বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ০৩:১৫

মাদ্রাসা‘র বইয়ে আল্লাহর সন্তান আবিষ্কার

মাদ্রাসা‘র বইয়ে আল্লাহর সন্তান আবিষ্কার

/ ৫ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশ কাল : বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ, ২০১৩

এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই থেকে: এবার মাদরাসার পাঠ্য বইয়ে আল্লাহর সাথে শরিক করা হয়েছে। বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল নবম-দশম শ্রেণীর ‘বাংলা সাহিত্যের’ ১৯ নম্বর গদ্যাংশের ৯৪ নম্বর পৃষ্ঠায় মোহাম্মদ আকরম খাঁ রচিত ‘বিদায় হজ্ব’ অধ্যায়ে ‘অসাম্যের প্রতিবাদ’ প্যারার  ৯৬ পৃষ্ঠার দ্বিতীয় লাইনে ‘আল্লাহর সকল সন্তানকে’ (নাউজুবিল্লাহ) লেখা হয়েছে “কুলপতি হজরত এব্র্রাহিম এই সহানুভূতি শিক্ষা ও সাম্যের শিক্ষাদানের জন্যই ‘ইতর-ভদ্র’ নির্বিশেষে ‘আল্লাহর সকল সন্তানকে’ আরাফাত ময়দানে সমবেত হইবার জন্য আহবান করিয়াছিলেন।” আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা সম্পূর্ণ শিরক। পবিত্র আল কুরআনে শিরক (আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা)  কবিরা গুনাহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন মাদ্রাসার শিকেরা পাঠদানের সময় লেখাটি নজরে পড়ে। লেখাটি দেখে শিকেরা বিব্রত হওয়ার পাশাপাশি তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আল্লাহর সাথে শরিক করে এমন লেখা দেখে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে এ প্রতিবেদককে ফোন করে বলেন, ‘তাদের সন্তানদের পাঠ্য বইয়ে এমন লেখা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা অবিলম্বে এই বইয়ের সাথে যারা জড়িত তাদের শাস্তি দাবি করেন।’ বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল নবম-দশম শ্রেণীর পাঠ্য বই বাংলা সাহিত্য সঙ্কলন, রচনা ও সম্পাদনা করেন ড. এস এম লুৎফর রহমান ও আবদুল মান্নান মিয়া।

বইটি প্রথম মুদ্রণ হয়েছে ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে, সংশোধীত ও পরিমার্জিত মুদ্রণ হয়েছে ২০০৯ সালের নভেম্বর মাসে, পরিমার্জিত সংস্করণ হয়েছে ২০১১ সালের জুলাই মাসে, পুনর্মুদ্রণ হয়েছে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। বইটির ভূমিকা লেখেন বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো: আবদুন নূর। এ বিষয়ে একটি দাখিল মাদরাসার (মাদরাসার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বাংলা শিক্ষক মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, আমি দশম শ্রেণীতে ছাত্রদের পাঠদানের সময় লেখাটি আমার চোখে পড়ে। তখন আমি আর না পড়িয়ে থেমে যাই। তাৎক্ষণিক বইটি নিয়ে শিক্ষকদেরকে গিয়ে লেখাটি তাদের দেখাই। তারা দেখে এই লেখাকে শিরক হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরো বলেন, এ ধরনের লেখা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে। আমি বিষয়টি উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজারকে অবহিত করি। এ বিষয়ে মিরসরাইয়ের আবুতোরাব ফাজিল মাদরাসার অধ্য মাওলানা শফিকুল ইসলাম নিজামী বলেন, ‘দাখিল নবম-দশম শ্রেণীর বাংলা সাহিত্যের ৯৬ পৃষ্ঠায় লেখাটি দেখেছি। যদি এই লেখাটি ইচ্ছাকৃতভাবে লিখে থাকে তাহলে সে ‘নাস্তিক’ হয়ে যাবে। আর যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে হয় তাহলে অন্যকথা।’ তিনি আরো বলেন, মঙ্গলবার উপজেলা মাধ্যমিক শিা কর্মকর্তা লেখাটি শুদ্ধ করে পাঠদানের জন্য বলেছেন। এ বিষয়ে চট্টগ্রামের বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ আবু নোমান বলেন, ‘আমি লেখাটি দেখিনি। যদি বাংলা সাহিত্যে এ ধরনের লেখা হয়ে থাকে তাহলে এটা শিরক হয়ে গেছে। কুরআনে স্পষ্ট উল্লেখ আছে আল্লাহর কোনো সন্তান নেই।’ এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা মাধ্যমিক শিা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, আমি লেখাটি দেখেছি এবং বিভিন্ন মাদ্রাসার অধ্যক্ষের সাথে কথা বলেছি।

বিষয়টি চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওই লেখার ‘আল্লাহর সকল সন্তানকে’ স্থলে ‘আল্লাহর সকল বান্দাকে’ শিক্ষার্থীদের পাঠদান দিতে। আমি বিষয়টি সব মাদ্রাসা প্রধানকে অবহিত করেছি। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে আরা বেগম বলেন, মিরসরাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাদ্রাসার দাখিল নবম-দশম শ্রেণীর পাঠ্য বই বাংলা সাহিত্যে ‘আল্লাহর সকল সন্তানকে’ লেখা সম্পর্কে আমাকে জানিয়েছেন। আমি বিষয়টি এনসিটিবি (ন্যাশনাল কারিকুলাম টেক্সট বুক বোর্ড) কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি। এ ছাড়া বিভিন্ন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুন নূরের সাথে মুঠোফোনে (নম্বর ০১৭১৩০০১২৩২) যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আপনি বইটি নিয়ে আমার সাথে  দেখা করবেন। বইটি আমার কাছে নেই। তাই আমি এখন ফোন রাখলাম।’






পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
All rights reserved © 2021 shirshobindu.com