রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৮:৪২

ভারত সরকারের অর্থায়নে সিলেটে বাস্তবায়িত ৩টি প্রকল্পের উদ্বোধন

ভারত সরকারের অর্থায়নে সিলেটে বাস্তবায়িত ৩টি প্রকল্পের উদ্বোধন

শীর্ষবিন্দু নিউজ, সিলেট / ২৯২
প্রকাশ কাল: শনিবার, ১১ জুন, ২০২২

ভারত সরকারের অর্থায়নে সিলেট নগরীতে বাস্তবায়িত ৩টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এমপি।

সিলেটের উন্নয়নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন খুবই আন্তরিক উল্লেখ্য করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‌‌‌সিলেট আমাকে আকৃষ্ট করে। এই সিলেটের সার্বিক উন্নয়নে মোমেন সাব খুবই আন্তরিক। তিনিই খুবই চমৎকার মানুষ। তাঁর ভাই (প্রয়াত আবুল মাল আব্দুল মুহিত) যেভাবে একজন আলোকিত মানুষ ছিলেন। দেশের গর্ব ছিলেন, ঠিক তেমনভাবে মোমেন সাহেবও একজন গুণী মানুষ। আমার ক্ষমতা অনুযায়ী সিলেটবাসীর জন্য বরাদ্ধ দিবো।

তিনি শনিবার (১১ জুন) সকালে নগরের ধোপাদিঘিপাড়ে ‘বিউটিফিকেশন অব ধোপাদিঘি’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এলজিআরডি মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, সরকারের ধারাবাহিক ও সমতার উন্নয়নে সিলেট সিটি কর্পোরেশন যথাযথ ভূমিকা রাখছে। সময়মতো প্রকল্প কাজ বাস্তবায়ন, দূরদর্শি, টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ফলে সিলেট মহানগরবাসী নানা সুবিধা পাচ্ছেন।

মন্ত্রী বলেন, সরকার উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় রাজনৈতিক বিবেচনা করে না। সারা দেশে সমতা ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়ন ধারাবাহিকতা চলমান রয়েছে। সিলেটের উন্নয়নে সরকারের আন্তরিকতার কথাও বলেন তিনি। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সিলেটের রাস্তা-ঘাট মেরামতে বিশেষ সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

ভারত সরকারের অর্থায়নে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ধোপাদিঘি, ক্লিনার কলোনি ও চারাদীঘিরপাড় স্কুলের উদ্বোধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশের প্রতিবেশী বন্ধুপ্রতীম দেশ। প্রতিবেশি বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে ভারত বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশীদার হওয়ায় আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি বলেন, সিলেটে ভারত সরকারের এই প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্ক আরো গভীর হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিবেশি রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সাথে বাংলাদেশে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। তিনি সময়মতো প্রকল্প সমূহের বাস্তবায়ন হওয়ায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে ধন্যবাদ জানান।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সভাপতির বক্তব্যে বলেন, সিলেটের উন্নয়নে ভারত সরকারের এই প্রকল্পসমূহ মাইলফলক হয়ে থাকবে। ধোপাদীঘি উদ্ধার ও সংরক্ষণ সংস্কারের ফলে সিলেট মহানগরের দীঘির শহরের অন্যতম স্মারক রক্ষা পেল। সিসিক মেয়র, সিলেটের উন্নয়নে অংশীদার হওয়া ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মিসবাহ উদ্দিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রকল্প সংক্ষেপ তুলে ধরেন সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান।

কাশমির রেজা ও ফাতেমা রশিদ সাবা’র উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই কোরআন তেলাওয়াত করেন শেখঘাট সমজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মো. ছাদিকুর রহমান, গীতা পাঠ করেন শ্রী সুধাময় চক্রবর্তী, বাইবেল পাঠ করেন ফাদার ডিকন নিঝুম সাংমা এবং ত্রিপিটক পাঠ করেন শ্রী সংঘানন্দ থেরো।

অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- কাউন্সিলর মোহাম্মদ তৌফিক বকস, কাউন্সিলর সালেহ আহমদ সেলিম, কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান, কাউন্সিলর আজম খান, কাউন্সিলর ইলিয়াসুর রহমান, কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খান, কাউন্সিলর রাশেদ আহমদ, কাউন্সিলর রকিবুল ইসলাম ঝলক, কাউন্সিলর আব্দুল মোনিম, কাউন্সিলর সিকন্দর আলী, কাউন্সিলর আব্দুল মুহিত জাবেদ. কাউন্সিলর তারেক উদ্দিন তাজ, এসএম শওকত আমীন তৌহিদ প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব নূরে আলম সিদ্দীকি, সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার ড. মোশারফ হোসেন, সিলেট জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান, ডিআইজি প্রিজন কামাল হোষেন, সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ভারত সরকারের অর্থায়নে ২৪ কোটি ২৮ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নগরীর ধোপাদীঘির তীর সংরক্ষণ, কাষ্টঘরে ৬ তলাবিশিষ্ট ক্লিনার কলোনি ও চারাদীঘিরপাড় মজলিস আমীন স্কুলের ৬ তলাবিশিষ্ট ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

জানা যায়, একসময় সিলেট পুরনো কারাগারের পাশের দীঘিটিতে স্থানীয় ধোপারা কাপড় ধৌত করতেন। এ থেকেই দীঘিটির নাম ধোপাদিঘী আর এলাকার নাম হয় ধোপাদিঘীরপাড়। একপর্যায়ে দীঘির পাড় দখল করে প্রভাবশালীরা নির্মাণ করে স্থাপনা। নগরের ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ এই দীঘিটি সংরক্ষণ ও সৌন্দর্য্যবর্ধনের লক্ষ্যে ভারত সরকারের অর্থায়নে ‘বিউটিফিকেশন অব ধোপাদিঘী’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। প্রকল্পের অধীনে দিঘী খনন, চারপাশে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণ, রেলিং ও লাইটপোস্ট বসানোর উদ্যোগ নেয়া হয়।

প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ২০১৮ সালের শেষদিকে ধোপাদীঘি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালায় সিটি করপোরেশন। ২০২০ সালের জুনে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারনে কাজে ধীরগতি দেখা দেয়। ২০২০ সালের ফেব্রয়ারিতে পুরোদমে শুরু হয় প্রকল্পের কাজ। প্রকল্পে ভারত সরকার ২১ কোটি ৮৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা অর্থায়ন করে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮  
All rights reserved © shirshobindu.com 2022