l

বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন

নির্বাচন সামনেই তাই আস্থা অর্জনে ভারতের সঙ্গে তিস্তা-ছিটমহল চুক্তিতে মরিয়া আওয়ামী সরকার

নির্বাচন সামনেই তাই আস্থা অর্জনে ভারতের সঙ্গে তিস্তা-ছিটমহল চুক্তিতে মরিয়া আওয়ামী সরকার

এখানে শেয়ার বোতাম

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শীর্ষবিন্দু নিউজ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির নয়াদিল্লির সফর একাধিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ ভাবছে ভারত। ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, তার সরকার আগামী মাসে ভারতীয় পার্লামেন্টে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের বিল পাসের অপেক্ষায় রয়েছে।

বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া দীপু মনির তিন দিনের এ সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশেরই বর্তমান সরকারের মেয়াদ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তারা গুরুত্বপূর্ণ কিছু দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করার জন্য চূড়ান্ত সম্ভাবনাগুলো দেখছে। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো এ রিপোর্ট করেছে। দীপু মনির সফরের মূল বিষয় হচ্ছে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন এবং ছিটমহল বিনিময় চুক্তি ত্বরান্বিত করা। একই সঙ্গে আগামী সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর বিষয়ক পরিকল্পনার সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া দীপু মনির উদ্দেশ্য।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৭৪ সালে স্বাক্ষরিত স্থলসীমান্ত চুক্তি এবং ২০১১ সালে সই হওয়া এ সংক্রান্ত প্রটোকল বাস্তবায়ন করতে হলে ভারতের সংবিধান সংশোধন করতে হবে। এ লক্ষ্যে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট সরকার এর আগে পার্লামেন্টে বিল তোলার উদ্যোগ নিলেও বিষয়টি আটকে আছে প্রধান বিরোধী দল বিজেপির বিরোধিতার কারণে। কোনো বিল পাস করতে হলে ভারতীয় পার্লামেন্টের উভয়কক্ষ লোকসভা ও রাজ্যসভায় অন্তত দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন দরকার, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট সরকারের যা নেই।

নির্বাচনের ছয় মাসেরও কম সময় বাকি থাকতে এই অমীমাংসিত বিষয়টি নিয়ে বিজেপির সঙ্গে আলোচনা করতেই দিল্লি গেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আগামী ৫ অগাস্ট শুরু হতে যাওয়া রাজ্যসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনে আবারো বিলটি তুলবে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের দল কংগ্রেস। চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অস্বস্তিও প্রকাশ পেয়েছে দীপু মনির কথায়।

দীপু মনি বলেন, যদি বিলটি পাস না হয় আর তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি যদি না এগোয়, তাহলে আগামী নির্বাচনে বিষয়গুলো নিশ্চিতভাবেই বড় ধরনের ইস্যু হয়ে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, জনগণ যখন ভোট দেবে তখন তারা এ বিষয়গুলো অবশ্যই মনে রাখবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, সীমান্ত নিয়ে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান না হওয়ায় মঝেমধ্যেই উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে এবং কখনো কখনো তা রক্তপাতের মতো ঘটনায় গড়াচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ ও ভারতের রাজ্যসভায় বিরোধী দলীয় নেতা বিজেপির অরুণ জেটলির সঙ্গে বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে শুক্রবার দিল্লিতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি নিশ্চিত, অনেকদিন ধরে ঝুল থাকা এই চুক্তি বাস্তবায়নের গুরুত্ব সব দলই বুঝতে পারবে।

বাংলাদেশি ছিটমহলগুলোতে জনসংখ্যা রয়েছে প্রায় ১৪ হাজার এবং ভারতীয় ছিটমহলগুলোতে জনসংখ্যা রয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার। স্থলসীমান্ত চুক্তি ও প্রটোকলের আওতায় ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের মোট সাত হাজার ১১০ একর আয়তনের ৫১টি এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের মোট ১৭ হাজার ১৬০ একর আয়তনের ১১১টি ছিটমহল বিনিময়ের কথা রয়েছে, যা নিয়ে বিজেপির আপত্তি। দলটি বলছে, ছিটমহল বিনিময় হলে যে পরিমাণ জমি হাতবদল হবে, তাতে ভারত প্রায় ৭ হাজার একর বেশি জমি হারাবে।

২০১১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের যে সফরে ঢাকায় স্থল সীমান্ত চুক্তির প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়, ওই সময়ই তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি হওয়ার কথা ছিল দুই দেশের মধ্যে। সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হলেও শেষ মুহূর্তে চুক্তি আটকে যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিরোধিতার কারণে।

ধারণা করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ওই সফরের সময় বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা আসবে। এই বিষয়টি দুই দেশের জন্য ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে, যাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে পারস্পরিক কল্যাণ নিয়ে আসবে এবং অপরিবর্তনীয় প্রভাব রাখবে।


এখানে শেয়ার বোতাম






পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

All rights reserved © 2021 shirshobindu.com