l

সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ১২:৫০ পূর্বাহ্ন

ব্যাংকিং সেক্টরে দুর্নীতি মামলায় জড়াচ্ছেন ব্র্যাক ও প্রাইম ব্যাংকের এমডিসহ অর্ধশত কর্মকর্তা

ব্যাংকিং সেক্টরে দুর্নীতি মামলায় জড়াচ্ছেন ব্র্যাক ও প্রাইম ব্যাংকের এমডিসহ অর্ধশত কর্মকর্তা

এখানে শেয়ার বোতাম

 

 

 

 

 

 

 

 

 

স্বদেশ জুড়ে: বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরে যেন শনীর দশা লেগেছ্। কেলেংকারী. দুর্নীতিসহ অবৈধ সকল কাজ যেস পিছু ছাড়ছে না বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর। হলমার্ক-সোনালী ব্যাংক কেলেঙ্কারির পর ব্যাংকিং সেক্টরের আরেকটি বড় দুর্নীতির মামলা করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। যে মামলায় জড়িয়ে যেতে পারেন ব্র্যাক ব্যাংকসহ একাধিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা (এমডি)। বিসমিল্লাহ গ্রুপের এমডি-চেয়ারম্যান এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ এ মামলার মোট আসামি হতে পারেন অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। মামলার আসামিদের মধ্যে বেশিরভাগই থাকবেন প্রাইম ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা। দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

বিসমিল্লাহ গ্রুপের কর্মকর্তাদের সাথে আলাপে জানা যায়, খাজা সোলায়মান ও নওরীন হাসিব বর্তমানে দুবাইতে রয়েছেন। মামলায় জড়াবেন এই ভয়ে তারা দেশে আসছেন না। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, বিসমিল্লাহ গ্রুপের আলফা টাওয়েলস ২০১২ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত প্রাইম ব্যাংকের মতিঝিল শাখা থেকে ৯২ কোটি ৫৯ লাখ টাকার ৮২টি রপ্তানি বিলের বিপরীতে ২৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ঋণ নেয়। একইভাবে বিসমিল্লাহ টাওয়েলসের ২৭ মে থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত ৮৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকার ৬১টি রপ্তানি বিলের বিপরীতে প্রাইম ব্যাংক ২৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা ঋণ দেয়। নিয়ম অনুসারে পণ্য জাহাজীকরণের পর ১২০ দিনের মধ্যে এই বিলের টাকা দেশে আসার কথা। কিন্তু তা দেশে প্রত্যাবাসন হয়ে আসেনি। সব রপ্তানিই হয়েছে এলসি (ঋণপত্র) নয়, চুক্তির (এক্সপোর্ট বা সেল কন্ট্রাক্ট) বিপরীতে।

দুদক জানায়, দেশের পাঁচটি ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে ঋণ নেয় বিসমিল্লাহ গ্রুপের টেরি টাওয়েল ও আলফা কম্পোজিট টাওয়েলস (তোয়ালে জাতীয় পণ্য) নামের প্রতিষ্ঠান দুটি। এ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হচ্ছেন খাজা সোলেমান আনোয়ার চৌধুরী। চেয়ারম্যান তার স্ত্রী নওরীন হাসিব। এ দম্পতিসহ প্রতিষ্ঠানটির অন্য কয়েকজনও দুদকের মামলায় জড়াচ্ছেন।
দুদকের অনুসন্ধান টিম জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের তলব করলেও দুদকের ডাকে সাড়া দেননি এ দম্পতি। এ দুর্নীতির অভিযোগে এ পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে ৬০ জনের অধিক ব্যক্তিকে। জিজ্ঞাসাবাদ প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রতিবেদন দ্রুত কমিশনে জমা দেয়ার জন্য কাজ করছে অনুসন্ধান দল। রেকর্ডপত্রে যাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে কমিশনে মামলার অনুমোদন চাওয়া হবে। কমিশনের অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।

দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, ক্রেতা ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকপক্ষ বিসমিল্লাহ গ্রুপই। দুদক অনুসন্ধান করে দেখে, এসব চুক্তিতে সরবরাহকারী হিসেবে আলফা কম্পোজিট ও বিসমিল্লাহ টাওয়েলসের নাম রয়েছে। আর আমদানিকারক হিসেবে দুবাইয়ের ব্যাঙ্গলুজ মিডলইস্টের নাম আছে। সরবরাহকারী দুই কোম্পানির পক্ষে কোম্পানির চেয়ারম্যান নওরীন হাবীব স্বাক্ষর করেছেন। আর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর থাকলেও নাম বা সিল দেওয়া নেই। এরই প্রেক্ষিতে চলতি মাসেই মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে দুদকের অনুসন্ধান টিম।

 

 

 

 

 

অনুসন্ধানের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনায় গঠিত অনুসন্ধান টিমের প্রধান ও দুদকের উপ-পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, “
তিনি বলেন, “
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, বিসমিল্লাহ গ্রুপের আলফা টাওয়েলস ২০১২ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত প্রাইম ব্যাংকের মতিঝিল শাখা থেকে ৯২ কোটি ৫৯ লাখ টাকার ৮২টি রপ্তানি বিলের বিপরীতে ২৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ঋণ নেয়। একইভাবে বিসমিল্লাহ টাওয়েলসের ২৭ মে থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত ৮৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকার ৬১টি রপ্তানি বিলের বিপরীতে প্রাইম ব্যাংক ২৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা ঋণ দেয়। নিয়ম অনুসারে পণ্য জাহাজীকরণের পর ১২০ দিনের মধ্যে এই বিলের টাকা দেশে আসার কথা। কিন্তু তা দেশে প্রত্যাবাসন হয়ে আসেনি। সব রপ্তানিই হয়েছে এলসি (ঋণপত্র) নয়, চুক্তির (এক্সপোর্ট বা সেল কন্ট্রাক্ট) বিপরীতে।  দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, ক্রেতা ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকপক্ষ বিসমিল্লাহ গ্রুপই।
দুদক অনুসন্ধান করে দেখে, এসব চুক্তিতে সরবরাহকারী হিসেবে আলফা কম্পোজিট ও বিসমিল্লাহ টাওয়েলসের নাম রয়েছে। আর আমদানিকারক হিসেবে দুবাইয়ের ব্যাঙ্গলুজ মিডলইস্টের নাম আছে। সরবরাহকারী দুই কোম্পানির পক্ষে কোম্পানির চেয়ারম্যান নওরীন হাবীব স্বাক্ষর করেছেন। আর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর থাকলেও নাম বা সিল দেওয়া নেই।
দুদকের অনুসন্ধান টিমের কাছে সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ের ব্যাঙ্গলুজের কিছু তথ্যও হাতে এসেছে। যাতে দেখা যাচ্ছে, খাজা সোলেমান আনোয়ার চৌধুরী এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংক এই ৫৫ কোটি ৪২ লাখ টাকার ঋণকে গুণগতমানে ক্ষতিকর পর্যায়ে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করতে বলেছে প্রাইম ব্যাংককে। আবার বিসমিল্লাহ টাওয়েলস ও আলফা কম্পোজিট টাওয়েলস প্রাইম ব্যাংক থেকে স্বীকৃত বিলের বিপরীতে ১৭৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকার ঋণ সৃষ্টি করে। নির্ধারিত সময়ে তা পরিশোধ না হওয়ায় পরে তা ফোর্সড ঋণ তৈরি করে ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ক্ষেত্রে ফোর্সড ঋণকে পরিশোধের অতিরিক্ত সময় দেওয়ায় এই পুরো অর্থই ক্ষতিজনক পর্যায়ে খেলাপি চিহ্নিত করতে বলেছে। প্রাইম ব্যাংকের গুলশান শাখার মাধ্যমে এ অর্থ জালিয়াতি হয়।
দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব ঘটনায় প্রাইম ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমানসহ (বর্তমানে ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি) ব্যাংকটির কর্মকর্তা ও বিসমিল্লাহ গ্রুপের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরস্পর যোগসাজশে একটি চক্র এ ঋণ জালিয়াতি করে।
এসব অভিযোগে ব্র্যাক ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের (এমডি) এহসানুল হক, ব্যাংক এশিয়ার এমডি মেহমুদ হোসেন, প্রিমিয়ার ব্যাংকের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) রিয়াজুল করিম, আল আরাফাহ ব্যাংকের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) গোলাম রব্বানী, প্রাইম ব্যাংকের শরিয়া বোর্ডের সেক্রেটারি নাসিরুদ্দিন আহমেদ এবং প্রাইম ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা মাহবুবুল আলমকে গত সপ্তাহে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।
বিসমিল্লাহ গ্রুপের দুর্নীতির সময়ে এদের মধ্যে এদের প্রথম দু’জন ওই ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি), তৃতীয়জন সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসইভিপি), চতুর্থজন ডিএমডি, পঞ্চম ও ষষ্ঠ কর্মকর্তা এসইভিপি ও সপ্তম কর্মকর্তা ডিএমডি পদে প্রাইম ব্যাংকে কাজ করতেন।
দুদক জানায়, ঋণ জালিয়াতির সময়কালে এসব ব্যক্তি সেসময় প্রাইম ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন।
এদিকে বিসমিল্লাহ গ্রুপ দুর্নীতির অভিযোগে গত রোববার প্রাইম ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান যে ৯ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা হলেন-মতিঝিল কর্পোরেট শাখার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসভিপি) ও অপারেশন ম্যানেজার মহিউদ্দিন আহমেদ, হেড অব ইন্টারন্যাশনাল ডিভিশনের এসইভিপি মো. হাবিবুর রহমান, প্রধান কার্যালয় সিরিআম ডিভিশনের এসইও মো. কামাল হোসেন, সাবেক ক্রেডিট অফিসার (বর্তমানে ইউসিবিএল ব্যাংকে কর্মরত) এম আই খালেদ, সিআরএম ডিভিশনের এসভিপি মোহাম্মদ জামিল হোসেন, হেড অব এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স ডিভিশনের সাবেক ভিপি (বর্তমানে এক্সিম ব্যাংকে কর্মরত) মো. ফখরুল ইসলাম, এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স ডিভিশনের এসএভিপি এসএম খোরশেদ আলম, সাবেক ভিপি ও সিআরএম এক্সিকিউটিভ (বর্তমানে ইউসিবিএল ব্যাংকে কর্মরত) মো. জাইরুল ইসলাম, সাবেক হেড অব কর্পোরেট ব্যাংকিং ডিভিশনের শাখা প্রধান মো. মোজাম্মেল হোসেন।
সোমবার যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তারা হলেন-  প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসভিপি) ও ফরেন এক্সচেঞ্চের ইনচার্জ ইব্রাহিম হোসেন গাজী, বসুন্ধরা শাখার এসভিপি একেএম জানে আলম, মতিঝিল কর্পোরেট শাখার সাবেক এসভিপি ও অপারেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ তাহেরুজ্জামান (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত), সাবেক এসইভিপি ও হেড অব ক্রেডিট এম সহিদুল ইসলাম (বর্তমানে ইউনাইটেড কমার্সিয়াল ব্যাংকে কর্মরত), হেড অব কর্পোরেট শাখার সাবেক এসইভিপি মো. রফিকুল ইসলাম, সাবেক ফরেন এক্সচেঞ্জ ইনচার্জ মোহাম্মদ ফারুক (বর্তমানে ইউসিবিএলে কর্মরত), মতিঝিল কর্পোরেট শাখার সাবেক ইভিপি ও শাখা প্রধান ইসবাহুল বার চৌধুরী (বর্তমানে সাময়িক অবসরপ্রাপ্ত), আইসিবি দিলকুশা শাখার অপারেশন ম্যানেজার আবু তাহের মো: জাকারিয়া, সাবেক ভিপি ও অপারেশন ম্যানেজার কাজী মুহিবুল ইসলাম (বর্তমানে ইউসিবিএলে কর্মরত), প্রধান কার্যালয় এক্সপোর্ট ফাইন্যান্স ডিভিশনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার (এসইও) আব্দুল্লাহ আল মামুন ও এসভিপি মো: তারিক পারভেজ জুয়েল।
দুদক সূত্র জানায়, বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এদের অনেকেই দুদকের মামলার জালে আটকা পড়বেন।
এদিকে বিসমিল্লাহ গ্রুপের বিদেশে থাকা ছয় কর্মকর্তাদের মধ্যে বিসমিল্লাহ গ্রুপের এমডি ও তার স্ত্রী ছাড়াও গ্রুপের সিনিয়র ম্যানেজার (হিসাব) মো. আবুল হোসেন চৌধুরী এবং কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিনের ঋণ জালিয়াতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার থাকায় মামলার জালে আটকা পড়তে পারেন।
বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঋণ জালিয়াতির ঘটনা অনুসন্ধানে ২৬ ফেব্রুয়ারি পাঁচ সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করে দুদক। দুদকের উপ-পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে এ অনুসন্ধান টিমের অন্য সদস্যরা হলেন- সহকারী উপ-পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম, গুলশান আনোয়ার প্রধান, উপ সহকারী পরিচালক সরদার মঞ্জুর আহমেদ এবং মো. আল-আমিন।


এখানে শেয়ার বোতাম






পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

All rights reserved © 2021 shirshobindu.com