বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ০৯:৫৯

ব্রিকস মূদ্রা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সন্দেহ প্রকাশ

ব্রিকস মূদ্রা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সন্দেহ প্রকাশ

পৃথক ব্রিকস মুদ্রা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। কাতার ভিত্তিক আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের সিনিয়র ভিজিটিং ফেলো শিরলি জি ইউ সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ব্রিকস মুদ্রা আনতে গেলে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা জরুরি। আবার সেসব প্রতিষ্ঠানের মান বজায় রাখার বিষয়টিও মনে রাখতে হবে। এগুলো করাটা বেশ কঠিন। তবে তা অসম্ভব নয়।

রাশিয়া ও ইউরেশিয়ার অর্থনীতি নিয়ে কাজ করা ম্যাক্রো-অ্যাডভাইসরির বিনিয়োগ বিশ্লেষক ক্রিস ওয়েফার সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ‘অনেক সদস্য দেশের সরকারে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা মনে করেন যে ব্রিকস মুদ্রার কোনো সম্ভাবনা নেই। এমনকি, সুদূর ভবিষ্যতেও।

তার মতে, ডলারের বিকল্প হিসেবে ব্রিকস মুদ্রার ভাবনা যেন ‘অলীক কল্পনা’। তিনি একে ‘অবাস্তব’ বলেও মন্তব্য করেন। এই বিষয়ে জোটের ৫ প্রধান দেশের মধ্যেই মতবিরোধ আছে বলেও জানান তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাডভান্সমেন্ট অব স্কলারশিপের অধ্যাপক ড্যানি ব্র্যাডলো মনে করেন, যদি ব্রিকস একক মুদ্রা চালু করে, তাহলে সেখানে জোটের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশটিই প্রাধান্য পাবে। সেই দেশটি হচ্ছে চীন।

তার প্রশ্ন, ছোট দেশগুলো কি তাদের অর্থনীতি বা অর্থনৈতিক নীতিমালা চীনের হাতে সঁপে দেবে? ব্র্যাডলো বলেন, ‘এটি অনেক ঝুঁকি তৈরি করবে। দেশগুলোর স্বাধীনতা সীমিত করে দেবে। যা কারো কাছেই হয়তো গ্রহণযোগ্য হবে না।

দক্ষিণ আফ্রিকার ব্রিকস রাষ্ট্রদূত অনিল শুকলাল আল জাজিরাকে জানান, আসলে ডলারকে সরিয়ে দেওয়া নয়, সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্ববাসীকে নতুন কিছু দেওয়া। তিনি বলেন, ‘ব্রিকস পশ্চিমবিরোধী কোনো জোট নয়। আমরা পশ্চিমের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করছি না। আমরা ডলারের বিরুদ্ধেও নই। তবে ডলার বিশ্বব্যাপী যে আধিপত্য বজায় রেখেছে আমরা এর বিরুদ্ধে।

গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থমন্ত্রী এনোক গডনংওয়ানার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানায়, ব্রিকস মুদ্রার বিষয়টি কখনোই আলোচনায় ছিল না। মন্ত্রী গডনংওয়ানা সংবাদমাধ্যমটিকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ব্রিকস মুদ্রার বিষয়টি নিয়ে কেউ কখনই আলোচনা করেননি। এমনকি, অনানুষ্ঠানিকভাবেও তা আলোচনায় আসেনি।

তিনি আরও বলেন, একটি একক মুদ্রার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রয়োজন। নিজ নিজ দেশের মুদ্রানীতি বিসর্জন দেওয়াও দরকার। আমার মনে হয় না এখন কোনো দেশ এসব করতে প্রস্তুত।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2024