l

সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ১২:৪৩ অপরাহ্ন

ভূমি ইজারা জটিলতায় আটকে গেছে বিমান জেট ফুয়েল ট্যাঙ্ক ও রেলওয়ের সাইডিং এরিয়া কাজ

ভূমি ইজারা জটিলতায় আটকে গেছে বিমান জেট ফুয়েল ট্যাঙ্ক ও রেলওয়ের সাইডিং এরিয়া কাজ

এখানে শেয়ার বোতাম

 

 

 

 

 

 

 

 

স্বদেশ জুড়ে: ভূমি ইজারা নিয়ে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সৃষ্টি করা জটিলতায় আটকে গেছে বিমানবন্দরে জেট ফুয়েল ট্যাঙ্ক ও রেলওয়ের জন্য নির্ধারিত স্থান (সাইডিং) নির্মাণের কাজ। বেবিচক অবিবেচকের মতো কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।

সংশোধিত সময় অনুযায়ী প্রকল্পটি চলতি জুন মাসের মধ্যেই বাস্তবায়িত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জমি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে এখন পর্যন্ত কাজই শুরু করতে পারে নি পদ্মা অয়েল কোম্পানি। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। যা পদ্মা অয়েল নিজস্ব তহবিল থেকে খরচ করবে।   প্রকল্পটির আওতায় বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন একটি রেলওয়ে সাইডিং নির্মিত হবে। সেখান থেকে মাটির নিচ দিয়ে আট ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইন ও তিনটি রিজার্ভ ট্যাঙ্ক নির্মাণ করা হবে। পাইপলাইন যুক্ত হবে পদ্মার এভিয়েশন ডিপোতে। এতে রেলওয়ের ট্যাঙ্ক ওয়াগন দিয়ে চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি উড়োজাহাজের ব্যবহৃত জেট ফুয়েল পৌঁছানো সম্ভব হবে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, প্রকল্পের সময় বেড়ে যাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনজিজিএল প্রকল্পের খরচ বৃদ্ধি করার তাগাদা দিয়েছে। অন্যথায় তার পক্ষে কাজটি করা সম্ভব নয়। এনজিজিএল ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন ও ব্যাংক চার্জসহ চার দফা কারণ উল্লেখ করে এ খরচ বৃদ্ধির তাগাদা দেয়। ঠিকাদারের এ প্রস্তাবের বিষয়ে পদ্মা অয়েল কোম্পানির মতামত চাওয়া হলে পদ্মা জানায়, ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করতে হলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই তারা প্রকল্পের নতুন ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল)করার পক্ষে মতামত দিয়েছে। পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল খায়ের জানান, বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। গত মাসে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই কাজ শুরু করা যাবে। ঠিকাদার চুক্তিমূল্য বাড়িয়ে দেওয়ার আবেদন করেছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।

উড়োজাহাজের তেল সরবরাহ ব্যবস্থা আরো উন্নত করতে গৃহীত এ প্রকল্পটি এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সময় দীর্ঘ হওয়ায় এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রকল্পের বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছেন।  বর্তমানে উড়োজাহাজের জেট ফুয়েল রেলওয়ের ট্যাঙ্ক ওয়াগন দিয়ে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপোতে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ট্যাঙ্কলরি দিয়ে বিমানবন্দরে পদ্মার এভিয়েশন ডিপোতে সরবরাহ করা হয়। ২০১০ সালে এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। কিন্তু জমি নিয়ে বেবিচক ও রেলওয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে কাজ থমকে যায়। পরে ২০১২ সালের ২৪ জুলাই আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় বেবিচক রেললাইনের পূর্ব পাশে জমি দিতে সম্মত হয়। এরপরও বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি বেবিচক।

বেবিচককে তাগাদা দেওয়া হলে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ইজারা প্রদানের জন্য রাষ্ট্রীয় অয়েল কোম্পানি পদ্মাকে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে এক লাখ ৬১ হাজার ৫৬০ বর্গফূট জমি বর্গফুট বার্ষিক ১০০ টাকা হারে দাবি করে বেবিচক, যা প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে। পত্র প্রেরণের ১৫ দিনের মধ্যে ইজারা মূল্য এককালীন পরিশোধ করতে বলা হয়। অন্যথায় ইজারা বাতিল বলে গণ্য হবে। বেবিচকের প্রস্তাব ২২ মে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় উপস্থাপন করা হয়। সভায় বেবিচকের প্রস্তাব গৃহীত সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংর্ঘষিক বলে মতামত দেওয়া হয়। যে কারণে আবারও প্রকল্পটি ঝুলে যায়। নিজেদের স্বার্থেই জমি দিতে বেবিচকের সম্মত হওয়া জরুরি বলে বৈঠকে মতামত দেওয়া হয়।


এখানে শেয়ার বোতাম






পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

All rights reserved © 2021 shirshobindu.com