বুধবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৩, ০২:৩৩

দেশের নাম নিয়ে নতুন বিতর্কে মোদির সরকার

দেশের নাম নিয়ে নতুন বিতর্কে মোদির সরকার

শীর্ষবিন্দু নিউজ, দিল্লি / ৭৫
প্রকাশ কাল: বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

সরকারি আমন্ত্রণপত্রে দেশের নাম ভারত হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। এই আমন্ত্রণপত্র প্রকাশ হওয়ার পর ভারতজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। দেশের নাম ‘ইন্ডিয়া’ নাকি ‘ভারত’ হবে এ নিয়ে চলছে তর্কবিতর্ক।

কিছু দিন আগে কংগ্রেসসহ ২৬টি বিরোধী দল মিলে জোটের নতুন নাম ‘ইন্ডিয়া’ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যেই রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণপত্রে দেশের নাম ‘ভারত’ লেখা প্রকাশিত হলে শুরু হয় বিতর্ক। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে।

রাজধানী দিল্লিতে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন চলবে আগামী ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর। আগত অতিথিদেরকে রাষ্ট্রপতি ভবনে নৈশভোজের আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। তাতে লেখা হয়েছে ‘প্রেসিডেন্ট অব ভারত’।

একই দিনে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একজন সিনিয়র মুখপাত্র এক্সে (টুইটার) বলেছেন, মোদি ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ায় অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান)-এর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন।

রাষ্ট্রপতির এই চিঠি সামনে আসতে না আসতেই বিজেপি শিবিরের উল্লাস শুরু হয়েছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশ্বর্মা লিখেছেন, ‘রিপাবলিক অব ভারত’। বিজেপি নেতারা বলতে শুরু করেছেন, ‘জয় ভারতের জয়’ বিজেপির শরিক দলের নেতারাও বলছেন, ‘দেশের নামতো ভারত। এতে আপত্তি কোথায়?’

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত ‘ইন্ডিয়া’ নামেও পরিচিত। সংবিধানে ইন্ডিয়া ও ভারত দুটো নাম রয়েছে। এছাড়া হিন্দুস্তান (উর্দুতে হিন্দুদের দেশ) দেশটির আরেকটি নাম। এই তিনটি নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ও জনসাধারণের কাছে জনপ্রিয়। তবে বিশ্বজুড়ে ‘ইন্ডিয়া’ সবচেয়ে বেশি পরিচিত নাম।

মোদি সরকারের সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন, হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিজেপি ‘ইন্ডিয়া’-এর বদলে ‘ভারত’ নাম প্রবর্তন করার পরিকল্পনা করছে।

‘ভারত’ একটি সংস্কৃত শব্দ। এই নাম প্রায় দুই হাজার বছর আগে লেখা ধর্মগ্রন্থে পাওয়া যায়। এটি দ্বারা বিস্তৃত-অস্পষ্ট অঞ্চলকে বোঝায়। ভারতবর্ষ আজকের ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে অনেক দূর বিস্তৃত ছিল।

বিজেপি ইতোমধ্যে অনেক শহর ও স্থানের নাম পরির্বতন করেছে। মুঘল ও ঔপনিবেশিক আমলের শহর ও স্থানের নাম পরিবর্তন করেছে। গত বছর নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি প্রাসাদে মুঘল উদ্যানের নাম পরিবর্তন করে অমৃত উদ্যান করা হয়েছে।

সমালোচকরা বলেছেন, এই পরির্বতনের মাধ্যমে ভারতীয় ইতিহাস থেকে মুঘলদের মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। মুঘলরা প্রায় ৩০০ বছর ধরে উপমহাদেশ শাসন করেছিলেন।

দর্শনের অধ্যাপক ও উত্তর প্রদেশের লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর রূপ রেখা ভার্মার বলেন, এই  বিতর্কের মূলে রয়েছে মোদি সরকারের বাড়াবাড়ি।

ভার্মা তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সিকে বলেন, সংবিধান ও আইনের প্রতি অবজ্ঞা করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের আদেশ সরকারের পছন্দ না হলে সেটি পরিবর্তন করা হয়। এরপর কী হবে আমি বলতে পারছি না। তবে আমি মনে করি, বিরোধীরা যে জোট গঠন করেছে, তার কারণে এখন ‘ইন্ডিয়া’ নামটিও মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।

‘ইন্ডিয়া’ নাম বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে বিজেপিকে সতর্ক করেছে বিরোধীরা। কংগ্রেসের আইনপ্রণেতা শশী থারুর এক্সে বলেছেন, ভারতকে ‘ইন্ডিয়া’ বলতে সাংবিধানিক কোনও আপত্তি নেই। এটি দেশের দুটি সরকারি নামের মধ্যে একটি। আশা করি, সরকার এতটা বোকা হবে না যে ‘ইন্ডিয়াকে’ সম্পূর্ণরূপে বাতিল করে দেবে। বিশ্বে এই নামের ব্র্যান্ড মূল্য রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা এই দুটি নামই ব্যবহার করতে পারি।

আবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ নাম রাখায় ওরা দেশের নাম পাকাপাকিভাবে ভারত করতে চাইছে। কিন্তু এবার যদি জোটের নাম ‘ভারত’ রাখা হয়, তাহলে ওরা কী করবে? দেশের নাম বদলে বিজেপি করে দেবে?”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, আমরা সবাই ‘ভারত’ বলি। এতে নতুন কী আছে? কিন্তু ‘ইন্ডিয়া’ নামটা বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত। হঠাৎ কী হলো যে, দেশের নাম পরির্বতন করতে হবে?

বিজেপির যুক্তি ‘ইন্ডিয়া’ নামটির সঙ্গে দেশের ঔপনিবেশিক অতীত সঙ্গে জড়িত। সংসদ সদস্য নরেশ বনসাল বলেন, ‘ইন্ডিয়া’ নামটি ঔপনিবেশিক দাসত্বের প্রতীক। এই নাম সংবিধান থেকে মুছে ফেলা উচিত। বানসাল সংসদীয় অধিবেশনে বলেছিলেন, ব্রিটিশরা ‘ভারত’ নাম পরিবর্তন করে ‘ইন্ডিয়া’ করেছে। আমাদের দেশ হাজার বছর ধরে ‘ভারত’ নামে পরিচিত। ‘ইন্ডিয়া’ নামটি ঔপনিবেশিকরা দিয়েছিল।

ভারত সরকার ১৮-২২ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্টের একটি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করেছে। কিন্তু কোনও এজেন্ডা ঘোষণা করেনি। ফলে অনুমান করা হচ্ছে, এই অধিবেশনে  দেশের নাম পরিবর্তন করা হবে।

তথ্যমন্ত্রী অরুণাগ ঠাকুরের মতো কিছু সরকারি কর্মকর্তা বলছেন, এটি বিরোধীদের ছড়ানো একটি ‘গুজব’।

নয়াদিল্লিভিত্তিক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন থিংক ট্যাংকের ভিজিটিং ফেলো রাশেদ কিদওয়াই বলেন, ভারত-ইন্ডিয়া ইস্যু রাজনৈতিক ও নির্বাচনি উদ্বেগের কারণ।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2023