সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ০৬:৩৭

খালেদা জিয়াকে বাসায় থাকতে দিয়েছি, এটাই কি বেশি নয়?

খালেদা জিয়াকে বাসায় থাকতে দিয়েছি, এটাই কি বেশি নয়?

শীর্ষবিন্দু নিউজ, ঢাকা / ৫৮
প্রকাশ কাল: বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২১

সাম্প্রতিক ইউরোপ সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করেন। ডিজেল, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতে সরকার বছরে ৫৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্ন রেখেছেন সরকার আর কতো ভর্তুকি দেবে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এই প্রতিক্রিয়া জানান।

লিখিত বক্তব্যে সফরের বিস্তারিত তুলে ধরার পর প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, তিনি নির্বাহী ক্ষমতাবলে খালেদা জিয়াকে বাসায় থাকার ব্যবস্থা করেছেন। বাকিটা এখন আদালতের বিষয়। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংঘাত সহিংসতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অতীতের বিভিন্ন বিষয় সামনে এনে বলেন, যারা সংঘাত সহিংসতা সৃষ্টি করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এবং হবে।

খালেদা জিয়াকে বিদেশ নেয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বাসায় থাকতে দিয়েছি, এটাই কি বেশি নয়? আপনাকে যদি কেউ হত্যার চেষ্টা করতো, আপনি তাকে গলায় ফুলের মালা দিয়ে নিয়ে আসতেন?’

তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘আপনার পরিবারকে যদি কেউ হত্যা করতো, আর সেই হত্যাকারীকে যদি কেউ বিচার না করে পুরস্কৃত করে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিতো, তার জন্য আপনি কি করতেন? প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রেনেড হামলার পর খালেদা জিয়া বললেন, আমি নাকি ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলাম।

কোটালিপাড়ায় বোমা যখন পুঁতে, এর আগে তার বক্তব্য কি ছিল? শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা, বিরোধীদলীয় নেতাও হতে পারবে না। ভেবেছিল মরেই তো যাব। মারে আল্লাহ, রাখে কে? আমার বেলায় হচ্ছে, রাখে আল্লাহ, মারে কে। তারপরও আবার খালেদা জিয়ার জন্য এত দয়া দেখাতে বলেন?

কেউ এই প্রশ্ন করলে আমার মনে হয় অন্তত একটু লজ্জা হওয়া উচিত। তিনি বলেন, আমরা অমানুষ নই। অমানুষ নই দেখেই আমার এক্সিকিউটিভ অথরিটি দিয়ে তাকে বাসায় থাকার, চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। বাকিটা আইনগত ব্যাপার। তারপরও দুর্নীতি করে দেশটাকে একেবারে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। গ্রেনেড হামলায় আমাদের এতজন আহত হন, ২২ জন মারা যান, সংসদে বিষয়টি নিয়ে একদিনও আলোচনা করতে দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করতে পারিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, এত বড় অমানবিক যে, তাকেও আমি মানবতা দেখিয়েছি। আমার হাতে যেটুকু পাওয়ার, সেটুকু আমি দেখিয়েছি। আর কত চান, এখন সে অসুস্থ, এই আমি বললাম না, রাখে আল্লাহ মারে কে; মারে আল্লাহ রাখে কে। সেটিই মনে করে বসে থাকুন। এখানে আমার কিছু করার নেই। আমার যতটুকু করার আমি করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের প্রতি দায়িত্ব সম্পর্কে আমরা সবসময় সচেতন। করোনার মধ্যে এমন কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ নাই, যাদের আমরা নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করি নাই। একবার না বার বার দিয়েছি। তিনি বলেন, আমাদের উপায়টা কি? উপার্জনটা কি? আমাদের কি সম্পদ আছে? উন্নত দেশে যান, খাদ্যের জন্য হাহাকার। সুপার মার্কেট খালি, খোদ লন্ডনের কথা বলছি। আমাদের দেশে তো খাদ্যের অভাব হয় নাই।

কর না দেয়া এবং কর ফাঁকি দেয়ার প্রবণতার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ট্যাক্সটা ফাঁকি দেয়ার দিকেই সবার নজর। তাহলে টাকাটা আসবে কোথা থেকে? তাহলে কি দেউলিয়া হয়ে যেতে হবে?” গ্যাসের সংকট মেটাতে সরকার এলএনজি আমদানি করছে এবং সেখানেও বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষের যাতে কষ্ট না হয়, খাবারের যাতে কষ্ট না হয়, সেদিকে আমাদের নজর আছে। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারের দাম থেকে শুরু করে সবকিছুর দাম কমিয়েছি। যে সার ৯০ টাকা ছিল, সেই সার ১৫-১৬ টাকায় আমরা পৌঁছে দিচ্ছি। প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা তাদেরকে সব রকম সহায়তা দিচ্ছি।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও জামায়াত মিলিটারি ডিক্টেটররা সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে, ক্ষমতায় বসে এসব দল তৈরি হয়েছে। তারা ক্ষমতার ছত্রছায়ায় তৈরি দল। ক্ষমতার বাইরে এদের টিকে থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ এদের শিকড়ের জোর নেই। এসব দল বাংলাদেশের কোনো উন্নয়ন করেনি। বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকুক- এটা তারা চায়নি। বাংলাদেশকে তারা আবার ব্যর্থ রাষ্ট্র করতে চেয়েছিল। আজ বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের অনেক সম্মান। অনেক মর্যাদা। এটা তাদের কাছে কখনও ভালো লাগবে না। যে কারণে তাদের ষড়যন্ত্রটা সবসময় হচ্ছে। এটা যদি আপনারা চোখে না দেখেন তাহলে আমার কিছু বলার নেই। তিনি বলেন, পঁচাত্তর সাল থেকে ৯৬ সাল পর্যন্ত বা ২০০৯ সাল পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় ছিল তারা কেন পারেনি এই দেশকে উন্নত করতে? পারেনি একটি কারণে তারা বাংলাদেশকে কখনও উন্নত করতে চায়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের যে উন্নয়ন, সারা বিশ্বে বাংলাদেশের একটা সম্মান, একটা মর্যাদা- এটা তাদের কাছে ভালো লাগবে না। আপনারা তো দেখেছেন যে, চলন্ত বাসে আগুন দিয়ে কীভাবে মানুষ পোড়ানো হয়েছে? ২০০১ সালে কীভাবে মেয়েদেরকে রেপ করা হয়েছে, কীভাবে মানুষের ঘরবাড়ি দখল হয়েছে। চোখ তুলে, হাত কেটে হত্যা করা হয়েছে। সেটা তো দেখেছেন? জিয়াউর রহমানের আমলে হয়তো অনেকে ছোট ছিলেন দেখতে পারেননি। সেই সময় মানুষকে যে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করা হয়েছে।

সরকার প্রধান বলেন, তারা চেষ্টা করে বাংলাদেশে সব সময় একটা গোলমাল লেগেই থাকুক। চেষ্টা তারা প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছে। এই দেশে জঙ্গিবাদের সৃষ্টি কে করেছে? কখন হয়েছে? বাংলা ভাই কখন সৃষ্টি হয়েছে? এটা তো বিএনপি’র আমলেই। আমরা আসার পর জঙ্গিবাদ দমন করেছি। তিনি বলেন, এখন তারা ইলেকশন করে না। এরা ইলেকশন নিয়ে প্রশ্ন তোলে কীভাবে? জিয়াউর রহমান কি ইলেকশন করেছিল? শেখ হাসিনা বলেন, তারা ২০১৪ সালে নির্বাচন করবে না। নির্বাচন করবে কীভাবে? ইলেকশন করতে হলে যে সাংগঠনিক শক্তি দরকার হয় সেটা যখন নেই তখন তারা নির্বাচন করবো না বলে নিজেদের দৈন্যতা প্রকাশ করে। তারা জানে, আওয়ামী লীগ তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত উন্নয়ন করেছে, সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়, আওয়ামী লীগ জিতে যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব অর্থ চুরি করে নিয়ে বিদেশে আরাম-আয়েশে দিন কাটাচ্ছে। সামান্য কিছু টাকা আমরা উদ্ধার করে এনেছি সেটা খালেদা জিয়ার এক ছেলের টাকা। আর বাকিটা তো আছে। তারা সেখানে ভালোভাবে ব্যবহার করছে। বাংলাদেশের মধ্যে কীভাবে গোলমালটা পাকাবে। আজ  এখানে বোমা হামলা, কালকে ওখানে মন্দির ভাঙা, মন্দিরের ওপরে কোরআন শরীফ রাখার এই সব কারা নিয়ন্ত্রণ করে? তথ্য বের হচ্ছে। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা সেগুলো দেখেন। আর সাংবাদিকরা যদি প্রশ্ন করেন ষড়যন্ত্র কোথায় তা আর যাবো কোথায়? আপনারা কী চান? যে এই দেশে ইলেকশন না হোক? এই দেশের ইলেকশন প্রশ্নবিদ্ধ থাক? এই দেশে এই যে উন্নয়নগুলোর কাজ থমকে যাক? থমকে যে যায় সে তো দেখেছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত দেশের ৮ থেকে ৯ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ২৫ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন কেনা হয়েছে। ভ্যাকসিন নিয়ে আমাদের কোনো অসুবিধা হবে না। কেউ ভ্যাকসিন থেকে বাদ যাবে না। তিনি বলেন, ভ্যাকসিন অনেক দাম দিয়ে কিনতে হয়। অনেক দাম দিয়ে ২৫ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন কিনেছি। শুধু করোনার টেস্ট বাবদ খরচ হয় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে ৮-৯ কোটি মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৪ কোটি মানুষকে ডাবল ডোজ ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। বাকিদের প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে। পেশাজীবী, শ্রমিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাইকে টিকা দেয়া হচ্ছে। কেউ ভ্যাকসিন থেকে বাদ যাবে না।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থিতা উন্মুক্ত করে দেয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে সহিংসতার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘মুশকিল হচ্ছে এখানে আমরা শুধু চেয়ারম্যান পদে প্রতীক দিচ্ছি, কিন্তু মেম্বার পদে কোনো প্রতীক নেই। তাদের কোনো প্রতীক থাকে না। আপনারা যদি ঘটনাগুলো দেখেন, মেম্বারদের মধ্যেও গোলমাল, তাদের মধ্যেও কাটাকাটি। শুধু যে চেয়ারম্যান প্রতীক দিচ্ছি দেখেই মারামারি তা কিন্তু না। এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সংঘাত-সহিংসতায় এরইমধ্যে ৪৬ জনের প্রাণহানি ঘটার বিষয়টি তুলে ধরে একজন সাংবাদিক বলেন, অনেক ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় সহিংসতা বাড়ছে বলে কেউ কেউ মত দিচ্ছেন। এ অবস্থায় দলীয় প্রতীক বরাদ্দ না করে আওয়ামী লীগ প্রার্থিতা উন্মুক্ত করার মতো পদক্ষেপ নেবে কি না।

উত্তর দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে নির্বাচনী সহিংসতা অনেক কমিয়ে আনা হয়েছে, তবে এটা ঠিক, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা আগেও হয়েছে। এখনও হোক- সেটা চাই না। একটা হানাহানি, ভোট দিতে গিয়ে মানুষের প্রাণ যাবে- এটা কখনও গ্রহণযোগ্য নয়।

বিএনপিসহ বিভিন্ন দল দলীয়ভাবে নির্বাচন না করলেও তাদের নেতারা যে অনেক জায়গায় স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছেন, সে বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “তৃণমূলে দেখা যায় একজনকে নমিনেশন দেয়া হয়েছে, অনেকের আকাঙ্ক্ষা থাকে। নির্বাচন তো সবাই করছে, আমরা যেমন আওয়ামী লীগের নামে করছি, বিএনপি নাম ছাড়া করছে, অন্যান্য দলও করছে। এই যে হানাহানি মারামারি, কোথায় কোথায়, কাদের মধ্যে হচ্ছে- সেটা আপনারা দেখেন। আমাদের দলের মধ্যে যেগুলো হবে, আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো।

শুধু ব্যবস্থা না, আমরা যাদের মনোনয়ন দিয়েছি, তাদের বাইরে গিয়ে যারা নির্বাচন করেছে, যতই ভালো প্রার্থী হোক যারাই দলের বাইরে গিয়ে কাজ করেছে, আমরা কিন্তু যথাযথ ব্যবস্থা নেবো। আমরা কিন্তু ছাড়বো না। কিন্তু এদের (আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী) বাইরে যারা নির্বাচনে হানাহানি করল, এখন তো তারা দলীয়ভাবে নির্বাচনে আসছে না, সে দিক দিয়ে তারা চালাকিটা ভালোই করলো। নির্বাচনও করছে মারামারিও করছে। উস্কেও দিচ্ছে, আবার বিজয়ীকে সমর্থন দিয়ে আরেকটা মারামারি বাধিয়ে দিচ্ছে। কাজেই সেটাও দেখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো প্রাণহানি হোক, এটা আমরা কখনও চাই না। এটা হওয়া উচিত না। এটা যেখানে যেখানে ঘটেছে সেখানে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমাদের যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, সেটা কিন্তু আমরা রক্ষা করে যাচ্ছি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের হেরে যাওয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ না করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের খেলা নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আপনারা এতো হতাশ হন কেন? আমি এই হতাশা আর দেখতে চাই না। শেখ হাসিনা বলেন, কয়েকটা খেলা তো তারা (ক্রিকেট দল) চমৎকার খেলেছে। কখন যে ব্যাটে বলে ঠিকমতো লাগবে, ছক্কা হবে তাতো বলা যায় না। সবসময় সব অংক মেলে না। এটাও বাস্তব কথা।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, আমরা যেটা আশা করেছিলাম, আমাদের খেলোয়াড়রা তা খেলতে পারেনি। তাই বলে আমি কিন্তু আমাদের ছেলেদের কখনও হতাশ করিনি। আমি তাদের বলি, আরও ভালো খেল। আরও মনোযোগী হও, আরও অনুশীলন করো। করোনার কারণে তারা অনুশীলন করতে পারেনি। তারপরও বাংলাদেশ আজ বিশ্বকাপে খেলছে, বেশ কয়েকটি দেশকে হারাতে পেরেছে- এটাই তো বড় কথা।

সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ, সারসহ বিভিন্ন খাত মিলিয়ে সরকারকে বছরে ৫৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্ন রেখেছেন- আর কতো টাকা ভর্তুকি সরকার দিতে পারবে? ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বাসের ভাড়া বেড়েছে এবং বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে জানিয়ে একজন সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, ডিজেলের দাম কমানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের আছে কিনা?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বিদেশ থেকে ডিজেল কিনে আনতে হয়। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে বলেই দেশেও দাম বাড়াতে হয়েছে। কিন্তু তারপরও অনেক খাতে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। কেবল জ্বালানি তেলেই ২৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়ার তথ্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কতো টাকা ভর্তুকি দেবো? বাজেটের সব টাকা তাহলে ভর্তুকিতে দিয়ে দেবো। তাহলে কিন্তু সব উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে। এটাও দেখতে হবে। কারণ উন্নয়নের টাকাটাই তো তাহলে চলে যাবে ভর্তুকি দিতে।

বাস ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারপ্রধান বলেন, স্বাভাবিকভাবে যখন তেলের দাম বেড়েছে, তারাও একটু সুযোগ নিয়েছে দাম বাড়ানোর। সেই দাম বাড়ানো নিয়ে তাদের যে দাবি ছিল, আমি কিন্তু বিদেশে ছিলাম ঠিক, দেশ থেকে দূরে ছিলাম তা কিন্তু না। এখন ডিজিটাল যুগ, কাজেই আমার সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ ছিল, আলোচনা হয়েছে। তারপর তাদের সঙ্গে অনেক বৈঠক করে, আলোচনা করে একটা সমঝোতায় নিয়ে আসা হয়েছে। বাসের ভাড়া একটা যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে। এরপর সাংবাদিকরা আরও প্রশ্ন করতে চাইলে সংবাদ সম্মেলন শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি আর প্রশ্নের উত্তর দেবো না। ধন্যবাদ সবাইকে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

All rights reserved © shirshobindu.com 2021