শনিবার, ১০ এপ্রিল ২০২১, ০১:০৬

খুলে দেয়া হলো জিল্লুর রহমান উড়াল সড়ক

খুলে দেয়া হলো জিল্লুর রহমান উড়াল সড়ক

এখানে শেয়ার বোতাম
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন এক হাজার ৭৯৩ মিটার দীর্ঘ মিরপুর-বিমানবন্দর উড়াল সড়ক। যার নামকরণ হয়েছে সদ্য প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের নামে। নির্ধারিত সময়ের তিন মাস আগেই খুলে দেয়া হলো এই উড়াল। উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী গাড়িতে করে উড়াল সেতু পরিদর্শন করেন। পরে তিনি উড়াল সড়কের ফলক উন্মোচন করেন। উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয় উড়াল সড়ক। এ সময় তিনি একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলা হয়, মিরপুরবাসী এই ফ্লাইওভার ব্যবহার করে ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যে এয়ারপোর্ট সড়কে পৌঁছাতে পারবে। ফলে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সামনে দিয়ে ১১ কিলোমিটার সড়কের পরিবর্তে এখন থেকে তাদের ব্যবহার করতে হবে মাত্র ৩ কিলোমিটার সড়ক। এ ফ্লাইওভার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৯৯ কোটি টাকা। বনানী রেলক্রসিং ওভারপাসসহ পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৩৬০ কোটি ১৬ লাখ টাকা। উড়াল সড়ক নির্মাণ কাজের বিভিন্ন জটিলতা দক্ষতার সঙ্গে নিরসন করায় সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

পরে কুর্মিটোলা গলফ ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ফ্লাইওভারের নাম প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের নামানুসারে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ফ্লাইওভার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। স্বাধীনতার মাসে আরেকটি উপহার দিলাম ঢাকাবাসীকে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুতে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এ উড়াল সড়ক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাঈদ মো. মাসুদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এমন একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা চাই- যেখানে বাংলাদেশের যে কোনো জায়গা থেকে মানুষ ৮/১০ ঘণ্টায় ঢাকায় আসতে পারবে। এবং দিনের কাজ দিনেই শেষ করে ফিরে যেতে পারবে। আমরা জনগণকে রাজধানীমুখী করতে চাই না। আমরা সবাইকে গ্রামমুখী করতে চাই। যেখানে রাজধানীর সকল সুবিধা গ্রামেই পাওয়া যাবে।এজন্য নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এখানে স্থায়ী বসবাসকারী ছাড়াও সারাদেশ থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে ছুটে আসেন রাজধানীতে। কিন্তু প্রয়োজনীয় চওড়া রাস্তা, ফ্লাইওভার ও ওভারপাস না থাকায় জনসাধারণকে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকা পড়ে থাকতে হয় যা ব্যাগাত ঘটে নিত্ত নৈমিত্তিক কাজে।এই ফ্লাইওভারের ফলে মানুষের কর্মঘণ্টা বাঁচবে। জনগণের ভোগান্তি যেন কম হয় সে দিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এই উড়াল সেতু হওয়ায় বৃহত্তর মিরপুরে বসবাসকারী লাখ লাখ মানুষ সহজে ঢাকা সেনানিবাসের ওপর দিয়ে বিমানবন্দর সড়কে যাতায়াত করতে পারবেন। ঢাকা শহরের যানজট নিরসন এবং সৌন্দর্য বর্ধণে সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের মার্চ মাসে মিরপুরের মাটিকাটা থেকে বিমানবন্দর সড়কের জিয়া কলোনী সংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত এই উড়াল সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয়েছিল ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের এ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের তত্ত্বাবধানে ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্ক অর্গানাইজেশনের ১৬ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন। আর প্রকল্পের ঠিকাদার হিসেবে কাজ করে মীর আক্তার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড।

যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যানজট নিরসনে এ প্রকল্পের আওতায় শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বিজয় সরণীর মধ্যবর্তী বিমানবন্দর সড়কে চারটি ‘ইউ’ লুপ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ চারটি ‘ইউ’ লুপের একটি আর্মি গলফ ক্লাব, দুটি নৌ সদর দপ্তর এবং একটি সেতু ভবনের পাশে নির্মিত হবে। এর ফলে বিমানবন্দর সড়কে যান চলাচল নিরাপদ এবং সহজতর হবে।

এসময় অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য এবং তিন বাহিনীর প্রধান।

সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ তার বক্তব্যে প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রস্তাব তুললে এর জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, উনি বললেন- প্রাদেশিক সরকারের কথা। আমাদের ভৌগলিক যে অবস্থা- তাতে তা সম্ভব না। তা করলে প্রশাসন আরো বড় হবে। খরচও আরো বৃদ্ধি পাবে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করবে। আর কেন্দ্র বাজেট বরাদ্দ করবে, নীতিনির্ধারণ করবে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।

 

 


এখানে শেয়ার বোতাম
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  






পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
All rights reserved © 2021 shirshobindu.com