সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৫৫

বিস্ফোরণে আবারো কেঁপে উঠলো আফগান রাজধানী

বিস্ফোরণে আবারো কেঁপে উঠলো আফগান রাজধানী

শীর্ষবিন্দু আর্ন্তজাতিক নিউজ / ৫৩
প্রকাশ কাল: রবিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২১

আফগান রাজধানী আবারো বিস্ফোরণে কেঁপে উঠলো। রোববার দিনের শেষে কাবুলের হামিদ কারজাই বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে বিস্ফোরণটি হয়। এতে এক শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। তবে কারা এই হামলা চালিয়েছে তা নিয়ে অস্পষ্টতা সৃষ্টি হয়েছে।

যদিও ওই বিস্ফোরণের পরই যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, হামলা চালিয়ে তারা ইসলামিক স্টেটের জিহাদিদের একটি গাড়ি উড়িয়ে দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, ওই গাড়িতে ব্যাপক বিস্ফোরক নিয়ে কাবুল বিমানবন্দরে হামলা করতে যাচ্ছিল জিহাদিরা। তবে ড্রোন হামলা চালিয়ে ওই গাড়ি উড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ভেতরে থাকা বিস্ফোরকের কারণে পরবর্তীতে আরও বড় বিস্ফোরণ সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি একটি সফল হামলা ছিল বলে মনে করেন তারা। তবে সর্বশেষ বিস্ফোরণটি মার্কিন হামলারই কিনা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার পর বিস্ফোরণের ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে একটি আবাসিক এলাকায় ওই বিস্ফোরণটি হয়েছে।

এর আগে শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সাবধান করেছিলেন যে, আবারো সন্ত্রাসী হামলা করতে যাচ্ছে আইএস-কে জিহাদিরা। বৃহস্পতিবার আইএস-কে’র হামলায় ১৩ মার্কিন সেনাসহ ১৭৫ জন নিহত হন। কাবুল বিমানবন্দরের জিহাদিদের ওই আত্মঘাতী হামলার পরেই প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ‘খুঁজে বের করে মারব’, এমনটাই জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। কথা রেখেছিলেনও তিনি। পরিকল্পনাকারী জিহাদি পরদিনই মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হয়। তবে এরপরই আবারো পাল্টা আঘাত আসতে পারে সে আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে এ বিষয়ে জানান কমান্ডাররা। সুনির্দিষ্ট, বিশ্বাসযোগ্য এমন হুমকির প্রেক্ষিতে সব মার্কিন নাগরিককে ওই এলাকা ত্যাগ করার আহ্বান জানান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরইমধ্যে সর্বশেষ এই রকেট হামলার খবর পাওয়া গেল। যদিও এখন ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে যে এটি মূলত হামলা ঠেকাতে জঙ্গিদের টার্গেট করে মার্কিন হামলা।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র কাবুল বিমানবন্দর থেকে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তবে কূটনীতিক, সেনা, কর্মকর্তাদের উদ্ধার অভিযান চূড়ান্ত করেছে বৃটেন। গত বৃহস্পতিবার এই বিমানবন্দরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ১৭৫ জন নিহত হওয়ার পর আতঙ্ক চরম আকার ধারণ করছে। যেকোনো সময় আরও বড় হামলার আশঙ্কা বিরাজ করছে।

বিশেষ করে ৩১শে আগস্ট ডেডলাইন যতই ঘনিয়ে আসছে, আতঙ্ক ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবারের হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএসের স্থানীয় গ্রুপ ইসলামিক স্টেট ইন খোরাসান প্রভিন্স (আইএস-কে)। এর প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গত শুক্রবার দিন শেষে পূর্বাঞ্চলে আইএস-কে’র হামলা পরিকল্পনাকারীকে ড্রোন হামলায় হত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পরে জানানো হয়েছে, সেখানে আইএস-কে’র উচ্চ পর্যায়ের দুই নেতা মারা গেছেন। এরমধ্যে অন্যজনকে সুবিধাদানকারী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। শনিবার জো বাইডেন বিবৃতিতে বলেন, এই হামলাই শেষ হামলা নয়। যারাই বিমানবন্দরে হায়েনার মতো হামলা করেছে, তাদের সবার বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে ব্যবস্থা নেবো আমরা এবং তাদেরকে মূল্য দিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ওই বিমানবন্দর থেকে তাদের সেনাদের প্রত্যাহার শুরু করেছে। বর্তমানে সেখানে তাদের সেনা সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার হাজার। গত সপ্তাহে এ সংখ্যা ছিল ৫৮০০। এখন উদ্ধার অভিযান প্রায় শেষ পর্যায়ে। হাতে সময় মাত্র দু’দিন। এ সময়কে সবচেয়ে বিপজ্জনক হিসেবে দেখা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা বলেছেন, কাবুল বিমানবন্দরে এখন এক হাজারের কিছু বেশি বেসামরিক মানুষ অপেক্ষা করছেন। তাদেরকে উদ্ধার করা হবে। এ অবস্থায় বিমানবন্দরের চারপাশে আরও চেকপয়েন্ট বসিয়েছে তালেবানরা। বার্তা সংস্থা এপি বলেছে, তারা এখন বেশির ভাগ আফগানকে এসব পোস্ট অতিক্রম করতে দিচ্ছে না।

ওদিকে সবমিলে গত দু’সপ্তাহে আফগানিস্তান থেকে আফগান ও বিদেশি মিলে এক লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার আফগানিস্তান থেকে সর্বশেষ ফ্লাইট অবতরণ করেছে ইতালির রাজধানী রোমে। তারা মোট ৫ হাজার আফগান নাগরিককে উদ্ধার করেছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় এ সংখ্যা সর্বোচ্চ। ফ্রান্স ১৭ই ফেব্রুয়ারি থেকে কমপক্ষে ২৮০০ মানুষকে উদ্ধার করেছে। জার্মানি উদ্ধার করেছে প্রায় ৪ হাজার মানুষকে। বৃটিশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল স্যার নিক কার্টার বলেছেন, তারা কোনো আফগানকেই উদ্ধার করতে পারেননি বলে তার হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে।

এখন আকাশপথে উদ্ধার অভিযান ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় আফগানরা তাদের দেশের সঙ্গে প্রতিবেশী অন্য দেশগুলোর সীমান্তে ভিড় করছেন। বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তান সীমান্তে জড়ো হয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর স্পাইন বোল্ডাক উন্মুক্ত রয়েছে। কিছু মানুষ সেখান দিয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করেছেন। তবে প্রধানতম ক্রসিং পয়েন্ট তোরখাম এখনো বন্ধ আছে।

আফগানিস্তানে সবচেয়ে কট্টর এবং সহিংস জিহাদি গ্রুপ হলো আইএস-কে। তালেবানদের সঙ্গে তাদের রয়েছে বড় রকমের পার্থক্য। বর্তমানে আফগানিস্তান নিয়ন্ত্রণ করছে তালেবানরা। কিন্তু তালেবানদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তালেবানরা যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করেছে। অন্যদিকে আইএস-কে’র বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়েছে তালেবানরা। তারা বলেছে, প্রথমে এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা করা উচিত ছিল।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2021