শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ০৪:৩০

বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় মানবিক শিশুশ্রম নিয়ে আইটিভির বিশেষ প্রতিবেদন

বাংলাদেশের পোশাক কারখানায় মানবিক শিশুশ্রম নিয়ে আইটিভির বিশেষ প্রতিবেদন

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে গার্মেন্টেসে কাজের কোনো হিসাব থাকে না। পারিশ্রমিক কখনোই কাজের সাথে মিল রেখে হয় না। আর ফ্লোর ম্যানেজার, প্রোডাকশন ম্যানেজারের অত্যাচার-নির্যাতন তো আছেই। শিশু আইন অনুসারে, ১৮ বছরের নীচে যে কেউ শিশু হিসেবে গণ্য হবে। শিশু আইনে অপরাধ দণ্ডের কথা বলা থাকলেও তা মানা হয় না। আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যমেও এ নিয়ে প্রতিবেদন হচ্ছে।

কোন কোন সময় চলে মারধর। সেই সঙ্গে অনেক সময় কেউ কেউ যৌন হয়রানির শিকারও হয়। এমনকি তাদের কথা না শুনলে চাকরি চলে যায়। তাই অনেকে মুখ বুজে সব অত্যাচার সহ্য করে যায়। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক টেলিভিশন নেটওয়ার্ক আইটিভিতে প্রচারিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে এমন চিত্র উঠে এসেছে। আর এ তথ্য দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রামাণ্যচিত্রে বাংলাদেশের পোশাকখাতের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরতে এক্সপোজার অনুষ্ঠানের পক্ষ থেকে গোপনে সেখানকার কাজের পরিবেশের দৃশ্য ধারণ করা হয়।এতে দেখা যায়, লি কুপার, বিএইচএসসহ যুক্তরাজ্যের যেসব প্রতিষ্ঠানের পোশাক বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোতে তৈরি হচ্ছে, এসব কারখানার শ্রমিকদের শারীরিক ও মৌখিকভাবে হয়রানি করা হয়।এসব কারখানায় অগ্নি-নিরাপত্তাব্যবস্থাও নেই।

প্রামাণ্যচিত্রে দেখা যায়, ভাস অ্যাপারেলস নামের একটি কারখানায় আগুন লাগার পর শ্রমিকদের বের হওয়ার যে বিকল্প পথ রয়েছে, তার দরজা তালাবদ্ধ।অথচ গত কয়েক বছরে আগুন লাগার পর কারখানার ভেতরে আটকা পড়ে শত শত শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আইটিভির গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্যে মিরপুরের ওলিরা নামের আরেকটি কারখানায় দেখা যায়, একজন নারীশ্রমিককে সপ্তাহে ৮৯ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে।

দ্রুত কাজ করছে না- অভিযোগ তুলে কিশোরী শ্রমিকদের হয়রানি করছেন কারখানাটির পুরুষ ব্যবস্থাপকেরা।বড় ফরমায়েশের কারণে হাঁপিয়ে যাওয়া কর্মীদের তাঁরা রাতভর কাজ করতে বাধ্য করেন।নির্দেশ অমান্য করলে মারধর বা চাকরিচ্যুত করার ভয় দেখান। কিন্তু ওলিরা গার্মেন্টসের পরিচালক রফিকুল ইসলাম শাহীন অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের গার্মেন্টসে মোটেই কিশোরীদের হয়রানি করা হয় না।

এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি অনধিক পাঁচ বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন। বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোতে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের দিয়ে অমানবিক কাজ করনো হচ্ছে, চলছে নানা নির্যাতন। যুক্তরাজ্যের ক্রেতাদের জন্য পোশাক উত্পাদনে ১১ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে ১৩ বছর বা এমন বয়সী মেয়েশিশুদের।

তবে এ মন্তব্যের পরপরই গার্মেন্টসটির সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেন তিনি। যদিও গার্মেন্টসটির ওয়েবসাইটে পরিচালক হিসেবেই তার নাম রয়েছে। আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সী কর্মীরা দিনে সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টা কাজ করবে।তবে কারখানাগুলোতে শিশুশ্রমিকদের ১১ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে প্রামাণ্যচিত্রে দাবি করা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে অভিভাবক এবং নিয়োগকারী দুজনকেই আইনের আওতায় আনতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, যতোদিন না তাদের শাস্তির প্রয়োগ হচ্ছে ততোদিন এটা বন্ধ হবে না। একই সঙ্গে বিভিন্ন শিল্প থেকে শিশু শ্রমিক প্রত্যাহারের সরকারের যে কর্মপরিকল্পনা রয়েছে সে পরিকল্পনা অনুযায়ী যাদেরকে প্রত্যাহার করা হয় তাদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানান তিনি।

শিশু আইন-২০১৩ এর শিশু সংক্রান্ত বিশেষ অপরাধসমূহের দণ্ডে বলা আছে, কোনো ব্যক্তি যদি তাহার হেফাজতে, দায়িত্বে বা পরিচর্যায় থাকা কোনো শিশুকে আঘাত, উৎপীড়ন, অবহেলা, বর্জন, অরক্ষিত অবস্থায় পরিত্যাগ, ব্যক্তিগত পরিচর্যার কাজে ব্যবহার বা অশালীনভাব প্রদর্শন করে এবং এইরূপভাবে আঘাত, উৎপীড়ন, অবহেলা, বর্জন, পরিত্যাগ ব্যক্তিগত পরিচর্যা বা প্রদর্শনের ফলে উক্ত শিশুর অহেতুক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয় বা স্বাস্থ্যের এইরূপ ক্ষতি হয়, যাহাতে সংশ্লিষ্ট শিশুর দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়, শরীরের কোনো অঙ্গ বা ইন্দ্রিয়ের ক্ষতি হয় বা কোনো মানসিক বিকৃতি ঘটে, তাহা হইলে তিনি এই আইনের অধীন অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
All rights reserved © shirshobindu.com 2012-2024