l

শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১০:১৯ পূর্বাহ্ন

বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী হাতে নিয়ে কাঠগড়ায় সাকা চৌধুরী

বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী হাতে নিয়ে কাঠগড়ায় সাকা চৌধুরী

এখানে শেয়ার বোতাম

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শীর্ষবিন্দু নিউজ: সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেয়ার সময় বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর হাতে ছিলো ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’। যুদ্ধাপরাধের মামলায় নিজের পক্ষে প্রথম সাফাই সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেয়া শুরু করেছেন বিএনপির যদ্ধপরাধ মামলায় আটক এই নেতা।

ট্রাইব্যুনাল-১ এ বেলা সাড়ে ১১টায় সাক্ষ্য দেয়া শুরু করেন সালাউদ্দিন কাদের। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হকের দুই সদস্যের বেঞ্চ তার সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। ইংরেজিতে দেয়া জবানবন্দির শুরুতে সালাউদ্দিন কাদের এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তার বংশ পরিচয় উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে উঠে আসে তার প্র-প্র-পিতামহী থেকে শুরু করে তার নাতি-নাতনিদের কথাও। আসামির কাঠগড়া থেকে নেমে সাক্ষীর কাঠগড়ায় ওঠার আগে গণহত্যা-অগ্নিসংযোগ-লুটপাটে অভিযুক্ত সালাউদ্দিন কাদের প্রসিকিউশনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমি ইংরেজিতে জবানবন্দি পেশ করি, আর তোমরা তরজমা করতে থাকো।

সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আগে সালাউদ্দিন কাদেরের সঙ্গে চারজন আইনজীবীর দেখা করার জন্য আবেদনের শুনানি করেন তার আইনজীবী ফখরুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনাল দুই আইনজীবীকে মঙ্গলবার সকালে আদালত ভবনে এক ঘণ্টা আসামির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেয়। সকালে আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরপরই সাফাই সাক্ষীর সংখ্যা বাড়ানোর আবেদনের ওপর শুনানি করেন সালাউদ্দিন কাদেরের আইনজীবী ফখরুল ইসলাম।

সাক্ষ্য দেয়া শুরুর আগে হাতে থাকা কিছু নথি দেখিয়ে ট্রাইব্যুনালকে সালাউদ্দিন কাদের বলেন, আমার হাতে থাকা নথিপত্রগুলোতে ডিফেন্স সাক্ষী হিসেবে আমাকে সহযোগিতা করবে। মনে করবেন না যেন জবানবন্দি পেশ করার জন্য এটি কোনো নোট এনেছি। জবানবন্দির মাঝে প্রয়োজনে আমি সাপোর্ট হিসেবে দাখিল করবো। এর বিরোধিতা করে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, আর কোনো সাক্ষীকে এই সুযোগ না দেয়া হলেও তাকে দেয়া হচ্ছে। সালাউদ্দিন কাদের তখন বলে উঠেন, আমি যে জবানবন্দি দেবো, তার সপক্ষে রেফারেন্স হিসেবে কি কোনো ডকুমেন্ট দিতে পারবো না। হাতে থাকা বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী দেখিয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী দিতে চাই, এটাও কি কবিরা গুনাহ হবে। এটাও কি দিতে পারবো না?

জবানবন্দিতে বিএনপি নেতা বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রের প্রথম অনুচ্ছেদেই বলা হয়েছে যে দ্বিজাতি তত্ত্ব হলো বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের প্রাথমিক কারণ। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ২৮৮ পৃষ্ঠার অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থে এই দ্বিজাতি তত্ত্বকেই প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘ ত্যাগ, বাধা-বিপত্তি ও উত্থান-পতনের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে, যার প্রতি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দ্বিজাতি তত্ত্ব উঠিয়ে দিয়ে একজাতি প্রতিষ্ঠা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, যা এদেশের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী।

এ সময় তিনি কাঠকড়ায় দাড়িয়ে বলেন, আমি বিশ্বাস করি না যে এ ধরনের প্রস্তাব বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি ও আদর্শের সাক্ষর বহন করে; বরং এটি বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার এবং তার রাজনৈতিক প্রশাসনের রাজনীতি। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর দেশে প্রত্যাবর্তনের তিন মাসের মধ্যে ভারতের সৈন্যদের ফেরত পাঠানো ‘বিরাট অর্জন’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তখন আসামির কাঠগড়ায় থাকা সালাউদ্দিন কাদের বলেন, “আমার সাফাই সাক্ষীদের মধ্যে অনেকে দেশে-বিদেশে অবস্থান করছেন। বিচারপতিও রয়েছেন। তাদের সঙ্গে পরামর্শ করার জন্য, আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পরোয়ানা জারির জন্য সময় প্রয়োজন। তাই আমাকে সময় দেয়া দরকার। তবে এই আবেদনের বিরোধিতা করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম। পরে তাকে এজলাস কক্ষের আসামির কাঠগড়া থেকে সাক্ষীর কাঠগড়ায় আসার জন্য বলেন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

ট্রাইব্যুনালের নির্ধারণ করে দেয়া পাঁচজন সাফাই সাক্ষীর মধ্যে প্রথম সাক্ষ্য দেয়ার আগে সাধারণ সাক্ষীর মতো শপথ পাঠ করেন সালাউদ্দিন কাদের। প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন এতে আপত্তি তুলে বলেন, আসামি নিজে আদালতে জবানবন্দি দিলে তার শপথ গ্রহণের নিয়ম নেই। এর পরিপ্রেক্ষিতে শপথ প্রত্যাহার করে নেন আসামি সালাউদ্দিন কাদের। সাক্ষীর কাঠগড়ায় উঠে তিনি তার সামনে কম্পিউটার মনিটর রাখার আবেদন করলে তার বিরোধিতা করেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও সুলতান মাহমুদ। এসময় সালাউদ্দিন কাদের বলেন, আপনারা পড়লেই হবে না আমাকেও পড়তে হবে।

গত ১৩ জুন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ২০১২ সালের ১৪ মে থেকে শেষ পর্যন্ত ৪১ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়। এরপর সাফাই সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য ১৭ জুন দিন ধার্য করা হয়। সাফাই সাক্ষীর তালিকায় হাই কোর্টের বিচারপতি, শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদসহ ১ হাজার ১৫৩ জনের নাম ছিলো। এই তালিকা থেকে পাঁচজনকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপনের অনুমতি দেয় ট্রাইব্যুনাল।

 


এখানে শেয়ার বোতাম






পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

All rights reserved © 2021 shirshobindu.com