l

রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১২:৫৮ অপরাহ্ন

মুজাহিদের ফাঁসির আদেশ

মুজাহিদের ফাঁসির আদেশ

এখানে শেয়ার বোতাম

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শীর্ষবিন্দু নিউজ: মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বুধবার জনাকীর্ণ আদালতে মুক্তিযুদ্ধকালে দখলদার পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগী বদর বাহিনীর প্রধান আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

মুজাহিদের মামলার রায়ের শেষ অংশ অর্থাৎ মূল রায়ে মুজাহিদের বিরুদ্ধে এ শাস্তির আদেশ দেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীন। এর আগে রায়ের দ্বিতীয় অংশ পাঠ করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক প্যানেলের সদস্য বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়া। রায়ের প্রথম অংশ পড়া শেষ করেন বিচারক প্যানেলের অন্য সদস্য শাহিনুর ইসলাম। বেলা ১১টা ২ মিনিট থেকে পৌণে একটা পর্যন্ত রায় পাঠ করা হয়। ২০৯ পৃষ্ঠার রায়ে মোট ৬৫৮টি প্যারাগ্রাফ রয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ পৃষ্ঠা পড়ে শোনান বিচারকরা।

সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের করা হয় মুজাহিদকে। এরপর একটি সাদা মাইক্রোবাসযোগে তাকে আনা হয় ট্রাইব্যুনালে। ৯টা ৪০ মিনিটে ট্রাইব্যুনালে এনে তাকে রাখা হয় ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায়। পরে তাকে নেওয়া হয় এজলাসকক্ষে।  সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে আসামির কাঠগড়ায় তোলা হয় আসামি মুজাহিদকে। তার পরনে ছিল সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা। সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে ১২ মিনিটের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীন। ১০টা ৪৮ মিনিটে বিচারকরা আসন নেন এজলাসকক্ষে।

 

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২ জানুয়ারি, ফরিদপুর জেলার পশ্চিম খাবাসপুরে। ১৯৬৪ সালে মাধ্যমিক পাসের পর তিনি ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে ভর্তি হন এবং উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্র থাকাকালেই জামায়াতের তখনকার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘে যোগ দেন। ১৯৬৮ সালে তাকে সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। রাজেন্দ্র কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করে মুজাহিদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ করেন বলে তার আইনজীবীর ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে বাংলার মানুষের স্বাধীনতার সংগ্রাম যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, সেই বছর জানুয়ারিতে ইসলামী ছাত্রসংঘের ঢাকা জেলা শাখার সভাপতি হন মুজাহিদ। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর জুলাই মাসে সংগঠনের পূর্ব পাকিস্তান শাখার সেক্রেটারির এবং এরপর প্রাদেশিক সভাপতির দায়িত্ব পান। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতায় ইসলামী ছাত্রসংঘের সদস্যদের নিয়ে আলবদর বাহিনী গঠিত হলে ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত  তার নেতৃত্ব দেন ইসলামী ছাত্রসংঘের তখনকার সভাপতি ও জামায়াতের বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামী। অক্টোবরে ওই বাহিনীর প্রধান হন মুজাহিদ।

স্বাধীনতার পর মুজাহিদ জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ১৯৮২ সালে কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য হন। ১৯৮৯ থেকে দুই বছর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালনের পর ২০০০ সালে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল হন তিনি। কোনো নির্বাচনে জয়ী হতে না পারলেও বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান মুজাহিদ। জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামের পরিচালনা পর্ষদেরও প্রধান তিনি। যুদ্ধাপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ২০১০ সালের মার্চে জামায়াতে ইসলামীর এক সংবাদ সম্মেলনে মুজাহিদ বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করেছে। কিন্তু মানবতাবিরোধী অপরাধ বা যুদ্ধাপরাধের মতো কোনো ধরনের অপরাধে জামায়াত নেতারা জড়িত ছিলেন না।

অথচ তার নেতৃত্বে আলবদর বাহিনী যুদ্ধের মধ্যে ফরিদপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হত্যা, অপহরণ, লুটপাটের মতো ব্যাপক মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড চালায়। এমনকি ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের প্রস্তুতির সময়ও বাহিনী নিয়ে আত্মসমর্পণ না করার সিদ্ধান্ত নেন মুজাহিদ। একাত্তরে তার কর্মকাণ্ডের ঘনিষ্ঠ সহযোগী পলাতক আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারকে ইতোমধ্যে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

 

রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি দেখতে এখানে ক্লিক করুন (.pdf)

 


এখানে শেয়ার বোতাম






পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

All rights reserved © 2021 shirshobindu.com