l

মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন

ক্ষমতায় লড়াইয়ে ঠিকে থাকতে সংবিধান সংশোধন

ক্ষমতায় লড়াইয়ে ঠিকে থাকতে সংবিধান সংশোধন

এখানে শেয়ার বোতাম

শীর্ষবিন্দু নিউজ:  বাংলাদেশের নির্বাচনে আমেরিকার হস্তক্ষেপ চরম লজ্জাজনক। আমাদের সমস্যা আমরাই সমাধান করবো। বাইরের লোক  কেন আসবে? আমরা কি পড়ালেখা জানি না? আমরা কি রাজনীতি করি না। আমাদের দেশে কি কোন যোগ্য লোক  নেই? আমরা কি করে ক্ষমতায় আসবো-যাবো এটা আমাদের ব্যাপার, অন্য কারও নয়। গতকাল দুপুরে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে বাংলাদেশ গ্রাম ডাক্তার সমিতির ৩৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির  চেয়ারম্যান সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ গ্রাম ডাক্তার সমিতির সভাপতি জাপা’র প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাপা মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার,  প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়া উদ্দিন আহমদ বাবলু,  সুনীল শুভ রায় প্রমুখ।

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, চারদিকে সংঘাতের আশঙ্কা। দু’ দলের ক্ষমতার রাজনীতি থেকে মানুষ মুক্তি চায়। উনি গেলে আরেকজন ক্ষমতায় আসবেন। আরেকজন ক্ষমতা থেকে গেলে অন্য একজন আসবেন। এই হচ্ছে দেশের চিত্র। দেশে পরিবর্তন আনতে  হবে। নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন আনতে হবে।  দেশের মানুষই এ পরিবর্তন আনবে। নির্বাচনী আসন অনুযায়ী নয়, ভোটের আনুপাতিক হারে সংসদে প্রতিনিধি পাঠাতে হবে।

এরশাদ আরো বলেন, কারসাজি করে ক্ষমতায় থাকতেই সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। আমি সংবিধানে হাত দেইনি। সংবিধান স্থগিত করেছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে সাবেক প্রেসিডেন্ট বলেন, নির্বাচন করতে ভয় পাচ্ছেন কেন। এমন কি করেছেন? পরাজয় হলে বাড়িঘর জ্বলবে-এই ভয় পাচ্ছেন? ভাল কাজ করলে মানুষ ঘর-বাড়ি জ্বালাবে না। গম চুরির জন্য জ্বলবে। তিনি বলেন, যে আশা নিয়ে উপজেলা  হেল্‌থ কমপ্লেক্স করেছিলাম তা ব্যর্থ হয়েছে। ডাক্তারও ঠিকমতো আসে না। তাদের দোষ নেই। দোষ আমাদের সিস্টেমের। হেলথ কমপ্লেক্স আছে। আমি যদি প্রেসিডেন্ট হতাম তাহলে এসব সমস্যার সমাধান হতো।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের রাজধানী হওয়ার কথা ছিল শান্তির শহর। কিন্তু এটা এখন পৃথিবীর সবচেয়ে নোংরা শহর। ইয়াবার ছোবলে গোটা যুব-ছাত্র সমাজ শেষ  হয়ে গেছে। ছেলেমেয়ে বড় হলে মা-বাবার রাতে ঘুম আসে না। তিনি বলেন, মানুষ সরকারকে ক্ষমতায় এনেছে শান্তির জন্য। গম চুরির জন্য নয়। ফরমালিনযুক্ত খাবার খাওয়ার জন্য নয়।  দেশের মানুষ মরে যাচ্ছে। আর তারা কি করে ক্ষমতায় যাবেন- সেই চিন্তায় ব্যস্ত। ঢাকায় লাগানো বিলবোর্ডেরও  কড়া সমালোচনা করেন জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ। তিনি বলেন, বিল বোর্ডের কারণে এখন আর আকাশ দেখা যায় না।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে নতুন পদ্ধতির সরকারের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ। বলেন, আবার হয়তো প্রেসিডেন্ট হতে পারি। মনে হয়  সেদিন খুব বেশি দূরে নয়। আবার হয়তো  সে সুযোগ আসতেও পারে। তিনি বলেন, শতকরা ১ ভাগ ভোট পেলেও  সংসদে কোন দলের প্রতিনিধিত্ব শূন্য হবে না। ৩ জন প্রতিনিধি থাকবে। এখন শতকরা ৬০ ভাগ ভোট পাওয়ার যোগ্যতা কোন দলের  নেই। এককভাবে কেউ ক্ষমতায় যেতে পারবে না, যোগ্যতাও নেই। আওয়ামী লীগ যদি শতকরা ৪০ ভাগ ভোট পায় ১২০ আসন পাবে। আর বিএনপি যদি শতকরা ৩০ ভাগ ভোট পায় তাহলে ৯০টি আসন পাবে। বড়-ছোট কোন দলের সংসদে আসন শূন্য হবে না।

পাশাপাশি ভোটের হিসাব অনুযায়ী প্রতিনিধিত্ব থাকলে অনেক জ্ঞানী লোকজন সংসদে যেতে পারবেন। আমাদের দেশে অনেক জ্ঞানী  লোক আছেন। চিকিৎসক, শিক্ষক, নোবেল বিজয়ী আছেন। তারাও ভূমিকা রাখতে পারবেন। এরশাদ বলেন, ৭ বিভাগে সাতটি প্রদেশ করে প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা চালু করতে পারলে দেশের অবস্থা ভাল হবে। শ্রীলংকার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে জনসংখ্যা ২ কোটি। সুন্দরভাবে দেশ চালানোর জন্য প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা রয়েছে শ্রীলংকায়।


এখানে শেয়ার বোতাম






পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

All rights reserved © 2021 shirshobindu.com