l

সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ০৬:১২ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর উদ্ভাবনে মুগ্ধ বারাক ওবামা

বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর উদ্ভাবনে মুগ্ধ বারাক ওবামা

এখানে শেয়ার বোতাম

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: তথ্য-প্রযুক্তি ডেস্ক জার্মানের শীর্ষ সংবাদ মাধ্যম ডয়েচে ভেলের সূত্রে জানা গেছে, কৃষি ক্ষেত্রে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. আবদুল ওহাবের উদ্ভাবনে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সংবাদ মাধ্যমটি এ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করেছে।

ডয়েচে ভেলে বলছে, কৃষকের জন্য সহজে বহনযোগ্য ও স্বল্পমূল্যের গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ যন্ত্র বা ‘অ্যাপ্লিকেটর’ উদ্ভাবন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কৃষি প্রকৌশলী ড. আবদুল ওহাব। তাঁর যন্ত্র দেখে খুশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও। 2বাংলাদেশের বিজ্ঞানীর উদ্ভাবন দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সবার ডান দিকের ব্যাক্তিটি ‘অ্যাপ্লিকেটর’টি ধরে রেখেছেন। ‘ইন্টারন্যাশনাল ফার্টিলাইজার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ বা আইএফডিসির বাংলাদেশ কার্যালয়ে কর্মরত ড. ওহাব বছর দেড়েক আগে যন্ত্রটি উদ্ভাবন করেন। গত জুন মাসে সেনেগালে একটি কৃষি প্রযুক্তি মেলায় ওবামা অ্যাপ্লিকেটরটি দেখেন। তখন সেখানে উপস্থিত আইএফডিসির একজন প্রতিনিধি ওবামাকে জানান যে, যন্ত্রটির উদ্ভাবক একজন বাংলাদেশি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের কৃষকদের মধ্যেও সাড়া ফেলছে এই অ্যাপ্লিকেটরটি। অ্যাপ্লিকেটরটি সম্পর্কে উদ্ভাবক ড. ওহাব বলেন, আপাতত এক ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ জমিতে গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ করা যায়। সে হিসেবে এক বিঘা বা ৩৩ শতাংশ জমিতে সার প্রয়োগ করতে প্রায় তিন ঘণ্টা লাগার কথা। তবে এর চেয়েও উন্নতমানের যন্ত্র উদ্ভাবনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে ডয়চে ভেলেকে জানান ড. ওহাব। তিনি বলেন, এই অ্যাপ্লিকেটরটির দাম একটু বেশি হবে। আড়াই হাজার টাকার মতো। তবে সুবিধা হলো উন্নত সংস্করণের অ্যাপ্লিকেটরটি দিয়ে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ জমিতে গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ করা যাবে। আগামী বোরো মরসুমেই সেটা পাওয়া যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এই অ্যাপ্লিকেটরটি উদ্ভাবনের শুরুর সময়ের কথা বলেছেন আইএফডিসির বাংলাদেশ কার্যালয়ের আবাসিক প্রতিনিধি ইশরাত জাহান। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ‘ফিড দি ফিউচার’ প্রকল্পের আওতায় ইউএসএআইডি’র কাছ থেকে অর্থ সহায়তা পেয়ে তাঁরা কৃষিমন্ত্রীর পরামর্শ বাস্তবায়ন করেছেন। প্রাপ্ত অর্থের একটা অংশ তাঁরা বাংলাদেশের কয়েকটি সংস্থাকে দিয়েছেন, যেন তারা সেটা অ্যাপ্লিকেটর উদ্ভাবনের গবেষণায় কাজে লাগাতে পারে। নিজের উদ্ভাবন করা ‘অ্যাপ্লিকেটর’টি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ড. আবদুল ওহাব। এক পর্যায়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটা অ্যাপ্লিকেটর উদ্ভাবন করেছিলেন। তবে সেটাতে প্রতিবার একটি করে গুটি ইউরিয়া ঢোকাতে হত। ফলে কৃষকরা সেটাতে আগ্রহী হচ্ছিলেন না। পরবর্তীতে আইএফডিসির বিজ্ঞানী ড. ওহাব কয়েকমাস ধরে দিনরাত পরিশ্রম করে ঐ যন্ত্রটিরই একটি উন্নত সংস্করণ বের করেন। ফলে এখন এই অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে একবারেই ৫০-৬০ টা গুটি ইউরিয়া জমিতে প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানান ড. ওহাব। এদিকে অ্যাপ্লিকেটরটি বাস্তবে রূপ দেয়া ও স্বল্পমূল্যে কৃষকের কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের অবদানের কথা জানালেন ইশরাত জাহান ও ড. ওহাব দুজনই। আরএফএল এর একটি কারখানাতেই অ্যাপ্লিকেটর উদ্ভাবনের কাজ করেন ড. ওহাব। এরপর সেটা শুধুমাত্র উৎপাদনমূল্যে এবং কোনোরকম লাভ না রেখে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে প্রাণ-আরএফএল। বাংলাদেশের বরিশাল, যশোর অঞ্চলের ২০টি জেলা এবং ময়মনসিংহ ও শেরপুরের এই দুটিসহ মোট ২২টি জেলায় অ্যাপ্লিকেটরটি পাওয়া যাওয়ার কথা জানালেন ইশরাত জাহান। তবে অচিরেই সেটা অন্যান্য জেলায়ও পাওয়া যাবে। যে কারণে ওবামার এই কাজটি ভালো লেগেছে সেটা জানার আগে জানতে হবে গুটি ইউরিয়া সম্পর্কে। এটা এক ধরনের নাইট্রোজেন সার যেটারও উদ্ভাবক বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা। এখন সেটা ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বের অন্যান্য ধান উৎপাদনকারী দেশেও। সাধারণ ইউরিয়া থেকেই গুটি ইউরিয়া তৈরি হয়। দেখতে অনেকটা ন্যাপথালিনের মতো। এটা মাটির সাত থেকে ১০ সেন্টিমিটার গভীরে পুঁতে দিতে হয়। এতে লাভ হয় দুটো। এক, এর ফলে গাছ গুটি ইউরিয়া থেকে প্রায় ৭০ ভাগ নাইট্রোজেন নিতে পারে, অর্থাৎ নষ্ট হয় মাত্র ৩০ ভাগ। অন্যদিকে সাধারণ ইউরিয়া ছড়িয়ে ছিটিয়ে ব্যবহার করার কারণে গাছ মাত্র ৩৩ ভাগ নাইট্রোজেন পায়। আর বাকি পুরোটাই অপচয় হয়। গুটি ইউরিয়া ব্যবহারের দ্বিতীয় সুবিধাটি হচ্ছে, গাছ পর্যাপ্ত নাইট্রোজেন পাওয়ায় ধানের উৎপাদন ভালো হয়। অর্থাৎ ইউরিয়ার অপচয় কম হওয়ায় স্বল্প খরচে অধিক ফলন পাওয়া যায়। কিন্তু গুটি ইউরিয়া মাটির গভীরে লাগাতে হয় বলে কৃষকদের কাছে এতোদিন সেটা তেমন একটা জনপ্রিয়তা পায়নি। এভাবে সার দিতে কৃষককে কোমর নোয়াতে হয় বলে বিষয়টা যেমন কষ্টকর, তেমনি সার একটা রাসায়নিক উপাদান হওয়ায় সেটা হাতে করে দেয়াটাও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। গুটি ইউরিয়ার এসব সমস্যা দূর করতে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী আইএফডিসিকে একটা অ্যাপ্লিকেটর উদ্ভাবন করার পরামর্শ দেন যেন কৃষকরা সহজে সেটা জমিতে দিতে পারে। এই উদ্যোগের ফলে উদ্ভাবিত অ্যাপ্লিকেটরটির সুবিধা দুটি। এক, এটা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হওয়ায় ওজন মাত্র দেড় কেজি। ফলে কৃষকরা সহজেই সেটা বাড়ি থেকে ক্ষেতে নিয়ে যেতে পারেন। আর আরেকটা বড় সুবিধা হচ্ছে দামে অনেক সস্তা মাত্র সাড়ে চারশো টাকা। সূত্র : প্রিয়টেক


এখানে শেয়ার বোতাম






পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

All rights reserved © 2021 shirshobindu.com