বৈশ্বিক করোনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি গতিশীল রয়েছে। আমদানি-রপ্তানি সচল রয়েছে। ফলে বাংলাদেশে বিনিয়োগে মুনাফার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এমন তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।
অর্থনৈতিকভাবে বদলে যাওয়া নতুন বাংলাদেশে তরুণ প্রবাসী প্রজন্মকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন সালমান এফ রহমান। সোমবার ফুটবলের জন্য খ্যাতি পাওয়া শহর যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার সেন্টার কনভেনশন কমপ্লেক্সে ‘ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পোটেনশিয়াল ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেছেন, বিশেষ করে তৃতীয় ও চতুর্থ প্রজন্মের তরুণ প্রবাসীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য যোগাযোগ করেছেন। বাংলাদেশে এখন বিনিয়োগের সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের রয়েছে নানা ধরনের ছাড়। যে কোনো সময় মুনাফা তুলে নেয়ার সুযোগ রয়েছে।
বিএসইসি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের সভাপতিত্বে ম্যানচেস্টারের দ্বিতীয় রোডশো স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় এ সম্মেলন শুরু হয়। এতে বক্তব্য রাখেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, ম্যানচেস্টার সিটির মেয়র এন্ডো বার্নহাম, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (বিডা) মো. সিরাজুল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোহাম্মদ রহমাতুল মুনিম, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসই’র চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান প্রমুখ। সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসইসি’র কমিশনার অধ্যাপক শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ দূতাবাস মিলে যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনে দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। লন্ডনের সম্মেলন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে বিশেষ সুবিধা দেয়া হবে। তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
অনুষ্ঠানের স্পন্সর হিসেবে ছিল ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেড। সালমান এফ রহমান বলেন, এক দশকে বাংলাদেশ আমূল পরিবর্তন হয়েছে। দেশের অর্থনীতি ও মাথাপিছু আয় এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধিসহ প্রত্যকটি সেক্টরে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন হয়েছে। বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। বাংলাদেশ সম্পর্কে ধারণা ছিল না। সবার কাছে বাংলাদেশের নামটাও পরিচিত ছিল না। সবাই বাংলাদেশকে দরিদ্র রাষ্ট্র হিসেবে জানতো। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে নিয়ে ব্রান্ডিং ছিল না। এই বিনিয়োগ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশকে উপস্থাপিত করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক গ্রুপের চেয়ারম্যান বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রশংসা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রী লেরি সামার্স বাংলাদেশের অভূতপূর্ব প্রশংসা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে বদলে গেছে। এই ক্ষেত্রে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নতুন বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে। ৫০০ ইউএস ডলার থেকে মাথাপিছু আয় ২৫০০ ডলার ছাড়িয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ ফ্রিল্যান্সারে বিশ্বে তৃতীয়। এখানকার (ম্যানচেস্টারের) যে নতুন প্রজন্ম আছে, তাদেরকে আমরা জানাতে যাচ্ছি নতুন বাংলাদেশে অনেকগুলো সুযোগ আছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়ে গেছে। তারা আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশের সুযোগ নিতে পারে। এখানকার নতুন প্রজন্ম আছে। তাদেরকে আমরা আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি।
ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তরের কাজ চলছে। করোনার আগে দেশের অর্থনীতি এগিয়ে চলছিল। কিন্তু করোনায় অর্থনীতিতে ব্যাঘাত ঘটে। তবে প্রধানমন্ত্রীর সময় উপযোগী পদক্ষেপের কারণে অর্থনীতি সচল রয়েছে। দেশের আমদানি-রপ্তানি, রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। দেশে বিশ্বমানের অবকাঠামো তৈরি হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য নানা ধরনের কর অবকাশ সুবিধা দেয়া হয়েছে। ১০০টির মতো বিশেষ অর্থনৈতিক জোন তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে বিনিয়োগের এটি সর্বোকৃষ্ট সময় যাচ্ছে। স্বাধীনতার সময় থেকে ব্রিটেনের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক রয়েছে। স্বাধীনতার সময় আমাদের সহায়তা করছে। এজন্য ব্রিটেনের বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগে নানা সুযোগ-সুবিধা অগ্রাধিকার পাবে বলে জানান তিনি।
ম্যানচেস্টার সিটির মেয়র এন্ডো বার্নহাম বলেন, আমি বাংলাদেশের ভালো বন্ধু। ২০১৯ সালে প্রথম বাংলাদেশ যাই। সিলেটে বিনিয়োগের কথা চিন্তা করছি। আমরা বাংলাদেশের বিনিয়োগ শুরু করবো। বাংলাদেশের অনেক ব্যবসায়ী এখানে ব্যবসা করেন। তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে।
এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মোহাম্মদ রহমাতুল মুনিম বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নানান সুবিধা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ১৮ খাতে কর অবকাশ রয়েছে। শিল্প ও প্রতিষ্ঠান স্থাপনে কর সুবিধা রয়েছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য এখন উপযুক্ত সময়।
শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, গত এক দশকে দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এমনকি করোনার সময়েও আমাদের গ্রোথ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সব চেয়ে বেশি হয়েছে। দেশের পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলসহ বড় বড় প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। একইসঙ্গে মেধাবীরা নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে স্টার্ট আপ কোম্পানি পরিচালনা করছে। ফলে পুঁজিবাজার দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে। দেশের অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে সবচেয়ে বেশি রিটার্ন পাবেন। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করুন। বন্ড এখন সারাবিশ্বে জনপ্রিয় হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ট্রেজারি, সুকুক এবং গ্রিন বন্ডসহ বেশকিছু নতুন নতুন বন্ড আনা হচ্ছে। এগুলোতে বিনিয়োগ করলে অনেক অনেক বেশি রিটার্ন পাবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ অনুকূলে ও ব্যবসাবান্ধব সরকার রয়েছে বলে জানান তিনি।
Leave a Reply