l

রবিবার, ০৭ মার্চ ২০২১, ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের গার্মেন্টেস নিরাপত্তা নিয়ে বিভক্ত ইউরোপ, আমেরিকা

বাংলাদেশের গার্মেন্টেস নিরাপত্তা নিয়ে বিভক্ত ইউরোপ, আমেরিকা

এখানে শেয়ার বোতাম

বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্পে নিরাপত্তা বিষয়ক একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করা নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে ইউরোপ ও আমেরিকার তৈরী পোশাকের ক্রেতারা। সোমবার এ বিষয়ে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশির ভাগ ক্রেতা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতা গ্যাপ ইনকরপোরেশন, ওয়ালমার্ট, সিয়ার্স চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তারা বলেছে, বিতর্কিত বিষয়গুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে না। পরিষ্কার করতে হবে কিভাবে এ সমস্যার সমাধান করা হবে। এ নিয়ে গতকাল টাইম ম্যাগাজিনের অনলাইন সংস্করণ, লন্ডনের অনলাইন ইন্ডিপেন্ডেন্ট রিপোর্ট প্রকাশ করে।

এতে বলা হয়, গার্মেন্টে ভবন ও অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ক একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে পশ্চিমা বেশ কয়েকটি ক্রেতা সংস্থা। এর মধ্যে রয়েছে ক্রেতা সংস্থা জারা’র মূল কোম্পানি ইন্ডিটেক্স, নেদারল্যান্ডসের ক্রেতা সংস্থা সিঅ্যান্ডএ, এইচঅ্যান্ডএম, বৃটেনের বিশাল ক্রেতা সংস্থা প্রাইমার্ক ও টেসকো। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে শ্রমিক সংগঠনগুলোর জোট ইন্ডাস্ট্রিয়াল সমর্থিত এ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় সোমবার।

টাইম ম্যাগাজিনের অনলাইন সংস্করণে ‘রিটোইলারস সাইন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি সেফটি ডিল’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলেছে, সোমবার সরকারি হিসাবে রানা প্লাজা থেকে উদ্ধার হওয়া মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১২৭। বাংলাদেশে ভবিষ্যতে যেন একই রকম আর কোন ট্র্যাজেডি না ঘটে এমন আশায় আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বসে। এ সময় শ্রমিক সংগঠন সমর্থিত ওই প্রস্তাবকে তারা স্বাগত জানান।

ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, বিশ্বে    এখনও তৈরী পোশাকের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উৎপাদনকারী বাংলাদেশ। তবে এখনও এখানকার শ্রমিকরা কম মজুরি পান। দীর্ঘ সময় তাদেরকে অমানবিক পরিবেশে আটকে রেখে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। এইচঅ্যান্ডএম-এর হেলেনা হেলমারসন এক বিবৃতিতে বলেছেন, অগ্নি ও ভবন নিরাপত্তা আমাদের কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এ বিষয়ে আমরা ব্যাপক প্রচেষ্টা চালাই। এই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে এ ইস্যুতে আমরা আরও বেশি কাজ করতে উজ্জীবিত হবো। গত ২৪শে এপ্রিল ধসে পড়া রানা প্লাজায় তৈরি হতো  সিঅ্যান্ডএ ও জারা’র পোশাক। তবে এইচঅ্যান্ডএম এখনও বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় ক্রেতা।

সোমবারের চুক্তির প্রশংসা করেছেন প্রাইমার্কের এক মুখপাত্র। তিনি বলেছেন, এই চুক্তির আওতায় এখন যৌথভাবে ভবন ও অগ্নি নিরাপত্তা কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন ও তা বাস্তবায়নের যে বিষয় রয়েছে তাতে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ, প্রতিবিধান ও অগ্নি নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এর আগে এ কর্মসূচিতে যুক্ত ছিল মাত্র দুটি কোম্পানি। তারা হলো- ক্যালভিন ক্লিন ও টমি হিলফিগারের মূল সংস্থা পিভিএইচ এবং জার্মানির ক্রেতা টচিবো।

ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, রানা প্লাজায় ৫টি গার্মেন্ট ছিল। তা ধসে পড়ার আগে সেখানে কমপক্ষে ৩৫০০ শ্রমিক কাজ করছিলেন। ভবনে ফাটল দেখা যাওয়ার পর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। তাদেরকে ভবনে কাজ বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু কোন পক্ষই তাতে সাড়া দেয় নি। এরই মধ্যে ওই ভবনের মালিক সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। আদালত তার সব সম্পত্তি জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ১৯৮৪ সালে ভারতের ভূপালে গ্যাস দুর্ঘটনায় ২২৫৯ জন নিহত হওয়ার পর সাভারের এ দুর্ঘটনা বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ।

ওদিকে রোববারই বাংলাদেশ সরকার শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে। বলা হয়েছে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন বেতন বর্ধিত করা হবে। বাংলাদেশে রয়েছেন ৪০ লাখের মতো গার্মেন্ট শ্রমিক। তাদের বর্তমান সর্বনিম্ন বেতন মাসে প্রায় ৩৮ ডলার। এছাড়া, নিয়োগকারীর অনুমোদন ছাড়াই শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অনুমোদন দেয়া হবে। ঢাকায় অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তারা ৩১৯৭টি কারখানা পরিদর্শন করেছেন। তার মধ্যে ৯৪৩টি ব্যবহার সাব-স্ট্যান্ডার্ড অথবা ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের বস্ত্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত করার মাধ্যমে সরকার ১৯০০ কোটি ডলারের গুরুত্বপূর্ণ এ শিল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের প্রশংসা করতে হবে। আমরা এমন দাসপ্রথার শ্রমিক দেখতে চাই না। এর আগে নভেম্বরে ঢাকার কাছে একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১১২ গার্মেন্ট শ্রমিক নিহত হন। বাংলাদেশের তৈরী পোশাকের কারখানার নিরাপত্তা পরিস্থিতির শোচনীয় অবস্থা নিয়ে কখনও কোন সংশয় ছিল না। তারপরও পশ্চিমা ক্রেতাদের শীর্ষ স্থানীয় অনেক ক্রেতা এখনও বাংলাদেশ ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি এগ্রিমেন্টে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানায়। গত নভেম্বরে ইন্টারন্যাশনাল লেবার রাইটস ফোরাম এমন দাবি করলে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। এক্ষেত্রে তারা দাম বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে। রানা প্লাজা থেকে যখন একের পর এক মৃতদেহ বেরিয়ে আসছিল তখন বাংলাদেশের আরেকটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৮ জন নিহত হয়েছেন।


এখানে শেয়ার বোতাম






পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

All rights reserved © 2021 shirshobindu.com