বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৪:০৮

ফাগুনের রঙে লেগেছে ভ্যালেন্টাইন সাজে

ফাগুনের রঙে লেগেছে ভ্যালেন্টাইন সাজে

/ ১৯৩
প্রকাশ কাল: শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪

হাত বাড়িয়ে ছুঁই না তোকে/মন বাড়িয়ে ছুঁই/দুইকে আমি এক করি না/এককে করি দুই/হেমের মাঝে শুই না যবে/প্রেমের মাঝে শুই/তুই কেমন করে যাবি?/পা বাড়ালেই পায়ের ছায়া/আমাকে তুই পাবি।’… ভালোবাসার অনুভূতি কবি নির্মলেন্দু গুণ প্রকাশ করেছিলেন এভাবেই।

ভালবাসা কোনো দিনক্ষণ মেনে হয় না। তবু পাশ্চাত্যের প্রেমপাগল মানুষ বহু বছর ধরে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। কিন্তু ভালবাসার যে পূর্ব-পশ্চিম হয় না। আর তাই সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে ভ্যালেনটাইন ডে। বাংলাদেশেও পাশ্চাত্য সংস্কৃতির এ দিবসটি কয়েকবছর ধরে তরুণ তরুণীরা পালন করছে।

১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ভ্যালেনটাইন ডে। এদিন শাশ্বত প্রেমের কাছে নত হওয়ার দিন। ভালবাসার মহানুভূতির কাছে নিজেকে নিশ্চিন্তে সপে দেওয়ার উপযুক্ত সময়টি এসেছে। কবিগুরুর ভাষায়- এসেছ প্রেম, এসেছ আজ কী মহা সমারোহে…। বিপুল আবেগ উচ্ছ্বলতা নিয়ে আজ পালন করা হবে দিবসটি। ভালবাসার দিনে নতুন করে দেখা দেবে চিত্ত চাঞ্চল্য। রাজপথে, ক্যাম্পাসে, পার্কে, রেস্তরাঁয় প্রকাশ্যে ও গোপনে মিলবে যুগল। শহর জুড়ে ঘুরে বেড়াবে।

রাত ১২টার পর থেকেই মোবাইল ফোন, এসএমএস, ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে চলবে ভালবাসার আদান প্রদান। জয়তু ভালোবাসা!

সারাদিন তরুণ-তরুণীদের হাতে থাকবে লাল গোলাপ, চোখে আনন্দময় আগামীর স্বপ্ন। দুরু দুরু হৃদয়ে আনন্দ-উত্তেজনা। হাতে হাত রেখে বাকিটা জীবন কাটানোর প্রত্যয়। ভালোবাসার বন্ধন আর প্রেমের চাদরে ঢেকে যাবে হৃদয়ের পুরোটা প্রাঙ্গণ। প্রিয়জনকে পাশে বসিয়ে অনেকেই আজ টুক করে বলে ফেলবে হৃদয়ের গভীরে লালিত সেই না বলা কথাটি। সারা দুনিয়ার মানুষ পরস্পরকে ভালোবাসবে। স্বামী ভালোবাসবে স্ত্রীকে, স্ত্রী স্বামীকে, পিতামাতা সন্তানকে, সন্তান প্রিয় বাবা-মাকে হৃদয় উজাড় করে দেবে মধুর ভাব বিনিময়ে।

বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, এ ভ্যালেন্টাইন ডে উদ্যাপনের শুরুটা প্রাচীন রোমে। তখন ১৪ ফেব্রুয়ারি ছিল বিয়ের দেবী জুনোকে সম্মান জানানোর পবিত্র দিন। দিবসটি অনুসরণ করে পরের দিন ১৫ ফেব্রুয়ারি উদযাপন করা হতো লুপারকেলিয়া উৎসব। সে সময় তরুণ-তরুণীদের খোলামেলা দেখা সাক্ষাতের তেমন সুযোগ ছিল না। জীবনসঙ্গী নির্বাচনে তাদের জন্য ছিল লটারির মতো একটি আয়োজন। উৎসবের সন্ধ্যায় কিছু কাগজের টুকরোয় তরুণীদের নাম লিখে একটি পাত্রে রাখা হতো। একটি করে কাগজের টুকরো তুলত তরুণরা। কাগজের গায়ে যার নাম লেখা থাকত তাকে সঙ্গী হিসেবে পেত তরুণটি। কখনও কখনও ওই দু’জনের মিলনের ক্ষণ এক বছর স্থায়ী হতো। কখনও কখনও তা গড়াত বিয়েতে।

অপর গল্পটি এরকম-সম্রাট ক্লদিয়াসের শাসনামলে রোম কয়েকটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হয়। কিন্তু তার সেনাবাহিনীতে সৈন্য সংখ্যা কম ভর্তি হওয়ায় ক্লদিয়াস উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। তিনি ধারণা করতেন, পরিবার ও ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কারণেই যুদ্ধে যেতে রাজি হতো না পুরুষরা। ফলে ক্লদিয়াস সমগ্র রোমে সব ধরনের বিয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। সে সময় রোমে ধর্মযাজকের দায়িত্ব পালন করছিলেন সেন্ট ভ্যালেন্টাইন। তিনি এবং সেন্ট মেরিয়াস খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বী তরুণ-তরুণীদের গোপনে বিয়ের ব্যবস্থা করে দিতেন।

বিবাহিত যুগলদের সহযোগিতা করতেন। এ অপরাধে রোমের ম্যাজিস্ট্রেট তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে নিক্ষেপ করে। বন্দি অবস্থায় অনেক তরুণ তাকে দেখতে যেত। জানালা দিয়ে তার উদ্দেশে চিরকুট ও ফুল ছুড়ে দিত। হাত নেড়ে জানান দিত, তারা যুদ্ধ নয়, ভালবাসায় বিশ্বাস রাখে। এদের মধ্যে একজন আবার ছিল কারারক্ষীর মেয়ে। তার বাবা তাকে ভ্যালেন্টাইনের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দিতেন।

একপর্যায়ে তারা একে অপরের বন্ধু হয়ে যান। ভ্যালেন্টাইন মেয়েটির উদ্দেশে একটি চিরকুট লিখে রেখে যান। এতে লেখা ছিল ‘লাভ ফ্রম ইওর ভ্যালেন্টাইন।’ বিচারকের নির্দেশ অনুসারে সেদিনই ভ্যালেনটাইনকে হত্যা করা হয়। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের এ আত্মত্যাগের দিনটি ছিল ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি। কালের ধারাবাহিকতায় ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন ডে হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এর কেন্দ্রীয় চরিত্রটি হয়ে ওঠেন সেন্ট ভ্যালেন্টাইন।

ভালোবাসা দিবসে দেশজুড়ে নানা আয়োজন আর বর্ণাঢ্য সব কর্মসূচি রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও রয়েছে বর্ণিল আয়োজন। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও সম্প্রচার করবে নাটক, আলোচনাসহ নানা অনুষ্ঠান। রাজধানীর উদ্যানমালা, সংসদ চত্বর, একুশের বইমেলা, পাঁচতারকা হোটেল, কফিশপ, ফাস্টফুড কোর্ট আর ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ঢল নামবে লাখো মানুষের।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯  
All rights reserved © shirshobindu.com 2024