বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ১১:২৬

অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির অবাক সিদ্ধান্ত

অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির অবাক সিদ্ধান্ত

/
প্রকাশ কাল: শুক্রবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৩

টমটমে চড়ে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আবদুল্লাহপুরের মানুষের কাছে গিয়েছেন। বলেছেন, তাঁকে আটবার নির্বাচিত করার জন্য তিনি তাঁদের কাছে চিরঋণী। কিন্তু তাঁর দুটি সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত তাঁর ঋণ আসলে কার কাছে, সেই প্রশ্ন তীক্ষ করেছে।

গুরুতর অসদাচরণের দায়ে জাতীয় সংসদে তিরস্কৃত একজন বিচারককে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগ। অন্যদিকে আওয়ামীপন্থী একদল চিকিৎসক নেতাকে অধ্যাপনায় পদোন্নতি প্রদান। এতে প্রবীণ রাজনীতিবিদ আবদুল হামিদের তুলনামূলক নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি কলুষিত হয়েছে। এবং সেটা এমন একটি প্রেক্ষাপটে ঘটল, যখন রাজনীতিতে সংকট ঘনীভূত হচ্ছে এবং তাঁকে ঘিরে নির্বাচনকালীন একটা গ্রহণযোগ্য সরকার গঠন করার সম্ভাবনা বাতাসে ভাসছে। আপাতত রাষ্ট্রপতি হতেও তাঁর সম্ভাবনা আছে। একজন আইনজ্ঞ, সংসদ-সংবিধানবিশারদ এবং কৌতুকপ্রিয় বিবেচক ব্যক্তি হিসেবে তাঁর সুনাম সুবিদিত। তাই তিনি কী প্রক্রিয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেন তার ঝটিকা অনুসন্ধান চালাই। এর প্রাথমিক ফলাফল বিস্ময়কর, বেদনাদায়ক। প্রতীয়মান হয় যে রাষ্ট্রযন্ত্র কত তুচ্ছ, ফেলনা। যেন ব্যক্তির খেয়াল পূরণেই ব্যবহূত হয়। আইনের শর্তে ব্যক্তির খেয়ালখুশি নিয়ন্ত্রিত হয় না।

বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরীকে নিয়ে যত বিতর্ক, যত অঘটন, তারপর তাঁকে অপসারণের পরিবর্তে আরও উঁচুতে তোলার ঘটনা ইতিহাসে বিরল। সুপ্রিম কোর্টের দরকারে সড়ক ভবন খালি করানোর মামলাটি খুব স্বাভাবিক ছিল না। এই মামলা প্রসঙ্গে গত বছরের ২৯ মে সংসদে স্পিকার আবদুল হামিদ আদালতের কড়া অবস্থানের দিকে ইঙ্গিত করে ‘আমি কি হনুরে’ মর্মে একটি কম সাবধানী মন্তব্য করেছিলেন। এই মন্তব্য ‘রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল’ বলে আখ্যা দিয়ে ঝড় তোলেন বিচারপতি চৌধুরী। এর আগেই তিনি আলোচিত ছিলেন। বেশ কিছু অসাধারণ মামলার রায়দানকারী হিসেবে তিনি নন্দিতও ছিলেন। সপ্তম সংশোধনী, কর্নেল তাহের হত্যা মামলা তাঁরই সুকীর্তি। কিন্তু তিনি তাঁর বিচারিক অসংযমের জন্য বিতর্কিত হচ্ছিলেন। স্পিকারের প্রতি তাঁর অভাবনীয় অসম্মান ছিল তারই ধারাবাহিকতা। সংসদ যেন বারুদের মতো ফেটে পড়েছিল। ভুক্তভোগীরা আদালত অবমাননার ভয়ে বাকরুদ্ধ ছিলেন, সংসদীয় উদ্যোগে তাঁদের হূদয়ের রক্তক্ষরণ সাময়িক বন্ধ হয়েছিল।

ওই বিচারক বলেছিলেন, ‘স্পিকারের মন্তব্য শুধু অজ্ঞতাই নয়, অমার্জনীয়।’ গত ৫ জুন তাঁর এই বক্তব্যের জের ধরে সংসদে শেখ সেলিমের মন্তব্য ছিল তাঁর মন্তব্য সংসদের ওপর নগ্ন হামলার শামিল। তাঁর ক্ষমা চাওয়া উচিত। রাশেদ খান মেনন বলেছিলেন, ‘তাঁর এই আচরণ আমরা মেনে নিতে পারি না।’ তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়েছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। বলেছিলেন, যিনি সংবিধান লঙ্ঘন করেন, তাঁর এই আসনে থাকা সমীচীন হবে না। তিনি সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। তিনি আর বিচারপতি থাকতে পারেন না। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের রসবোধ প্রখর। তিনি এখন রসিকতা করে বলতেই পারেন, ‘আমি তো বলেছিলাম, তিনি হাইকোর্টের বিচারক থাকতে পারেন না। আমি তো বলিনি আপিল বিভাগের বিচারক হতে পারবেন না!’ গতকাল প্রথম আলোতে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে আব্দুল মতিন খসরু ব্যক্তিকে খুশি করতে ‘জি হুজুর’ উক্তি করেছেন। আবদুল হামিদ সম্পর্কে বলেছেন, তিনি তো এখন সেই স্পিকার নন, রাষ্ট্রপতি!

আব্দুল মতিন খসরু আইনমন্ত্রী থাকতে সংশোধিত হওয়া আচরণবিধিতে বলা আছে, ‘একজন বিচারক সর্বক্ষেত্রে উচ্চ মানসম্পন্ন আচরণ প্রতিষ্ঠা ও প্রয়োগে মনোযোগী হবেন। ব্যক্তিগতভাবেও আচরণগত সুউচ্চমান বজায় রেখে চলবেন, যাতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার শুদ্ধতা রক্ষিত হয়। বিচারকের আসনে বসে দায়িত্ব পালনকালে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও অন্যের প্রতি ধৈর্যশীল, বিচক্ষণ, শ্রদ্ধাভাজন এবং সৌজন্য প্রকাশে সংকল্পবদ্ধ থাকবেন। অথচ ওই বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ওই আচরণবিধি দলিতমথিত হয়েছে। প্রকাশ্য আদালতে একজন অপমানিত আইনজীবীর আবেদনক্রমেই প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান তাঁকে অপসারণে তদন্তের আবেদনে সম্মতি দিয়েছিলেন। আরেকজন আইনজীবী অসদাচরণের অভিযোগ করেছিলেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতির কাছে। প্রধান বিচারপতি সৌজন্যবশত নিজেই তাঁর কাছে বিচারপতি চৌধুরীর আচরণের জন্য ক্ষমা চান।

তোফায়েল আহমেদ সংসদে বলেছিলেন, ‘বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরী স্যাডিস্ট। তিনি মানুষকে অপমান করতে পছন্দ করেন। যাঁরা স্যাডিস্ট, অন্যদের কষ্ট দিয়ে আনন্দ পান, আমরা তাঁদের ঘৃণা করি। স্যালুট না দেওয়ায় তিনি ট্রাফিক পুলিশকে কান ধরে উঠবস করান। তৃতীয় শ্রেণীর টিকিট কেটে এই ব্যক্তি বিমানের বিজনেস ক্লাসের সিট চান। তাঁর লজ্জা থাকা উচিত।’ জনাব আহমেদ কি বলবেন, এখন আসলে কার লজ্জা পাওয়া উচিত?

আমরা সম্ভবত সামরিক বাহিনীর বলেই স্বৈরশাসক এরশাদকে বিশ্ব বেহায়া বলতে পেরেছি। এখনো বলি। কিন্তু লেবাসধারী নির্বাচিত স্বৈরশাসককে কি আমরা বিশ্ব বেহায়া বলতে পারি?

জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক বলেছিলেন, ‘এই বিচারক লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই আওয়ামী লীগ সরকারের দয়ায় বিচারপতি হয়েছেন। তিনি সম্মানিত লোকদের আদালতে ডেকে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রেখে বেইজ্জতি করেন। স্পিকারকে অপমান করার জন্য বিচার বিভাগের ক্ষমা চাওয়া উচিত।’ আগামী অধিবেশনে সেদিনের সংসদের জ্বালাময়ী বাগ্মীদের কণ্ঠে এই বিষয়ে আমরা বাণী চাই।

গত ১৮ জুন স্পিকার আবদুল হামিদ তাঁর রুলিংয়ে বলেছিলেন, ‘মাননীয় বিচারপতি (বিচারক চৌধুরী) আমার ও জাতীয় সংসদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ ও অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করেছেন। জ্যেষ্ঠ সাংসদেরা এ বিষয়ে সংসদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে ওই মাননীয় বিচারপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এমনকি তাঁকে অপসারণের দাবি জানিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন। উপস্থিত সব মাননীয় সদস্য ওই বক্তব্য সমর্থন করেন।’

যদি বাহাত্তরের সংবিধান বজায় থাকত, জিয়াউর রহমানের সামরিক ফরমানকে শেখ হাসিনা বৈধতা না দিতেন, তাহলে এই বিতর্কিত বিচারক অপসারিত হয়েছেন বলে গণ্য হতেন। কারণ, বিচারককে অভিশংসনের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের দরকার ছিল। আর বর্তমানে আওয়ামী লীগেরই তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

জনাব হামিদ তাঁর রুলিংয়ে বলেছিলেন, ‘এই সংসদই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন। এই পদ্ধতিতেই জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।’ এখন মাননীয় অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি কি আমাদের বলবেন, এই নিয়োগটির মধ্য দিয়ে তিনি সংসদ ও সুপ্রিম কোর্টের ওপর কার ও কিসের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন? এর প্রকৃত উত্তর, ব্যক্তির খেয়ালখুশির সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

স্পিকার এমনকি এটুকু আশা করেছিলেন, তাঁর রুলিংয়ের মধ্য দিয়ে এ আলোচনার অবসান হবে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মহলের তা মনঃপূত হয়নি। সে কারণে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং আমাদের অবাক করে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী স্পিকারের রুলিংকে অসাংবিধানিক ও অকার্যকর বলে রায় দেন এবং ৩৭ জনকে ডিঙিয়ে বিচারপতি চৌধুরীর সঙ্গে তাঁকেও আপিল বিভাগে পদোন্নতি দিয়েছেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি। এই বিচারক এক-এগারোর জরুরি অবস্থায় অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী স্পিকারের জ্ঞান, মেধা, যোগ্যতা ও আইনজীবী হিসেবে তাঁর সনদ নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন। স্পিকার বলেছিলেন, ‘এটি সংসদ সম্পর্কে জনৈক মাননীয় বিচারপতির কিছু অসৌজন্যমূলক মন্তব্য এবং ব্যক্তিগত আক্রমণপ্রসূত উক্তি।’ তিনি তাঁর আচরণকে অশোভন হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। স্পিকার যদিও অপসারণের প্রস্তাবসংবলিত সুপ্রিম কাউন্সিল গঠনের দাবি থেকে সরে আসেন, কিন্তু তিনি প্রকারান্তরে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের আওতায় প্রণীত আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগ তোলেন। এর অর্থ ছিল একটাই, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ হিসেবে প্রধান বিচারপতির কাঁধেই দায়িত্ব স্থানান্তর করা।

২০০০ সালের ওই আচরণবিধি বলেছে, একজন বিচারক অবশ্যই জনবিতর্কে অংশ নেবেন না। প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করবেন না। তিনি মিডিয়াকে সাক্ষাৎকার দেবেন না। দেশে কিংবা বিদেশে কোনো রাজনৈতিক তৎপরতায় সম্পৃক্ত হবেন না। এসব বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আছে বিচারপতি চৌধুরীর বিরুদ্ধে। লন্ডনের আওয়ামী আইনজীবী সংগঠনের কমিটি-সংক্রান্ত বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। আমরা স্তব্ধ হয়ে দেখি, তিনি বাংলাদেশের আদালতে বসে ব্রিটিশ ভূখণ্ডে থাকা তাঁর ব্যক্তিগত প্রতিপক্ষের ওপরও আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন। এমনকি সে-সংক্রান্ত আদেশ লন্ডনের পত্রিকায় ছাপাতেও লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনের ওপর নির্দেশ জারি করা হয়েছিল। এ ছাড়া সেখানকার কোনো সভায় দেওয়া তাঁর বক্তব্যে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

১৮ জুন ২০১২ জনাব হামিদ তাঁর রুলিংয়ে বলেছিলেন, ‘আদালতের এ ধরনের আচরণে কী করণীয় থাকতে পারে মাননীয় প্রধান বিচারপতি সে বিষয়টি ভেবে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, তাতে আমাদের সমর্থন থাকবে। এর ফলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা হয়তো সম্ভব হবে।’ এখন কি কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করতে পারেন যে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়তো রোধ করা যাবে না।

এবার আসি অন্যায্যভাবে দলীয় চিকিৎসকদের পুরস্কৃত করা প্রসঙ্গে। ২ এপ্রিল প্রথম আলোর শেষ পৃষ্ঠায় ‘রাষ্ট্রপতির প্রমার্জনায় পদোন্নতি পেলেন চিকিৎসক নেতারা’ শীর্ষক খবরের বিবরণ বিবেকবান মানুষকে বিচলিত করবে। কারণ, স্বাস্থ্যসচিব নিজেই বলেছেন, ‘অনেকে পদোন্নতির শর্ত পূরণ করতে পারেননি। মহামান্য রাষ্ট্রপতি তাঁর ক্ষমতা অনুযায়ী প্রমার্জন করেছেন।’ কিন্তু তাঁর দাবি, এতে নিয়মের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। কিন্তু আমরা যত দূর বুঝতে পারি, এর ফলে সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন ঘটেছে। এই অনুচ্ছেদ বলেছে, ‘এই সংবিধানের বিধানাবলি-সাপেক্ষে সংসদ আইনের দ্বারা প্রজাতন্ত্রের কর্মে কর্মচারীদের নিয়োগ ও কর্মের শর্তাবলি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।’ অধিকতর যোগ্য ও জ্যেষ্ঠদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিয়ে কোনো ‘প্রমার্জনা’ সিদ্ধ হতে পারে না।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছি। কিন্তু কতগুলো অপ্রিয় সত্য আমরা উচ্চারণ না করে পারি না। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার আগের দিন এটিএনের মুন্নী সাহাকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তাঁর নেত্রী কোনো ভুল করতে পারেন না। মুন্নী তখন তাঁকে এ প্রসঙ্গে ‘তালগাছ আমার’ কথাটি স্মরণ করিয়ে দিলে জনাব রহমান স্মিত হেসেছিলেন।

মর্নিং শোজ দ্য ডে’ বলে প্রবাদ চালু আছে। জিল্লুর রহমান প্রমাণ রেখে গেছেন, তাঁর নেত্রী কোনো ভুল করেননি। কারণ, তিনি তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যত নথিপত্রই এসেছে, তাতে না করেননি। আইনের চোখে সাজেদা চৌধুরীর দণ্ডিত পলাতক ছেলেকে মার্জনা করে দিয়ে তিনি একটি ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। এটা এত বড় অনাচার যে রাষ্ট্র এ থেকে পালাতে পারবে না। কারণ, রাষ্ট্রপতির ওই মার্জনাদেশ অবৈধ। তাই সাজেদাপুত্র আইনের চোখে আজও ফেরার। লক্ষ্মীপুরের ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত তাহেরপুত্রকেও মার্জনা করেছেন জিল্লুর রহমান। দলীয় চিকিৎসকদের ‘প্রমার্জনা’ করার আগের নথিতে জিল্লুর রহমানও সই করে গেছেন। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা হাইকোর্টে দুটি রিট করেও আটকাতে পারেননি।

আবদুল হামিদ ইতিমধ্যে আমাদের শঙ্কিত করেছেন যে রাষ্ট্রপতি হলে তিনি তাঁর পূর্বসূরির পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারেন। অন্ধের মতো নথিপত্রে সই করে হয়তো আনুগত্যের অগ্নিপরীক্ষায় উতরাবেন।

অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি কী প্রক্রিয়ায় এত বড় দুটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিলেন, তা জানতে আমরা বঙ্গভবনের দায়িত্বশীল সূত্রের সঙ্গে কথা বলি।

প্রথম আলো: দুটি ফাইল কোথায়, কীভাবে সই হলো?

বঙ্গভবন কর্মকর্তা: একটি নথিও বঙ্গভবনে আসেনি। দুটোই সংসদ ভবনে সই হয়েছে। প্রথমটি সই হয় সন্ধ্যায়, দ্বিতীয়টি দুপুরে। বিচারকদের ফাইল নিয়ে এসেছিলেন ভারপ্রাপ্ত আইনসচিব। আর চিকিৎসকদের প্রমার্জনাসংক্রান্ত নথিতে সই করিয়ে নেন স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দুটোই ঘটে হাতে হাতে। পদোন্নতির ফাইল রাষ্ট্রপতির কাছে আসে না। প্রমার্জনার দরকার ছিল বলেই রাষ্ট্রপতির সই লেগেছে।

প্রথম আলো: বলেন কী? তাহলে বঙ্গভবনে এর কোনো রেকর্ড নেই?

বঙ্গভবন কর্মকর্তা: আছে। গত সোমবার একটা ফটোকপি এসেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে। এর আগে আইন মন্ত্রণালয় থেকেও অনুরূপ অনুলিপি পেয়েছে বঙ্গভবন।

প্রথম আলো: সই করানোর নিয়ম কী?

বঙ্গভবন কর্মকর্তা: প্রধানমন্ত্রীর সইয়ের পর তাঁর সচিব ফাইল পাঠান বঙ্গভবনের সচিবের কাছে। তখন সচিব তাতে নোট লেখেন। এরপর একান্ত সচিব রাষ্ট্রপতির কাছে নথি পেশ করেন। এ ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে। আমরা অবাক হয়েছি। কারণ, আইনসচিবের সরাসরি রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়ার কথা নয়।

ওপরের আলোচনা থেকে আমরা কী পাঠ নেব? বীর আলেকজান্ডারের ভাষায়, সত্যি সেলুকাস, কী বিচিত্র এই দেশ!

লেখক: মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক। m_khanbd@gmail.com

 




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2021