l

সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ০২:০২ অপরাহ্ন

মাহফুজ আনামের দৃষ্টিতে হাসিনার সর্বশেষ ঘোষণা

মাহফুজ আনামের দৃষ্টিতে হাসিনার সর্বশেষ ঘোষণা

এখানে শেয়ার বোতাম

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সর্বশেষ অবস্থান বিশ্লেষণ করেছেন ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। আজ ডেইলি স্টারে প্রকাশিত এক মন্তব্য প্রতিবেদনে তিনি উভয় পক্ষকে সমঝোতায় পৌঁছানোর তাগিদ দিয়েছেন। না হয় অবাধ আর স্বচ্ছতার পরিবর্তে দাঙ্গা-হাঙ্গামা আর ভয়ের নির্বাচনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

মাহফুজ আনাম লিখেছেন, নির্বাচনের ব্যাপারে শেখ হাসিনার সর্বশেষ ঘোষণায় ৪টি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ১. বর্তমান সংসদের মেয়াদের ভেতরেই নির্বাচন। ২. নির্বাচনের সময় সংসদ ভেঙে দেয়া হবে না। ৩. বর্তমান সরকারই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিসেবে ক্ষমতায় বহাল থাকবে। ৪. নির্বাচনের সময় নির্দলীয় সরকারের ব্যবস্থাকে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান। তিনি লিখেছেন, বর্তমান সংসদের মেয়াদের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। সরকারের মেয়াদের মধ্যে কখন নির্বাচন হবে তার সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে। জনগণের ম্যান্ডেট চাওয়ার যে কোন প্রচেষ্টা যদি তা তাড়াতাড়িও হয় তা স্বাগত পাওয়ার যোগ্য।

সমস্যা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের দ্বিতীয় পয়েন্টে। যেখানে তিনি বলেছেন, নতুন সংসদ না আসা পর্যন্ত বর্তমান সংসদ বহাল থাকবে। এ ব্যবস্থায় বর্তমান সব সংসদ সদস্য স্বপদে থাকাবস্থায়ই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তারা সে সময় বিশেষাধিকার এবং প্রটোকল পাবেন। সরকারি ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিকভাবেই সংসদ সদস্যকে অন্য প্রার্থীদের চেয়ে আলাদা গুরুত্ব দেবে। এসব বিষয় গণতান্ত্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। যে ব্যবস্থার দাবি হচ্ছে ভোটার, আইন এবং নির্বাচন কমিশনের চোখে সব প্রার্থী সমান।

সর্বশেষ কথা হচ্ছে অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশ যেমন ইন্ডিয়া, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং বৃটেনসহ কোন দেশেই এ ধরনের ব্যবস্থা প্রচলিত নেই। এসব দেশে সংসদ ভেঙে দিয়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী যে বলছেন, অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতোই আমাদের এখানে নির্বাচন হবে, তা সত্য নয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশ যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি, আমরা কেন তা গ্রহণ করবো। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের তৃতীয় পয়েন্ট সঠিক। সব গণতান্ত্রিক দেশেই ক্ষমতায় থাকা সরকার নির্বাচনকালীন সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকে। ওই সরকার দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। যখন ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের আয়োজন করে থাকে। যেসব দেশের কথা ইতিপূর্বে বলেছি সেসব দেশে এভাবেই নির্বাচন হয়। সুতরাং আমরা কেন অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের রীতি অনুসরণ করবো না।

কারণ- ১. কোন গণতান্ত্রিক দেশেই বিরোধী দল ধারাবাহিকভাবে সংসদ বয়কট করে না।

২. অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে সরকার বিরোধী দলকে এভাবে নিপীড়ন করে না। প্রত্যেক সময়ে বিরোধী সংসদ সদস্য পুলিশের পিটুনির শিকার হন। এটাই হচ্ছে আমাদের গণতন্ত্রের দুঃখজনক ছবি।

৩. কোন গণতান্ত্রিক দেশে সংসদ নেতা ও বিরোধী দলের নেতা এভাবে পরস্পরের প্রতি আক্রমণ করেন না। চিন্তা করে দেখুন গত ২৩ বছরে আমাদের দুই নেত্রী দেশের সঙ্কট নিয়ে একবারও সংলাপে বসেননি। অথচ প্রধানমন্ত্রী অথবা বিরোধীদ লীয় নেত্রী হিসেবে তারাই আমাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

৪. অন্য কোন গণতান্ত্রিক দেশেই এমন পরিস্থিতি হয় না যে বিরোধী দলের আনা কোন প্রস্তাব পাস তো দূরের কথা আলোচনাই হয় না।

৫. নির্বাচনের এক মাসের মধ্যেই কোন দেশে বিরোধী দল সরকার পতনের ডাক দেয় না।

৬. অর্থনীতির কথা চিন্তা না করে কোন গণতান্ত্রিক দেশেই ধারাবাহিকভাবে হরতাল দেয়া হয় না।

৭. কোন গণতান্ত্রিক দেশে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় না। এ তালিকা কেবল বাড়ানোই সম্ভব। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান পুরনো এবং আমরা আগেই বলেছি প্রধানমন্ত্রীর ওই অবস্থান ভুল। যদি এখন বিএনপি ক্ষমতায় থাকতো এবং বর্তমান সরকার যে কারণ দেখিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করেছে একই কারণ দেখিয়ে তা বাতিল করতো, তবে কি আওয়ামী লীগ সেই নির্বাচনে অংশ নিতো?

বিচারক হওয়ার বহু আগে বিচারপতি কেএম হাসান বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এ কারণ দেখিয়ে, আওয়ামী লীগ তার অধীনে নির্বাচনে যায়নি। আর আওয়ামী লীগ প্রধানকে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে বিএনপি মেনে নেবে আমরা কি এতটা কল্পনাপ্রবণ হতে পারি?

সূত্র: মানবজমিন।


এখানে শেয়ার বোতাম






পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

All rights reserved © 2021 shirshobindu.com