l

রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন

কামরানকে ১৪ দলের সমর্থন, আরিফকে নাগরিক জোটের

কামরানকে ১৪ দলের সমর্থন, আরিফকে নাগরিক জোটের

এখানে শেয়ার বোতাম

 

 

 

 

 

 

 

 

শীর্ষবিন্দু নিউজ: সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে সমর্থন দিয়েছে ১৪ দল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর ইব্রাহিম স্মৃতি সংসদে অনুষ্ঠিত এক সভায় ১৪ দল তাকে এ সমর্থন জানায়। এখন থেকে কামরানের নির্বাচনী প্রচারণায় ১৪ দলের নেতাকর্মীরা অংশ  নেবেন।
অপরদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী আরিফুল হক চৌধুরীর  সমর্থনে নাগরিক জোট গঠন করা হয়েছে। জোটে মহানগর বিএনপির নেতা ছাড়াও দলটির  সমর্থক বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা রয়েছেন।

সিলেট  আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা এবং স্থানীয় বিশিষ্টজনরা বলেন,  নির্বাচন  সামনে রেখে দুই মেয়র প্রার্থীর পক্ষে দুই শক্তির আত্মপ্রকাশ ঘটলো।

১৪ দলের সভায় কামরানের বিজয় নিশ্চিত করতে ২৭ ওয়ার্ডে দলীয় নেতাকর্মীদের  ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে প্রচারণা চালাতে গিয়ে যাতে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখারও নির্দেশ দেয়া হয়।

সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ানকে সমন্বয়ক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিনকে সদস্য সচিব করে ১৪ দলের সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটিতে ১৪ দলের অর্ন্তভুক্ত সকল রাজনৈতিক দলের জেলা ও মহানগর শাখার সভাপতি ও  সাধারণ সম্পাদককে সদস্য রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের  সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয়  সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের সভাপতিত্বে ও মহানগর  আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিনের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন,  জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান, সাধারণ সম্পাদক  শফিকুর রহমান চৌধুরী এমপি, মহানগরের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা  ন্যাপের সভাপতি সৈয়দ এমএ হান্নান, সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী, জেলা  গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার আরশ আলী, সাধারণ সম্পাদক আরিফ মিয়া,  জেলা জাসদের সভাপতি কলন্দর আলী, মহানগর সভাপতি জাকির আহমদ, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সিকন্দর আলী, আওয়ামী লীগ নেতা  অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম, আজাদুর রহমান আজাদ, রণজিত সরকার ।

অন্যদিকে গত বুধবার রাতে নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে আরিফের সমর্থনে সম্মিলিত  নাগরিক জোট গঠনের লক্ষ্যে এক সভা অনুষ্ঠিত হয় । এতে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও মদন মোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এম আতাউর রহমান পীর।

জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আহমদের পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি এম এ হক।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের  শামীম, সাবেক এমপি আবেদা চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি বদরুজ্জামান  সেলিম, জিয়া ফোরামের সভাপতি প্রকৌশলী আশফাক আহমদ, জেলা বিএনপির  যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, সিলেট চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি  জিয়াউল হক জিয়া, সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আব্দাল মিয়া, ইউপি  চেয়ারম্যান এমরান রববানী, মহানগর বিএনপি নেতা আব্দুল জলিল জিলু, জিয়াউল  মোস্তফা চৌধুরী খুররম, পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশন এর সভাপতি জুবায়ের  আহমদ চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আতাউর রহমান আতা, মিজান আজিজ চৌধুরী সুইট,  মহানগর বিএনপি নেতা এডভোকেট ফয়জুর রহমান চৌধুরী জাহেদ, আব্দুল সালাম নিশি,  হাজী আব্দুল কাইউম, সৈয়দ মকবর আলী, আলাউদ্দিন আহমদ, হাজী মেরাই মিয়া,  বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাংবাদিক আবু তালেব মুরাদ, সিলেট  চেম্বারের পরিচালক এনামুল কুদ্দুস চৌধুরী, মহানগর বিএনপির মহিলা সম্পাদিকা  হাদিয়া চৌধুরী মুন্নি প্রমুখ।

সিসিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেট বিএনপিতে চরম বিরোধ দেখা দেয়। বিএনপির  ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন সিলেট এসে চার মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেও কোন সমাধান করতে পারেননি। তাই বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া চার  মেয়র প্রার্থীকে ঢাকায় ডেকে পাঠান। বৃহস্পতিবার রাত ৮ টায় মেয়রপ্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন খালেদা।

সূত্র জানায় বিএনপির হাইকমান্ড আরিফুল হক চৌধুরীকে মেয়রপ্রার্থী করতে চায়।  ইতোমধ্যেই সিলেটের স্থানীয় বিএনপির নেতারা বিষয়টি অনুমান করেছেন। এ কারণেই  আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে মহানগর বিএনপির নেতারা নাগরিক জোট গঠন করেছেন।

তার বিপরীতে বিএনপির একাংশ এখনও বিরোধিতা করছে। আরিফুল হক চৌধুরীকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায় না তারা।

প্রসঙ্গত,  সিলেটের সুশীল সমাজ, অগ্রগামী জনগণ এবং বিশিষ্টজনরা সিলেটের স্থানীয়  সরকারে পরিবর্তন চায়। তারা নতুন মুখ দেখতে চায়। তাই স্থানীয় রাজনীতিতে অর্থবহ পরিবর্তনের লক্ষ্যে সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে মেয়র নির্বাচনে একজন  প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় ছিলো। এ নিয়ে তারা একাধিক বৈঠকও করেন।  কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাকে প্রার্থী করা হবে তা নির্ধারণ করতে পারেননি। ফলে সুশীল সমাজ এখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। প্রগতিশীল ও মুক্তবুদ্ধি  চর্চায় বিশ্বাসী অংশটি মেয়র কামরানকে সমর্থন দিয়েছেন। অপর অংশটি সমর্থন দিয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরীকে। ২৬ মে মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে তারা দুই প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন।  কেউবা নৈতিকভাবে সমর্থন দেবেন।


এখানে শেয়ার বোতাম






পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

All rights reserved © 2021 shirshobindu.com