বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:৫৮

মালয়েশিয়ায় ১১ বাংলাদেশীকে উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর কাহিনী

মালয়েশিয়ায় ১১ বাংলাদেশীকে উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর কাহিনী

/ ১৩৩
প্রকাশ কাল: সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশী এক শিক্ষার্থী স্বদেশী ৩ আদম পাচারকারীকে গ্রেপ্তার ও ১১ বাংলাদেশীকে উদ্ধারে দেশটির পুলিশকে সহযোগিতা করে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। পেনাং অঞ্চলের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে আটকে রাখা ওই ১১ বাংলাদেশীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

মালয়েশিয়ার একটি বেসরকারি সূত্র আদম পাচারকারী ৩ ব্যক্তি এবং দুরবস্থার শিকার ১১ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তবে কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন থেকে বলা হয়েছে, তাদের পরিচয় এখনও জানা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশী ওই শিক্ষার্থীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে, গত ১৮ই ফেব্রুয়ারি আদম পাচারের সঙ্গে জড়িত আসাদুজ্জামান নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ।

তার দেয়া জবানবন্দির তথ্যানুযায়ী, গত ১৯শে ফেব্রুয়ারি পাচার চক্রটির কবলে পড়া রাজশাহীর আতাউর ও হাসান, সিরাজগঞ্জের ইমরান, উজ্জল ও মন্টু, নাটোরের হাফিজুর, শামসুল ও শাখায়েত, নওগাঁর শাহীন মিলন ও আক্কাস আলী এবং যশোরের শফিককে উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের সমুদ্রপথে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে আইয়ুব ও ইকবাল নামে অপর ২ আদমপাচারকারীকে আটক করে পুলিশ। এদিকে উদ্ধারের পর ১১ বাংলাদেশীকে মালাক্কার একটি সুরক্ষিত স্থানে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই বাংলাদেশী শিক্ষার্থী।

নিরাপত্তাজনিত কারণে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ আদম পাচারের ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। এর আগে গত ১৬ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশী ওই শিক্ষার্থী পুত্রজায়া অঞ্চলে অবস্থিত সাইবারগায়া থানায় আদম পাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়া শাহীন ও আক্কাসের বিষয়টি অবহিত করেন। বাংলাদেশ থেকে তাদের পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে থানায় বিষয়টি জানান তিনি। বাংলাদেশের একটি আদম পাচারকারী চক্র অনেক ভালো বেতনে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে কক্সবাজার থেকে বোটে করে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যায় ওই ১১ জনকে।

বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ডেইলি স্টার’কে টেলিফোনে এ তথ্য দিয়ে ওই শিক্ষার্থী আরও জানান, কক্সবাজার ও থাইল্যান্ডের সমুদ্রপথ দিয়ে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয় তাদের। কয়েকজন বাংলাদেশী, রোহিঙ্গা, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের নাগরিকও আদম পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল বলেও জানান তিনি। এদিকে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পর তাদের আটকে রাখে আদম পাচারকারী চক্রের সদস্যরা। প্রত্যেক বাংলাদেশীর মুক্তিপণ বাবদ চাওয়া হয় ১৭ হাজার ১০০ মালয়েশীয় রিঙ্গিত বা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৪ লক্ষ টাকা। ১১ বাংলাদেশীকে উদ্ধার করে সুরক্ষিত স্থানে রাখার পর তাদের কাছ থেকে এসব তথ্য জানতে পারেন ওই শিক্ষার্থী।

এ মাসের প্রথম সপ্তাহে শাহীন ও আক্কাসের পরিবারের সদস্যরা ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। তারা তাকে জানান, রাজশাহীর আবুল কালাম আজাদ নামে এক ব্যক্তি ওই ২ জনকে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য প্রলোভন দেখিয়ে প্ররোচিত করেছিল। আসাদুজ্জামান নামে ওই বাংলাদেশী আদম পাচারকারীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন বাংলাদেশী শিক্ষার্থী। আটকে রাখা বাংলাদেশীদের ছেড়ে দিতে তার কাছে অনুরোধ জানান তিনি।

কিন্তু, আসাদুজ্জামান তার অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়ে তাকে উল্টো হুমকি দেয়। এরপর মালয়েশীয় এক বন্ধুর সহযোগিতায় পুলিশের কাছে ঘটনাটি জানান ওই শিক্ষার্থী। স্থানীয় পুলিশ অত্যন্ত দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার পর অপরাধী চক্রটির সদস্যরা ধরা পড়ে এবং একই সঙ্গে ১১ বাংলাদেশীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।




Comments are closed.



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯  
All rights reserved © shirshobindu.com 2024