শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ১১:৫৩

আফগানিস্তানে নিহত মার্কিন সৈন্যসংখ্যা ২০০০ এ উন্নীত

আফগানিস্তানে নিহত মার্কিন সৈন্যসংখ্যা ২০০০ এ উন্নীত

/ ৭৪
প্রকাশ কাল: মঙ্গলবার, ২ অক্টোবর, ২০১২

আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে এ পর্যন্ত নিহত মার্কিন সৈন্যের সংখ্যা দুই হাজারে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধের বিরুদ্ধে যখন মার্কিন জনগণের সমর্থনের হার অত্যন্ত নেমে গেছে এবং আফগানিস্তান থেকে সব বিদেশী সৈন্য প্রত্যাহারের সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে, তখন গত শনিবার এক অভ্যন্তরীণ হামলায় এক মার্কিন সেনা ও একজন বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হওয়ায় মার্কিন সামরিক জনবল ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই হাজার। ১১ বছর ধরে চলা এ সঙ্ঘাতে মার্কিন সেনাদের পাশাপাশি ন্যাটো নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সদস্য অন্যান্য দেশের আরো এক হাজার ১৯০ জন সেনা নিহত হয়েছে বলে এক পরিসংখ্যানে প্রকাশিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভিয়েতনাম যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৫৮ হাজার ১৩৮ ও ইরাকে চার হাজার ৪৮৩ সৈন্য নিহত হয়েছিল।
আফগানিস্তানে ৪০ শতাংশ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে পেতে রাখা বা দূর নিয়ন্ত্রিত বোমা বিস্ফোরণের কারণে। পাশাপাশি ন্যাটোর সহযোগী আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদেশী সেনা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী নিহত সেনাদের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশই প্রাণ হারিয়েছে মিত্র আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হামলায়।
আফগানিস্তানে ১১ বছরের সঙ্ঘাতে বেসামরিক মৃত্যুর হার সঠিকভাবে বের করা কঠিন। তবে জাতিসঙ্ঘের হিসাবে ২০০৭ থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত আফগানিস্তানে মোট ১৩ হাজার ৪৩১ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। জাতিসঙ্ঘ ২০০৭ সাল থেকে আফগানিস্তানে বেসামরিক প্রাণহানির হিসাব রাখা শুরু করেছে।
তবে ২০০৭ সালের আগে সংঘটিত বেসামরিক হতাহতের সঠিক কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও বিভিন্ন পশ্চিমা পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০০১ সালে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান শুরুর পর নিহত হয় ২০ হাজার বেসামরিক আফগান। তবে স্থানীয় সূত্র মতে বেসামরিক প্রাণহানির সংখ্যা আরো অনেক বেশি।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ৩৩ হাজার সেনা ফিরিয়ে নিয়ে গেলেও এখনো এক লাখ আট হাজার বিদেশী সেনা আফগানিস্তানে মোতায়েন আছে। এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একারই ৬৮ হাজার সেনা মোতায়েন আছে।
ন্যাটো বাহিনীর বিরুদ্ধে আফগান পুলিশ ও সেনা সদস্যদের হামলার কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন ও ন্যাটো সৈন্যের মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে চলেছে। ফলে ২০১৪ সালে সব বিদেশী সৈন্য প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়ার পর আফগান পুলিশ ও সেনাবাহিনীর পক্ষে দেশটিতে নিরাপত্তা ও শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে ভাবছে ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলো। ওবামা ক্ষমতায় আসার পর আফগানিস্তানে অতিরিক্ত যে ৩৩ হাজার সৈন্য পাঠানো হয়েছিল তা প্রত্যাহার ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি সৈন্যদের প্রত্যাহারের আর মাত্র দুই বছর সময় রয়েছে। অথচ দেশের পুরো নিরাপত্তার দায়িত্ব নেয়ার জন্য আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর এখনো প্রস্তুত হতে অনেক বাকি।
গতকাল সবশেষ মার্কিন সৈন্য নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, গত শনিবার বিকেলে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে আফগান বাহিনীর দৃশ্যত অভ্যন্তরীণ হামলায় ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসের যে সদস্যটি মারা গেছে, সেটি মার্কিন সৈন্য। মার্কিন ও ন্যাটোর সৈন্যদের ওপর আফগান সৈন্যদের বা তাদের ইউনিফর্ম পরা গেরিলাদের হামলায় এ বছর ৫২ বিদেশী সৈন্য মারা গেছে। এই অভ্যন্তরীণ হামলা দেশটি থেকে ন্যাটো বাহিনী প্রত্যাহারের কৌশলের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি বলে মনে করা হচ্ছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
All rights reserved © shirshobindu.com 2022