l

শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০২:৫৭ অপরাহ্ন

আদিলুরের মুক্তি নইলে কঠোর আন্দোলন: হেফাজতে ইসলাম

আদিলুরের মুক্তি নইলে কঠোর আন্দোলন: হেফাজতে ইসলাম

এখানে শেয়ার বোতাম

 

 

 

 

 

 

 

 

 

মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর সেক্রেটারি আদিলুর রহমানের মুক্তি দাবি করেছে সামপ্রতিক সময়ের আলোচিত সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। অন্যথায় লাগাতার কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

এক বিবৃতিতে বলেছেন, তাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সরকার ৫ই মে শাপলা চত্বরের গণহত্যার তথ্য-প্রমাণ গায়েব করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সাহসী ও শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর সেক্রেটারি, সাবেক এটর্নি জেনারেল আদিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে সরকার একদিকে ৫ই মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে পরিচালিত গণহত্যার তথ্য-উপাত্ত গায়েব করার ব্যর্থ চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে একের পর এক ভিন্নমতের সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেয়ার পর এখন কার্যত মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে নিষিদ্ধ করার ঘৃণ্য পথে হাঁটছে। আমরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি, অধিকার কর্তৃক প্রকাশিত শাপলা চত্বর গণহত্যায় নিহতদের তালিকা এক শ’ ভাগ সত্য বরং তা নিহতদের সংখ্যার কিছু মাত্র। প্রকৃতপক্ষে নিহতদের সংখ্যা অনেক বেশি।

অধিকারের দেয়া তালিকা প্রকাশিত হওয়ার আগেও আল-জাজিরা, রাশিয়ান সরকারি টিভি চ্যানেল ও মালয়েশিয়ান টেলিভিশনসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্টেড মিডিয়ায় শাপলা চত্বরের গণহত্যা সম্পর্কে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। তারা অত্যন্ত জোর দিয়ে দাবি করেছে শাপলা চত্বরের নিহতের সংখ্যার সঙ্গে সরকারের দাবির কোন মিল নেই।

এছাড়াও দেশ-বিদেশের বহু মানবাধিকার সংগঠন এ হত্যাকাণ্ডে ব্যাপক লোক নিহত হয়েছে মর্মে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেদিন সরকার বিদ্যুৎ বিভিন্ন করে রাতের আঁধারে মিডিয়াকর্মী ও সাংবাদিকদের সরিয়ে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালিয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলের ভিডিও দৃশ্য সরাসরি সমপ্রচারের কারণে দু’টি টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দেয়ার ফলে শাপলা চত্বরের গণহত্যা সম্পর্কে দেশ-বিদেশের মানবাধিকার সংস্থা, গণমাধ্যম ও সচেতন বিবেকবান মানুষের সন্দেহ স্বাভাবিকভাবেই ঘনীভূত হয়েছে এবং সরকারের মিথ্যাচারকে গোটা বিশ্ব প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশের অভ্যন্তরে মানবাধিকার কর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে, সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করে কিংবা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ওপর স্বৈরাচারী কায়দা চাপ সৃষ্টি করে হেফাজতে ইসলামের ওপর চালানো গণহত্যার বাস্তব তথ্য গায়েব করা যাবে না।

আমরা অবিলম্বে অধিকার-এর সেক্রেটারি আদিলুর রহমানের মুক্তি চাই। তার ওপর কোন ধরনের শারীরিক মানসিক নির্যাতনের পরিণাম সরকারের জন্য অশুভ পরিণতি ডেকে আনবে। নবীপ্রেমিক জনতার প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শনের কারণে বিভিন্ন ব্যক্তি, সংগঠন ও আলিম-ওলামার বিরুদ্ধে জেল-জুলুমের পথ অবলম্বন করে সরকার হেফাজতে ইসলামের পুনর্জাগরণ ঠেকানোর অপকৌশল নিয়েছে। কোন অত্যাচার, নির্যাতন ও দমন-পীড়ন নবীপ্রেমিক জনতার আন্দোলনকে বানচাল করতে পারবে না। মুসলমানদের কাছে জীবনের চেয়ে শাহাদত অধিকতর প্রিয় ও তাৎপর্যপূর্ণ।

বিবৃতিদাতারা হলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর শাহ্‌ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, আমীরে শরীয়ত শাহ আহমদুল্লাহ আশরাফ, নায়েবে আমীর মাওলানা নুর হোসাইন কাসেমী, নায়েবে আমীর মাওলানা শামসুল আলম, মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী, মাওলানা আবদুল মালেক হালিম ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। হেফাজত নেতারা অপর এক বিবৃতিতে মিশরে গণহত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

তারা বলেন, সেখানে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনরত লাখ লাখ নিরস্ত্র মানুষের ওপর সামরিক জান্তার গণহত্যায় আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর নিষ্ক্রিয় ভূমিকা দুরভিসন্ধিমূলক। বিশেষ করে দেশটির রাবেয়া আদাবিয়া স্কোয়ার, ইস্কান্দরিয়াসহ শ’ শ’ মাইল বিস্তৃত রাজপথে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত ইখওয়ানুল মুসলিমীন তথা মুসলিম ব্রাদারহুডের লাখ লাখ সমর্থকের ওপর সমপ্রতি সামরিক বাহিনী তৃতীয়বারের মতো সবচেয়ে ভয়াবহ গণহত্যা চালিয়েছে, আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

প্রকৃতপক্ষে কোন ভাষাতে এ নৃশংস বর্বতার যথাযথ নিন্দা ও প্রতিবাদ অভিব্যক্ত করা সম্ভবপর নয়। আমরা মিশরীয় সামরিক বাহিনীর হাতে নিহত বিপুল সংখ্যক শহীদের রূহের মাগফিরাত, প্রশান্তি ও মহান আল্লাহর কাছে তাদের সুমহান মর্যাদাপ্রাপ্তি কামনা করছি। যারা মুসলমানদের বুকে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে, শ’ শ’ মানুষ লাশ পুড়িয়ে ফেলেছে, আশ্রয় নেয়া মুসল্লিদের হত্যার উদ্দেশে আল্লাহর ঘর মসজিদ জ্বালিয়ে দিয়েছে, তারা পৃথিবীর নিকৃষ্ট ও জঘন্য হায়েনা। তাদের ধ্বংস ও পতন অনিবার্য, চলমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে ইসলামের বিজয় সন্নিকট। শহীদ ও আহত হাজার হাজার মুসলমান আমাদেরই ঈমানি ভাই। গোটা পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে বসবসাসকারী, যে কোন ভাষার মুসলমান পরস্পরে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ।

বিশ্বের কোন মুসলমান পশ্চিমা মদতপুষ্ট মিশরীয় সেক্যুলার সেনাবাহিনীর এ বর্বর গণহত্যা কোন দিন মেনে নেবে না। আমরা অত্যন্ত বিস্ময় ও বেদনার সঙ্গে লক্ষ্য করছি, জাতিসংঘ, আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বিশ্বসংস্থা এবং ওআইসি ও আরব লীগের মতো বৈশ্বিক সংগঠন মিশরের অবৈধ এ সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে এখনও কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে লোকদেখানো বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছে।


এখানে শেয়ার বোতাম






পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

All rights reserved © 2021 shirshobindu.com