l

শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৭:৩৮ অপরাহ্ন

দেশের ক্রান্তিকালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সপরিবারে অবকাশ যাপন

দেশের ক্রান্তিকালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সপরিবারে অবকাশ যাপন

এখানে শেয়ার বোতাম

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: ২০০৫ সালের ৭ই জুলাইয়ের ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলার পর ব্রিটেনের ইতিহাসে আরেক স্বরনীয় ঘটনার মধ্যে মাত্র কয়েকদিন আগেই  ঘটে গেলো স্মরণকালের ভয়াবহ সন্ত্রাসী ঘটনা। উলউয়িচ এলাকায় দিন-দুপুরে খুন করা হলো প্রাণোচ্ছ্বল এক সেনা সদস্য ড্রামার লি রিগবিকে। এ ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বৃটেন যখন এ ধরনের চরম সঙ্কটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সে সময় বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ও কনজারভেটিভ দলের নেতা ডেভিড ক্যামেরন সপরিবারে বৃটেন ছেড়ে সোজা উড়ে গেলেন স্পেনের ইবিজা দ্বীপে। উদ্দেশ্য খানিকটা ফুরফুরে মেজাজে ও বিনোদনের সঙ্গে অবকাশ যাপন। বৃটিশ পত্র-পত্রিকাজুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। নয়নাভিরাম সমুদ্র সৈকতে বসে ক্যামেরন ও তার স্ত্রী কফির কাপে চুমুক দিচ্ছেন, পরিবারের সঙ্গে আনন্দ করছেন এ ধরনের বেশ কিছু ছবি ছাপা হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এ উদাসীন আচরণে রীতিমতো ক্ষুব্ধ বিরোধী দলীয় নেতারা। সাধারণ মানুষও বিস্ময় প্রকাশ করেছে। রীতিমতো টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে ক্যামেরনের অবকাশ যাপনের জন্য এ সময় বেছে নেয়ার বিষয়টি। লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটে কঠোর সমালোচনা চলছে। বিদেশে থাকলেও ক্যামেরন দায়িত্বে রয়েছেন বলে মন্তব্য করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর চাকরি বাঁচাতে মাত্র ১ বছর সময় থাকতে পারে ক্যামেরনের হাতে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন কনজারভেটিভ দলের পেছনের সারির পার্লামেন্ট সদস্য সেন্ট এডমান্ডস। অপর এক পার্লামেন্ট সদস্য ডগলাস কারসওয়েলও অগ্নিবর্ষণ করেছেন।

রিগবি হত্যার মাত্র দুই দিন পর ক্যামেরন সপরিবারে ইবিজায় যান। সে সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে। লেবার পার্টির পার্লামেন্ট সদস্য সারাহ চ্যাম্পিয়ন কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, জনগণ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আরও ভাল কিছু আশা করে। টুইটার, ফেসবুকও ছিল সমালোচনামুখর। অবশ্য ক্যামেরনের পক্ষেও কথা বলেছেন কেউ কেউ। তবে সে সংখ্যা নেহাতই কম। টোরির পার্লামেন্ট সদস্য ন্যাডাইন ডোরিস বলেছেন মাত্র কয়েক দিনের জন্য বাইরে যাওয়ায় তার সমালোচনা করার বিষয়টি হাস্যকর। বরং বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী প্রফুল্লচিত্তে ও সতেজ হয়ে দায়িত্বে ফিরলে সেটা দেশের জন্য আরও ভাল হবে বলে মনে করেন তিনি।

গত শনিবার সকালে সপরিবারে বিমানে যাত্রা করেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী সামান্থা ও তাদের সন্তান ন্যান্সি, এলওয়েন ও ফ্লোরেন্স। এদিকে শোনা যাচ্ছে বৃটিশ পার্লামেন্ট সদস্যদের ৪টি দল ক্যামেরনের ভবিষ্যত নিয়ে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন। সবকিছু মিলিয়ে ক্যামেরনের খুব যে ভাল সময় যাচ্ছে না, সেটা সুস্পষ্ট। এর মধ্যে বৃটেন ছেড়ে ইবিজা দ্বীপে অবকাশ যাপনের সিদ্ধান্ত তাকে আরও বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: ব্রিটিশ মেইল

 


এখানে শেয়ার বোতাম






পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

All rights reserved © 2021 shirshobindu.com