশ সরকারের ওপরেই। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া অবস্থার উন্নতি হবে বলে মনে হয় না।’

পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন লেবার বিহাইন্ড দ্য লেবেল-এর প্রচারাভিযানের সমন্বয়কারী আনা ম্যাকমুলেন বলেন, ‘আমরা বর্জনে বিশ্বাস করি না। আমরা মনে করি, এটা খুব বাজে একটা ধারণা। এখানকার মানুষ যদি সস্তা পোশাক কেনা বন্ধ করে দেন, তাহলে এর প্রভাব পড়বে সেখানে (বাংলাদেশ)। এটা ব্র্যান্ডের দায়িত্ব। তারা যদি বাংলাদেশ থেকে পোশাক কেনে, তাহলে তাদেরই শ্রমিকদের মজুরি, ভবনের উন্নত মান, অগ্নিনিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য নিরাপত্তার মাপকাঠি ঠিক করে দিতে হবে। ক্রেতা হিসেবে আমাদের কিছু প্রশ্ন করা উচিত। এই শিল্পে আরও স্বচ্ছতা দরকার। আমাদের জানা দরকার, আমাদের পোশাক কোত্থেকে আসে, কারা এটা তৈরি করে, কারখানার ঠিকানা কী, কোথায় তৈরি হয়, কারখানাগুলোর অবস্থা কী ইত্যাদি। সমাধান খুব জটিল। এ জন্য সব পর্যায়ের সবাইকে কাজ করতে হবে।’

শ্রমিক ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের মধ্যে আরেকটি পর্যায় হচ্ছে উৎপাদনকারী। তাদেরও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। এ ব্যাপারে সরকার, উৎপাদনকারী, ইউনিয়ন যদি তাদের দায়িত্ব পালন না করে, তাহলে বিদেশি ক্রেতা কোম্পানিগুলোর পদক্ষেপ সেভাবে কাজে আসবে না। তবে সবচেয়ে কার্যকর দিক হলো পোশাকের সাধারণ ক্রেতার অবস্থান। কিন্তু এতে সমস্যার সমাধান হবে না। সমস্যা অন্যত্র স্থানান্তর হবে। শিল্প অন্য দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অর্থ দুর্গতি এক জায়গা থেকে অন্যত্র যাওয়া। এতে কেবল বাংলাদেশের মানুষ কর্মসংস্থান হারাবে।

 

 


এখানে শেয়ার বোতাম






পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

All rights reserved © 2021 shirshobindu.com