বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ০৮:২১

ইংল্যান্ডে দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনার নতুন ধরন ইজি ৫.১

ইংল্যান্ডে দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনার নতুন ধরন ইজি ৫.১

ইংল্যান্ড জুড়ে শুরু হয়েছে করোনার নতুন রূপ ইজি ৫.১ অথবা এরিসের উপদ্রব। একের পর এক করোনা আক্রান্তের শরীরে করোনার এই নতুন রূপ চিহ্নিত হচ্ছে। যা নিয়ে চিন্তিত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রকোপ একেবারে কমে গেলেও এটির নতুন একটি ধরন আবারও ‍উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ‘এরিস’ নামের এ ভ্যারিয়েন্টটি যুক্তরাজ্যে বেশ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

গত মে মাসেই ইরিস রূপের চিহ্নিত করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু গত কয়েক দিনে ইংল্যান্ডে করোনার এই নয়া রূপে আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ইংল্যান্ডে ১০ জন করোনা আক্রান্ত পাওয়া গেল এক জনের শরীরে ইরিস রূপ মিলছে। এই নয়া রূপের উপদ্রবে হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যাও বেড়ে চলেছে।

দেশটির সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, বিশেষত বয়স্করাই করোনার এই নয়া রূপে আক্রান্ত হচ্ছেন। এবং তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে তাঁরা করোনা টিকা নেওয়া সত্ত্বেও করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মত, এই নয়া রূপের উপর পর্যবেক্ষণ জরুরি হয়ে উঠেছে। ওমিক্রন গোত্রের এই ভাইরাস ওই রূপের মতোই দ্রুত ছড়াচ্ছে বলে জানাচ্ছেন তাঁরা। বিশেষজ্ঞরা এ-ও জানাচ্ছেন, এই প্রেক্ষিতে ‘বুস্টার শট’ নেওয়া খুব জরুরি।

এরিস আক্রান্তদের উপসর্গ আলাদা কিছু নয়। সর্দি, হাঁচি-কাশি, হালকা জ্বর এবং মাথা ঘোরা হল করোনার নয়া রূপে আক্রান্তদের সাধারণ উপসর্গ। এই রূপ কতটা মারাত্মক, তা এখনও গবেষণাসাপেক্ষ বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরিস মূলত করোনাভাইরাসের ইজি.৫.১ ভ্যারিয়েন্ট, যা এর পূর্বসূরী ওমিক্রন থেকে এসেছে।

ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএইচএসএ) বলছে, মূলত সংক্রমণের উচ্চ হারের কারণেই ‘এরিস’ ব্রিটিশ প্রশাসনের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেশটিতে মাত্র ৩ সপ্তাহের মধ্যে করোনায় আক্রান্তদের ১৪ শতাংশ এ ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমিত হয়েছেন।

এনডিটিভি বলছে, চলতি বছরের জুলাই মাসের শুরু থেকেই যুক্তরাজ্যে দ্রুত হারে বাড়তে শুরু করে করোনার সংক্রমণ। প্রতি নয়জনের মধ্যে একজন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে থাকে।

ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি বলছে, সম্প্রতি চার হাজার ৯৩৬ জন ফুসফুসের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তাদের মধ্যে করোনায় আক্রান্ত ৫ দশমিক ৪ শতাংশের জন্য বিশেষ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্টের মতে, করোনার নতুন ধরন এরিসের পাঁচটি সাধারণ উপসর্গ রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- নাক দিয়ে পানি পড়া, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, হাঁচি ও গলা ব্যথা।

ইউকেএইচএসএর ইমিউনাইজেশন প্রধান ড. মেরি রামসে বলেন, আমরা এ সপ্তাহের প্রতিবেদনে করোনার সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি দেখতে পাচ্ছি।

এছাড়া বিশেষ করে, বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তির হারও কিছুটা বেড়েছে। তবে হাসপাতালে ভর্তির সামগ্রিক পরিমাণ এখনো কম ও আইসিইউতে ভর্তির সংখ্যাও বাড়েনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস বলেছেন, যদিও ভ্যাকসিন নেওয়া থাকলে ও আগে করোনায় আক্রান্ত হলে মানুষ ভাইরাসটির নতুন ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে ভালো যুদ্ধ করতে পারে। তারপরও সংক্রমণ মোকাবিলায় জারি করা বিধিনিষেধগুলো শিথিল করা উচিত নয়।

উল্লেখ্য, গত মাসে যুক্তরাজ্যে করোনার এ ধরনটি প্রথম শনাক্ত হয়। গত ৩ জুলাই নতুন এ ভ্যারিয়েন্টের খোঁজ পাওয়া যায়।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2024