l

রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৪:০১ অপরাহ্ন

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদক

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদক

এখানে শেয়ার বোতাম

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

শীর্ষবিন্দু নিউজ: প্রবাসীদের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের অনিয়ম আর দুর্নীতির অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের দায়িত্বশীল সূত্র মতে এ তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়্।

দুদকের কাছে অভিযোগ রয়েছে, এমডি ৮৩ উড়োজাহাজ কেনার জন্য  অনিয়মের মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে শতাধিক কোটি টাকা তুলে নিয়েছে বেসরকারি এ বিমান সংস্থাটি। ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন তাছবিরুল আহমেদ চৌধুরীর কাছে এই টাকার ব্যাপারে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে।

এসবের মধ্যে আছে: উত্তোলিত এ টাকায় যে বিমান ক্রয় করা হয়েছে তার দাখিলকৃত দরপত্র, ক্রয়ের কাগজপত্র, ২০১০ সাল থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ওভারহোলিং (বড় ধরণের মেরামত) সংক্রান্ত কাগজপত্র, উড়োজাহাজ ক্রয় করতে কিভাবে বিদেশে টাকা পাঠানো হয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ। ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করছেন দুদকের উপ-পরিচালক মোনায়েম সরকার।

জানা যায়, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ সালের ১৫ নম্বর আইন-এর ২৫ ধারায় (ঘ) এর (উ) ও (ঊ) ধারায় বলা হয়েছে, কোম্পানির বিএমআরই বা নতুন ইউনিট স্থাপন সংক্রান্ত তথ্য এবং কোম্পানির কার্যাবলীর ক্ষেত্রে মৌলিক পরিবর্তন, যেমন উৎপাদিত সামগ্রী, পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন বা এ সম্পর্কিত নীতিনির্ধারণ ইত্যাদি মূল্য সংবেদনশীল তথ্যের আওতায় পড়বে। ওই কোম্পানিতে তখন মোট উড়োজাহাজের সংখ্যা ছিল ৮টি। কিন্তু, মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হিসেবে বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়েছে চারটি উড়োজাহাজের তথ্য। একটি এয়ার-এ৩১০/৩২৫, তিনটি এটি আর। কিন্তু পরবর্তী চারটির কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

কোম্পানিটির বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ উঠে এসছে যে, ২০১০ থেকে ২০১১ সালে রাইট শেয়ার ঘোষণার আগে অনিরীক্ষিত অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে নিয়মবর্ভিভূতভাবে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ও সম্পদমূল্য (এনএভি) বাড়ানো হয়েছে। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) টাকা যথাযথ ব্যবহার না করেই আবার রাইট শেয়ার ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউনাইটেড।|

যাচাই-বাছাই ছাড়া ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের কারণে লেনদেন চালুর মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে দুর্বল মৌলভিত্তির এ কোম্পানির ১০০ টাকার শেয়ার ৭৭০ টাকা উঠে আসে। ২০১১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি কোম্পানি ২০১০-১১ অর্থ বছরের অর্ধবার্ষিক অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনের তথ্যে গড়মিল পাওয়া গেছে। বেসরকারি এ বিমান সংস্থাটির অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে শিগগিরই দুদক অনুসন্ধান প্রক্রিয়া শুরু করবে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১১ সালে ইউনাইটেড এয়ার আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে। আর এক বছরের মাথায় রাইট শেয়ারের মাধ্যমে আরো ৪০০ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্চ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে। মূল্য সংবেদনশীল তথ্য না দিয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)’র বিধিমালা উপেক্ষা করেছে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ।

সূত্র মতে, কারসাজি করে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তাদের শেয়ারের দাম বাড়িয়েছে কি-না তাও খতিয়ে দেখছে দুদক। সর্বশেষ সূত্র মতে, দুদকের চাহিদা মোতাবেক প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার এখনও নথিপত্র সরবরাহ করেননি।

 


এখানে শেয়ার বোতাম






পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

All rights reserved © 2021 shirshobindu.com