শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৩

জলবায়ু কর্মকাণ্ড কার্যকর না হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে দুষারোপ করলেন প্রধানমন্ত্রী

জলবায়ু কর্মকাণ্ড কার্যকর না হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে দুষারোপ করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অর্থ ও শক্তিশালী রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে বৈশ্বিক অভিযোজন কর্মকাণ্ড কার্যকর হচ্ছে না। কপ২৬ অনুষ্ঠানে ‘অ্যাকশন এন্ড সলিডারিটি-ক্রিটিক্যাল ডিকেড’ শীর্ষক নেতৃবৃন্দের সভায় এক ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।

সোমবার (০১ নভেম্বর) বিকেলে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে ইউনাইটেড নেশন্স ফ্রেমওয়ার্ক অন ক্লাইমেট চেঞ্জ- ইউএনএফসিসিসি’র কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজস (কপ-২৬) এর ২৬তম আসরের মূল পর্বে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে সোচ্চার ক্লাইমেট ভালরেইবল ফোরাম- সিভিএফ’র সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বিদেশি বিনিয়োগে ১২ বিলিয়ন ডলারের ১০ কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাতিল করে দিয়েছি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিশ্ব নেতাদের সামনে ৪টি দাবি পেশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রথম দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রধান কার্বন নিঃসরণকারীদের অবশ্যই উচ্চাভিলাসী এনডিসিস (ঘউঈং) দাখিল করতে হবে এবং ওই গুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। দ্বিতীয় দাবিতে শেখ হাসিনা বলেন, উন্নত দেশগুলোকে অভিযোজন এবং প্রশমনে অর্ধেক অর্ধেক (৫০:৫০) ভিত্তিতে বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। তৃতীয় দাবিতে সিভিএফ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, উন্নত দেশগুলোর উচিত স্বল্প খরচে অধিক ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর মাঝে ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন টেকনোলজি ছড়িয়ে দেওয়া। চতুর্থ দাবি প্রধানমন্ত্রী সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদী ভাঙণ, বন্যা এবং খরার মতো দুর্যোগের কারণে বাস্তুচ্যুত জলবায়ু অভিভাসীদের দায়িত্ব নেওয়াসহ জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে ক্ষতি এবং ধ্বংস মোকাবেলা করতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনে নগন্য অবদান রাখলে বাংলাদেশ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর একটি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক মোট কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের দায় শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশের চেয়েও কম। অথচ বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর একটি। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ২০০৯ সালে ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড’ প্রতিষ্ঠা করার কথা উল্লেখ করেন টানা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৭ বছরে আমরা জলবায়ু সংক্রান্ত ব্যয় দ্বিগুণ করেছি। বর্তমানে আমরা জাতীয় অ্যাডাপটেশন প্ল্যান তৈরি করছি।সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার একটি উচ্চাভিলাসী এবং আপডেটেড এনডিসি পেশ করেছে বলে জানান শেখ হাসিনা। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ৪০ শতাংশ জ্বালানি নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন টানা তিনবারের সরকার প্রধান।

রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশের পরিবেশগত বিপর‌্যয় প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত ১১ লক্ষ রোহিঙ্গার কারণে জলবায়ুর ওপর যে প্রভাব পড়ছে তার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলারও চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা বলেন, ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম-সিভিএফ এবং ভি-২০ চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্থ ৪৮ দেশের স্বার্থের বিষয়গুলো তুলে ধরছি। আমরা ঢাকায় দক্ষিণ এশিয়ার অফিস গ্লোবাল সেন্টার অব অ্যাডাপটেশনের মাধ্যমে আঞ্চলিক ভাবে আমাদের সেরা অনুশীলন এবং অভিযোজন জ্ঞান বিনিময় করছি। সিভিএফ এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ একটি ক্লাইমেট ইমার্জেন্সি চুক্তি করার চেষ্টা করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিযোজন ও প্রশমনের জন্য উন্নত দেশগুলোকে অবশ্যই তাদের ৫০:৫০ বরাদ্দসহ বার্ষিক একশ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর প্রতি উন্নত দেশগুলোর সমর্থন ও সহায়তা প্রয়োজন।’ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাগি এই সভার আয়োজন করেন।

সিভিএফ (ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম) প্রেসিডেন্ট এবং গ্লোবাল সেন্টার অন এডাপটেশন’র দক্ষিণ এশিয়া অফিসের স্বাগতিক হিসেবে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থানীয় নেতৃত্বে অভিযোজন উন্নয়ন করছে। প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে জানিয়ে আরও বলেন, বাংলাদেশ এ বছর ৩ কোটি চারার রোপণ করেছে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্লান শুরু করতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রতি একটি উচ্চাভিলাসী ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন (এনডিসি) পেশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ তার অভিযোজন উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রসারণসহ জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার খসড়াও প্রণয়ন করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে অন্যতম বড় ডমেস্টিক সোলার এনার্জি কর্মসূচিগুলোর একটি বাংলাদেশে রয়েছে বলে জানান শেখ হাসিনা। জলবায়ু বিপদগ্রস্থ দেশ থেকে জলবায়ু সহিষ্ণু এবং সেখান থেকে জলবায়ু সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে বাংলাদেশ ‘মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2026