l

বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ০৩:১১ অপরাহ্ন

হুমায়ূনের সহযাত্রী

হুমায়ূনের সহযাত্রী

এখানে শেয়ার বোতাম

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে নয় রাত

মাজহারুল ইসলাম

প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ অন্যপ্রকাশ

দাম: ৩০০ টাকা

মাজহারুল ইসলামকে মাঝেমধ্যে হুমায়ূন আহমেদের ছায়াসঙ্গী বলেই আমার মনে হতো। হুমায়ূনের নিজের ঘরেও অনেকটা সময় মাজহার তাঁকে সঙ্গ দিতেন, সন্ধ্যা ও রাতের আড্ডায়, যেকোনো প্রয়োজনের মুহূর্তে। ধানমন্ডির দখিন হাওয়ায় তাঁরা থাকতেন পাশাপাশি ফ্ল্যাটে। ফ্ল্যাট দুটোর দরজা দিনমান খোলা থাকত। দরজায় কড়া নেড়ে তাই তাঁর স্যারের ফ্ল্যাটে কখনো মাজহারের ঢুকতে হতো না। মাজহারকে একটা বইয়ের উৎসর্গপত্রে ‘পুত্রসম’ বলে উল্লেখ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। আর মাজহার যখন ‘পিতৃসম’ হুমায়ূনকে একটি বই উৎসর্গ করলেন, তা দেখার জন্য বেঁচে রইলেন না তিনি। তবে, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই পুত্রসমের সেবা তিনি পেয়েছেন। যে বইটি পিতৃসমকে উৎসর্গ করেছেন মাজহার, তার নাম হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে নয় রাত। যাঁরা অন্যের জন্য মিষ্টি বানান, তারা সে মিষ্টি খান না, অন্যের জন্য যাঁরা ছবি আঁকেন, নিজের ঘরের দেয়ালে সচরাচর তাঁদের নিজেদের ছবি থাকে না। মাজহার অন্যের বই প্রকাশ করেন, কিন্তু নিজে যে লেখেন, ভালো লিখতে পারেন, সে কথাটা হয়তো ভুলে গিয়েছিলেন। হুমায়ূন আহমদেকে নিয়ে তাঁর স্মৃতিকাতরতা তাঁকে অন্তত লিখতে বাধ্য করল। বইটি ইউরোপের তিনটি দেশে—জার্মানি, ফ্রান্স আর ইতালিতে নয় দিনের তাঁদের সফর নিয়ে। হুমায়ূন আহমেদের পায়ের নিচে ছিল সরষে, প্রাণে ছিল তাঁর রাজ্যের বিলাস। কিন্তু সদলবলে ও সপরিবারে ভ্রমণেই ছিল তাঁর বেশি আগ্রহ। কিন্তু ২০০২ সালে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুটের বইমেলা আয়োজন উপলক্ষে সেখানকার জার্মান-বাংলা সোসাইটিও শুধু বাংলা বইয়ের একটি মেলা আয়োজন করে। সেটি উদ্বোধনে দাওয়াত পেয়ে সমাজহার জার্মানিতে যান হুমায়ূন। যেতে চাননি, তার পরও গেলেন হয়তো মাজহারকে তাঁর স্মৃতির বাক্সে কিছু অমূল্য সঞ্চয় ভরে দিতে। শেঙ্গেন ভিসার গুণে এক ঢিলে তিন পাখি মারা হলো। তিনটি দেশ ঘোরা হলো। কিন্তু ভ্রমণবৃত্তান্তের নামে নয় রাত কেন, নয় দিন কেন নয়, এ রকম প্রশ্ন উঠতে পারে। আমার মনে হয়েছে, দিনগুলো হুমায়ূন আহমেদ রাখতেন তাঁর নিজের অধিকারে, তাঁর লেখালেখি আর সৃষ্টিশীল নানা কাজে। সন্ধ্যা হলেই তিনি আড্ডায় বসতেন এবং তখন তিনি কখনো ওল্ড ফুলস ক্লাবের, কখনো অন্য বন্ধুদের। আড্ডায় তিনি ছিলেন দিলখোলা, হাসিপরিহাসপ্রিয় একজন মানুষ। সেই মানুষকে শ্রদ্ধা করতেন মাজহার এবং সেই মানুষকেই তিনি বেশি করে পেয়েছেন। তাঁর ভ্রমণকাহিনিতে মাজহার যে হুমায়ূনকে তুলে ধরেন, তিনি ভুলোমন ও খেয়ালিচিত্তের, স্পষ্টভাষী, নিসর্গ, সবুজপ্রিয় এবং মাঝেমধ্যে কোনো কোনো ব্যাপারে কঠিন। নির্বোধদের সঙ্গ তাঁকে পীড়া দেয়, এ রকম একটি উক্তি তিনি করেছিলেন এক সাক্ষাৎকারে, এবং সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী তাঁকে এ জন্য উদ্ধত চরিত্রের বলে ভেবেছিলেন। কিন্তু এটি তাঁর ঔদ্ধত্য নয়, বরং নিজস্ব পছন্দের একটি বিষয় ছিল নয় রাত বইটিতেও তাঁকে সেই চরিত্রে দেখা যায়। বইটি আসলে ইউরোপের তিন দেশ ভ্রমণ নিয়ে নয়, বইটি মূলত হুমায়ূনের সঙ্গে কাটানো মাজহারের নয়টি দিনের স্মৃতি নিয়ে। বিষয়বস্তু হুমায়ূন: প্রেক্ষাপটটি ওই তিন দেশ, এই যা। এ জন্য এ তিন দেশের ভূবৈচিত্র্য, ইতিহাস, স্থাপত্য, মিডিয়া ইত্যাদি বিষয়ে যাঁরা জানতে আগ্রহী, তাঁরা এটি পড়লে উপকৃত হবেন না; তবে যাঁরা হুমায়ূন আহমেদকে আরও জানতে চান, তাঁরা পড়তে পারেন। হুমায়ূন তো চলেই গেলেন। এখন নয় রাত-এর মতো মনোগ্রাহী বইগুলোর পাতায় তাঁকে আমরা মাঝেমধ্যে পাব। মাজহারের ভাষা ঝরঝরে, বর্ণনায় জড়তা নেই, নয় রাত কেটেও যায় তরতর করে। এক বসাতেই পড়ে ফেলার মতো বই।

 


এখানে শেয়ার বোতাম






পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

All rights reserved © 2021 shirshobindu.com