l

রবিবার, ০৭ মার্চ ২০২১, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন

নয়া পথে খালেদাও

নয়া পথে খালেদাও

এখানে শেয়ার বোতাম

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সাজেদুল হক: শেখ হাসিনার অচেনা পথ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে অনেক। কিন্তু খালেদা জিয়াও যে নতুন পথে হাটছেন তা হয়তো খেয়ালই করছেন না অনেকে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী। ভিনদেশি মিডিয়ায় তাদের পরিচয় ব্যাটলিং বেগমস। সমালোচকরা বলছেন, শেখ হাসিনা নির্বাচনের পথে হাঁটছেন না। এরইমধ্যে তিনি তার অবস্থান নিশ্চিতও করেছেন। বলেছেন, সংবিধানের বাইরে এক চুলও নড়বেন না। চুল নিয়ে দুই নেত্রীর মধ্যে এক দফা বাহাসও হয়ে গেছে। বিচিত্র সব বিতর্কে ইদানিং জড়াচ্ছেন তারা। এর আগে জড়িয়েছিলেন সাপ বিতর্কে। আয়নায় মুখ দেখাদেখি নিয়েও কথা বলেছিলেন তারা। তবে কেউই হয়তো তা দেখেননি।

একটি বিষয় অবাক করার মতই। সরকারের মেয়াদের শেষ কয়েক মাসে এবারই প্রথম বাংলাদেশের রাজপথ শান্ত। কোন হরতাল নেই, অবরোধ নেই। যদিও সবাই জানেন এটা সাময়িক। কিন্তু সাময়িক হলেও নতুন। এ নতুন রাজনীতি খালেদা জিয়ার। বস্তুত কৌশলের লড়াইয়েই অবতীর্ণ হয়েছেন তিনি। নিজ দলের সাংগঠনিক দূর্বলতা বিবেচনায় এখনই রাজপথের লড়াই যেতে চাচ্ছেন না তিনি। নানা উস্কানি সত্ত্বেও পরিচয় দিচ্ছেন সংযমের। ৫ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর তাকে পা ফেলতে হচ্ছে আরও সাবধানে। ২০০৬ সালে রাজনীতির স্নায়ুক্ষয়ী সময়ে নেয়া ভুল সিদ্ধান্তগুলোও ভাবাচ্ছে তাকে। নিজ দলে পর্দার অন্তরালে কার ভূমিকা কি তাও খেয়াল রাখছেন তিনি। তাকে গ্রেপ্তারের একটি গুঞ্জণও এরইমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের পর বিএনপির ওপর চূড়ান্ত ক্র্যাকডাউন চালানো হতে পারে এমন একটি খবরও রয়েছে। এখনও পর্যন্ত সরকারের রাজনীতি ঘুরপাক খাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে। সেপ্টেম্বরে অন্তত যুদ্ধাপরাধের একটি মামলার চূড়ান্ত রায় আসবে। এরপর নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হতে পারে জামায়াতের রাজনীতি। পরিস্থিতি যত উত্তপ্ত হবে তত কঠোর অবস্থানে যাবে সরকার।

এটা ঠিক, সাংগঠনিকভাবে বিএনপি কখনও খুব শক্তিশালী দল ছিলো না। নানা দল আর মতের মানুষের সমন্বয় হয়েছিল বিএনপিতে। সাংগঠনকি শক্তির দিক থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তুলনীয় না হলেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবসময়ই আওয়ামী লীগ বিরোধী ভোট জমা পড়েছে বিএনপির বাক্সে। যে কারণে দলটির বিজয়ের রেকর্ড অত্যন্ত ভালো। খালেদা জিয়া জানেন সরকার এখনই রাজপথের যুদ্ধে নিয়ে যেতে চায় বিএনপিকে। সাংগঠনিকভাবে দলটির কোমর ভেঙ্গে দিতে চায় এখনই। যেন অক্টোবরে রাজনীতির স্নায়ুক্ষয়ী সময়ে বিএনপি কোন ধরনের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারে। সরকারি কৌশলের বিপরীতে খালেদা জিয়া আপাতত গ্রহণ করেছেন কূটনৈতিক কৌশল। বিদেশী কূটনীতিকদের যেকোন মধ্যস্ততাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে দলটি। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও ইতিবাচকভাবেই দেখছে বিএনপি। কূটনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হলেই কেবল রাজপথে মিমাংসার দিকে যাবেন খালেদা জিয়া। তৃতীয় কোন পক্ষ যেন সুযোগ না নিয়ে নেয় এজন্যই সতর্কতা অবলম্বন করছেন তিনি।

রাজনীতির গতি বিচিত্র। বেশ কিছু বিকল্প সামনে নিয়ে এগুচ্ছে ঠিক এই মূহর্তে বাংলাদেশের রাজনীতি। ১. শেখ হাসিনার অধীনে বহুদলীয় নির্বাচন। ২. শেখ হাসিনার অধীনে এক দলীয় নির্বাচন। ৩. নির্দলীয় সরকারের অধীনে বহুদলীয় নির্বাচন। ৪. নির্বাচন না হওয়া।

জাতিসংঘ এরইমধ্যে তার বার্তা পরিষ্কার করেছে। সবদলের অংশগ্রহণে বাংলাদেশে নির্বাচন দেখতে চায় এ বিশ্ব সংঘ। নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসও বলেছেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। যদিও এক সিনিয়র সাংবাদিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক বিখ্যাত নীতির কথা বলেছেন- হু কেয়ারস?


এখানে শেয়ার বোতাম






পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

All rights reserved © 2021 shirshobindu.com