শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:১৯

জ্বালানি সাশ্রয়ে মোটরসাইকেলে অনুমোদনহীন বিপদজ্জনক সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবহার

জ্বালানি সাশ্রয়ে মোটরসাইকেলে অনুমোদনহীন বিপদজ্জনক সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবহার

শীর্ষবিন্দু নিউজ, ঢাকা / ৭৭
প্রকাশ কাল: বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

মোটর সাইকেলে ৬০-৭০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ী সুবিধা নিয়ে প্রচারণামূলক ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রকাশ করে বাইকারদের প্ররোচিত করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় কিছু গ্যারেজ।

তাই মোটরসাইকেলে অনুমোদনবিহীন বিপদজ্জনক অবৈধ মানহীন এলপিজি ও সিএনজি সিলিন্ডারে গ্যাসের ব্যবহার বেড়েই চলছে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইকে সিলিন্ডারে গ্যাসের ব্যবহারের ফলে ভয়ারহ মৃত্যু ঝুঁকিতে পরবেন মোটরসাইকেল আরোহীরা। কোন মানদণ্ডে এসব সিলিন্ডার তৈরি হচ্ছে এবং তা সঠিকভাবে প্রতিস্থাপন করলে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পরতে পারে মোটরসাইকেল আরোহী।

বিভিন্ন জরিপে এমনিতেই দেশের সড়ক দুর্ঘটনার ৫০ ভাগই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কবলে পরছেন বলে তারা জানান।

বর্তমানে বাজারে অকটেনের লিটার প্রতি দাম ১৩০ টাকা এবং পেট্রোল লিটার প্রতি দাম ১২৫ টাকা। যানবাহনের জন্য ব্যবহৃত এলপিজির দামও প্রতি লিটার ৬৪.৪৩ টাকা। সিএনজি গ্যাসের দাম প্রতি ঘনমিটারের দাম ৪৩ টাকা।

অকটেন-পেট্রোল চালিত মোটরসাইকেলকে অবৈধ মানহীন এলপিজি ও সিএনজি সিলিন্ডার গ্যাসে রূপান্তর করার বিষয়ে একাধিক মোটরসাইকেল মালিক বলেন, দেশে নিত্যপণ্যসহ সব জিনিসের দাম দিন-দিন বেড়েই চলেছে।

আমরা বাজারের উর্ধ্বগতির কারণে হিমশিম খাচ্ছি। নিজে ও পরিবারের খরচ বাঁচাতে বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছি। তাই বাধ্য হয়ে একাজ করতে হচ্ছে। বর্তমানে অকটেন-পেট্ররোলের লিটার প্রতি দাম ১২৫ টাকা থেকে ১৩০ টাকা। আর সিএনজি ও এলপিজি গ্যাসের দাম পাওয়া যাচ্ছে ৪০ টাকা থেকে ৬৫ টাকায়। এই ক্ষেত্রে আমাদের সাশ্রয় হচ্ছে ৬৫ টাকা থেকে ৭০ টাকা।

অকটেন-পেট্রোল চালিত মোটরসাইকেলকে অবৈধ এলপিজি ও সিএনজি সিলিন্ডার গ্যাসে রূপান্তর করার বিষয়ে একজন বলেন, আমরা তিন মিলিমিটার স্টিলের সিট দিয়ে সিলিন্ডার তৈরি করেছি যা দুর্ঘটনার কবলে পরলেও কিছু হবে না।

আমাদের তৈরি এলপিজি সিলিন্ডারটি খুব সেইফটি তাই বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) আমাদের অনুমোদন দিয়েছে। তবে মোটরসাইকেল এলপিজি সিলিন্ডারটি প্রতিস্থাপনের এখনো অনুমোদন দেয়নি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

আমাদের তৈরি এলপিজি কীটের অনুমোদনের জন্য বিআরটিএ কথা-বার্তা চলছে। আমরা এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫০টি অকটেন-পেট্ররোল চালিত মোটরসাইকেলকে এলপিজিতে রূপান্তর করেছি। এখন পর্যন্ত কোনো মোটরসাইল দুর্ঘটনায় কবলে পড়েনি। তবে সবারই উচিত সাবধানে বাইক চালানো।

অকটেন- পেট্রোল চালিত মোটরসাইকেলকে অবৈধ এলপিজি ও সিএনজি সিলিন্ডার গ্যাসে রূপান্তর করা নাম বিহীন কিছু প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

এদিকে অকটেন-পেট্রোল চালিত মোটরসাইকেলকে অবৈধ মানহীন এলপিজি ও সিএনজি সিলিন্ডার গ্যাসে রূপান্তর করার বিষয়ে কিছুই জানে না উল্লেখ করে বিআরটিএর পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) সীতাংশু শেখর বিশ্বাস বলেন, অকটেন পেট্রোল চালিত মোটরসাইকেলকে অবৈধ মানহীন এলপিজি ও সিএনজি সিলিন্ডার গ্যাসে রূপান্তর করার বিষয়টি আজ প্রথম শুনলাম আপনার নিকট।

বিআরটিএর পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) বলেন, এমন কাজ কেউ করে থাকলে অবশ্যই তা দণ্ডনীয় অপরাধ যেহেতু দেশে মোটরসাইকেলে এলপিজি ও সিএনজি সিলিন্ডার গ্যাসে রূপান্তর করার কোনো অনুমতি দেয়নি বিআরটিএ। এলপিজি ও সিএনজি সিলিন্ডারটি কোন প্রক্রিয়ায় তৈরি বা কোন মানদণ্ডে তৈরি তা আমরা জানি না। বিষয়টি অবশ্যই বিপদজ্জনক।

অকটেন ও পেট্রোল এর তুলনায় এলপিজি ও সিনজি গ্যাসের দাম কম হওয়াতে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগামের আশেপাশের জেলাসহ মফস্বল শহরগুলোর স্থানীয় গাড়ির গ্যারেজ ও মোটর মেকানিক সার্ভিসে লোকাল মিস্ত্রিরা এলপিজি ও সিনজি সিলিন্ডার গ্যাস বাইকে প্রতিস্থাপন করছেন।

এই ক্ষেত্রে ৫/৬ লিটারের এলপিজি সিলিন্ডারসহ প্রতিস্থাপনবাবদ খরচ ৭ থেকে ১৫ হাজার টাকা। কোথাও-কোথাও বিভিন্ন অনলাইন শপ থেকে অবৈধ মানহীন এলপিজি ও সিএনজি সিলিন্ডার কিনে স্থানীয় লোকাল মিস্ত্রি দিয়ে তাদের মোটরসাইকেলে তা প্রতিস্থাপন করিয়ে নিচ্ছেন নাম মাত্র মূল্যে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2024