l

মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন

ব্রিটেনে বাংলাদেশি ব্যাংক বন্ধ

ব্রিটেনে বাংলাদেশি ব্যাংক বন্ধ

এখানে শেয়ার বোতাম

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শীর্ষবিন্দু নিউজ: ব্রিটেনে বাংলাদেশি বেসরকারি ব্যাংকগুলোর এক্সচেঞ্জ হাউসের ব্যংক হিসাব বন্ধ করেই দিতে হলো। অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের ঝুঁকির অভিযোগে ১১টি বেসরকারি ব্যাংককে তাদের এক্সচেঞ্জ হাউস বন্ধ করে দিতে বার্কলেস ব্যাংক তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা এতে বাংলাদেশী ব্যাংকের এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো যারা ব্রিটেনে তাদের শাখা খুলে ছিলো। তারা ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে।

জানা যায়, গত ১০ জুলাই থেকে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কয়েকটির জন্য ১মাস সময় বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে করে ব্রিটেনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিরও নতুন করে খানিকটা সংকট তৈরি হবে। সূত্র মতে, মূলত দেশটির সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের সিদ্ধান্তে অটল। আর তাই এর বাইরে গিয়ে বাংলাদেশি কোনো বেসরকারি ব্যাংকের সাথে কোনো ধরনের ব্যাংকিং করবে না দেশটির কোনো ব্যাংক। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন করে আর কোনো ব্যাংককে ব্রিটেনে এক্সচেঞ্জ হাউস খুলতে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কারণ সেটি ব্রিটেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এবং সরকারের যথাযথ অনুমোদন নিয়ে পুরোপুরিভাবে ব্যাংকিং চালাচ্ছে। এর বাইরে বেসরকারি এক্সিম ব্যাংক নিজের উদ্যোগে বিকল্প ব্যাংক খুঁজে নিয়েছে। এর বাইরে আর ৪/৫টি ব্যাংক হয়তো কার্যক্রম চালু রাখতে পারবে।

সূত্র মতে জানা যায়, কার্যকর পদক্ষেপের অভাবেই ব্রিটেনে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম গুটিয়ে ফেলত হলো। তবে এই উদ্যোগ থেকে বার্কলেসকে সরে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পার্লামেন্ট সদস্য রুশনারা আলী। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় একটি নিবন্ধে তিনি বলেছেন, এরই মধ্যে লেবার পার্টির ৪৫ জন এমপি এবং আমি চিঠি দিয়ে বার্কলেসকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছি। আমরা বার্কলেসকে বলেছি, অর্থ প্রেরণকারী কোম্পানিগুলোকে কিছুটা সময় দেওয়ার জন্য, যাতে এই সময়ের মধ্যে সরকার ও নজরদারি কর্তৃপক্ষগুলো এ ব্যবসাটি টিকিয়ে রাখার জন্য উপায় খুঁজে বের করার সুযোগ পায়। রুশনারা তার নিবন্ধে আরো লেখেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে ৭০ শতাংশ অর্থ প্রেরণকারী এজেন্ট দারুণ ক্ষতির শিকার হবে। এর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে হাজার হাজার পরিবারের ওপর।

সংশ্লিষ্টদের সূত্র মতে, অর্থ পাচারের ঝুঁকির কথা জানিয়েছে সেদেশটির কোনো ব্যাংক আর বাংলাদেশের কোনো ব্যাংকের হিসাব রাখতে চাইছে না। এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা রেমিটেন্স পাঠানোর বৈধ পথ বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে হুন্ডির মাধ্যমে তারা দেশে টাকা পাঠাতে বাধ্য হবে। এতে করে দেশে জঙ্গি ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং অর্থ পাচার বাড়বে ।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বর্তমানে সোনালী ব্যাংকসহ, আইএফআইসি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, সাউথ ইস্ট ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংকসহ ১৭টি ব্যাংকের কার্যক্রম রয়েছে। তবে আলোচনা করে হয়তো বড় জোড় ৫ থেকে ৭টি ব্যাংক তাদের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পেতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তরফ থেকে খুব বেশি কিছু করার নেই। আমরা চিঠিও দিতে পারি না। সেখানে আমাদের এক্সচেঞ্জ হাউস অতিরিক্ত হয়ে গিয়েছিলো। হয়তো কমিয়ে কয়েকটার ব্যবসা টিকিয়ে রাখা যেতে পারে।

 

 


এখানে শেয়ার বোতাম






পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

All rights reserved © 2021 shirshobindu.com