অনেকটা উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে ব্রিটেনের বাংলা মিডিয়ায়। আজ রোববার অনুষ্টিত হচ্ছে ব্রিটেনের বাংলা মিডিয়ার সবচেয়ে বড় প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও সাধারণ নির্বাচন।
দুই বছর পর এই নির্বাচনকে ঘিরে মিডিয়াপাড়ায় শুরু হয়েছে এক বিশাল আনন্দযজ্ঞ। দু’টি প্যানেলে মোট ১৫ টি পদে ৩০ জন ও স্বতন্ত্র হিসেবে একজন সহ মোট ৩১ জন প্রার্থী এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জুবায়ের-তাইসির-মুরাদ এলায়েন্স ও নাহাস-মুসলেহ-সালেহ এলায়েন্স এবার শক্তভাবে তাদের নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন। একই সাথে একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী ফটো সাংবাদিক জি আর সোহেলও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচণী জোর প্রচারণা চালিয়েছেন।
জমতে থাকে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা। লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন নিয়ে বাঙ্গালী কমিউনিটিতেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। আজ রাতেই মধ্যে জানা যাবে কারা হচ্ছেন সাংবাদিকদের নেতা।
ক্লাবের অনেকের সাথে কথা বলে এই প্রতিবদেক জানতে চেষ্টা করেছেন, আসলে কারা নির্বাচিত হতে পারেন। কাদের পক্ষেই বা সাধারণ ভোটাররা। এছাড়া ধারনা করা হচ্ছে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দু’টি প্যানেলের পরিবর্তে তৃতীয় একটি শক্তি সামনে আসতে পারে।
এবার সভাপতি পদে প্রতিদ্ধন্দিতা করছেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জুবায়ের। দু’জনই ক্লাব সদস্যদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়। সমানে সমান হেভিওয়েট এই দুই প্রার্থীর মধ্যে থেকে কে হবেন সভাপতি? এটাই এখন ক্লাব সদস্যদের মূল আলোচ্য বিষয়।
ক্লাবে সাধারণ সদস্যদের মাঝে ইর্ষনীয় জনপ্রিয়তা রয়েছেন মোহাম্মদ জুবায়েরের। এছাড়া ইয়াং এনার্জেটিক হিসেবে এবং কোষাধক্ষ ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বপালনকালে বেশ কিছু ডায়নামিক পরিবর্তন নিয়ে আসায় মোহাম্মদ জুবায়ের কিছুটা এগিয়ে থাকলেও শেষ মুহুর্তে খেলা দেখাতে পারেন ক্লাবের প্রতিষ্টাতাদের অন্যতম নাহাস পাশা। ‘সিম্পেতি’ ভোট নিয়ে তিনিই হতে পারেন নতুন সভাপতি।
সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাপ্তাহিক দেশ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ, সাপ্তাহিক জনমত’র সহ সম্পাদক মুসলেহ উদ্দিন আহমদ ও ফটো সাংবাদিক জিআর সোহেল। এই তিনজন প্রার্থীর মাঝে কে সেক্রেটারী হোন এটাই এখন টক অব দ্য মিডিয়া পাড়া হয়ে গেছে। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক তাইসির মাহমুদ এখানে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও জিআর সুহেল যদি বেড়িয়ে আসেন তবে অবাক হবার কিছু থাকবে না।
ট্রেজারার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলা পোষ্টের হেড অব প্রোডাকশন ও ক্লাবের বর্তমান ট্রেজারার সালেহ আহমেদ ও আইঅন টিভির চীফ রিপোর্টার আব্দুল কাদির চৌধুরী মুরাদ। এ পদ এবারও নিজেদের দখলে রাখতে মরিয়া নাহাস-মুসলেহ-সালেহ টিম। তবে চৌধুরী মুরাদ এবার ক্যাম্পেইনে বেশ সক্রীয় থাকলেও সালেহ আহমদ ট্রেজারার পদে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
সিনিয়র সহ সভাপতি পদে বাংলা পোষ্ট সম্পাদক ব্যারিষ্টার তারেক চৌধুরী ও মোস্তাক আলী বাবুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দু’জনই সাধারণ সদস্যদের মাঝে শ্রদ্ধার পাত্র। তবে সাধারণ সদস্যদের সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগ মেইনটেইনের কারনে এবং বর্তমান সিনিয়র সহ সভাপতি হিসেবে তারেক চৌধুরীর বিজয় অনেকটা নিশ্চিত।
সহসভাপতি পদে বর্ষীয়ান সাংবাদিক রহমত আলী ও এটিএন বাংলার নিউজ এডিটর সাঈম চৌধুরীর লড়াইটা হবে সমানে সমান। দু’জনই দুই দিক থেকে জনপ্রিয়। তবে অনেকের মতে সাঈম চৌধুরীর বিজয় অনেকটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি পদে চ্যানেল এস’র সিনিয়র রিপোর্টার রেজাউল করীম মৃধা ও কিউ নিউজের ফাউন্ডার আব্দুল কাইয়ূম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দু’জনই সাধারন সদস্যের মাঝে বেশ জনপ্রিয় এবং দু’জনেই বর্তমান কমিটিতে রয়েছেন যথাক্রমে ইভেন্ট এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারী ও এসিস্ট্যান্ট ট্রেজারার হিসেবে। এ পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে। এখন দেখার বিষয় কে কার ভাগাড়ে কতোটি ভোট নিয়ে আসতে পারেন।
এসিস্ট্যান্ট ট্রেজারার পদে প্রার্থী হয়েছেন চ্যানেল এস’র সিনিয়র রিপোর্টার ইহ্রাহিম খলিল ও টপ নিউজের ফাউন্ডার সারোয়ার হোসেন। দু’জনই টিভি সাংবাদিক তবে এ দু’জনের মাঝে ইব্রাহিম খলিলের চান্স কিছুটা হলেও বেশী আছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। তবে সারেয়ার হোসেনও ছেড়ে কথা বলবেন না।
অর্গানাইজিং এন্ড ট্রেইনিং সেক্রেটারী পদে ব্রিট বাংলা’র এক্সিকিউটিভ এডিটর এমরান আহমদ ও এনটিভি’র চীফ রিপোর্টার আকরাম হোসেনের মাঝে শক্ত প্রতিদ্ধন্ধীতা হচ্ছে। শেষ মুহুর্তে ভোটারদের মন জয় করতে দু’জনই ভীষন ব্যস্ত ছিলেন। এখন দেখার পালা কে হাসেন শেষ হাসি। তবে বর্তমান কমিটিতে একই পদে থাকার কারনে এমরান হোসেন অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন।
মিডিয়া এন্ড আইটি সেক্রেটারী হিসেবে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন টুএ নিউজের ফাউন্ডার আব্দুল হান্নান ও এনটিভি ইউরোপের সাবের নিউজ এডিটর মাহবুব আলী খানসুর। তবে নিউজ ফিল্ডে সব সময় সক্রিয় ও বর্তমান কমিটিতে অত্যন্ত এক্টিভ থাকায় আব্দুল হান্নানের বিজয় অনেকটা নিশ্চিত।
ইভেন্ট এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারী হিসেবে রয়েছেন চ্যানেল এস’র নিউজ এডিটর রুপি আমিন ও এস এম রহমান বেলাল। এ পদে রুপি আমিনের বিজয় অনেকটা নিশ্চিত বলে ধারনা করছেন অনেকেই। তবে অনেকের মতে এস এম রহমান বেলাল শেষ খেলা দেখাতে পারেন।
এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য পদে মোট ১০ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। এরা হচ্ছেন আনোয়ার শাহজাহান, পলি রহমান, জাকির হোসেন, শাহিদুর রহমান সুহেল, ফয়সল মাহমুদ, মোহাম্মদ সোবহান, এম ই রহমান পাক্কু, বাতিরুল সরদার, হেফাজুল করীম রাকিব ও আনিসুর রহমান আনিস।
এর মধ্যে পাঁচজনকে সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করতে পারবেন। এই ১০ জনের মধ্যে আনোয়ার শাহজাহান, জাকির হোসেন, পলি মারিয়াম রহমান, ফয়সল মাহমুদ, এমই রহমান পাক্কুর বিজয় অনেকটা নিশ্চিত।
যেহেতু লন্ডনের বাইরের একমাত্র প্রতিনিধি হয়ে শাহিদুর রহমান লড়ছেন তাই তিনি ভোটারদের আলাদা সহানুভূতি পেতে পারেন। এছাড়া মোহাম্মদ সোবহান, হেফাজুল করিম রাকিব, আনিসুর রহমান আনিস নতুন প্রার্থী হিসেবে চমক দেখাতে পারেন।
আজ রবিবার ২৮শে জানুয়ারি সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় পূর্ব লন্ডনের ইম্প্রেশন ভেন্যূতে বসেছে বিলেতের সাংবাদিক-লেখকদের এক মহামিলন। কমিউনিটির বিভিন্ন পেশার গন্যমাণ্য ব্যাক্তিদের দেখা গেছে এই মিলন মেলায়।
Leave a Reply