বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ১১:২৫

বহু নামে অভিহিত ঐতিহাসিক সিলেট কোর্টপয়েন্ট

বহু নামে অভিহিত ঐতিহাসিক সিলেট কোর্টপয়েন্ট

/ ১৩
প্রকাশ কাল: শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৩

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

স্বদেশ জুড়ে ডেস্ক: শিরিষ গাছের সুনিবিড় ছায়ায় আচ্ছাদিত ছিল পুরো ঐতিহাতিক কোর্টপয়েন্ট এলাকা। হয়তো কালের পরিক্রমায় এক সময় এর নামকরণ হয় শিরিষতলা। আজ যা সিলেটে কোর্ট পয়েন্ট নামে পরিচিত। ছায়া সুনিবিড় ওই এলাকা বহু আগ থেকে সিলেটবাসীর কাছে বিশেষভাবে পরিচিত। আন্দোলনের কোন ডাক উঠলেই বেচে নেয়া হয় কোর্টপয়েন্ট। তাই আন্দোলনের সূতিকাগার বলা হয়ে থাকে এখনকার এই কোর্ট পয়েন্টকে।

সিলেটের সব ক’টি রাজনৈতিক দলের সমাবেশস্থল এখানে। পাশেই রয়েছে আরেক প্রাচিন নির্দশন সিলেট সিটি করপোরেশন। জেলা প্রশাসক ও এসপি অফিস। সিলেটের আদালতপাড়া এবং জনে লোকারণ্য বন্দরবাজার। দাবি আদায়ের সব আন্দোলনে শুধু রাজনৈতিক দলগুলো নয় এখানে এসে অবস্থান নেন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা। এক যুগ আগে এই কোর্টপয়েন্ট বেশ নজরকাড়া ছিল। একটি শতবর্ষী শিরিষ গাছ ছিল। ছিল পাশে কয়েকটি রেইন ট্রি গাছও। গাছের ছায়ার বসে পালন করা হতো সিলেটের রাজনৈতিক দলের সব কর্মকাণ্ড। কিন্তু এক সময় জনাকীর্ণ ওই এলাকা থেকে আন্দোলন কেন্দ্র থেকে সরিয়ে নিতে কৌশলে কেটে ফেলা হয় শতবর্ষী ওই গাছগুলো। এলাকা হয়ে পড়ে ফাঁকা।

এরপর সেখানে নির্মাণ করা হয় সুরম্য মসজিদ। এই মসজিদটি এখন কোর্ট মসজিদ নামে পরিচিত। গাছ কেটে ফেলার সময় সিলেটের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে চরম বিতর্ক দেখা দেয়। অনেকেই মনে কষ্ট পান আন্দোলনের নীরব সাক্ষী ওই গাছগুলো কেটে ফেলায়। তখন প্রতিবাদের ঝড়ও ওঠে। মসজিদের সামনে অন্তত একটি গাছ রাখার দাবিও জানানো হয়েছিল।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগ যতটি হরতাল বিরোধী মিছিল করেছে সব ক’টি শুরু করা হয়েছে এই কোর্ট পয়েন্ট থেকে। সর্বশেষ সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে ইসলামী জাগরণ মঞ্চ করা হয়েছে। হেফাজতের ইসলামের সিলেটের নেতারা যখন ৬ই এপ্রিল ঢাকায় যেতে ব্যর্থ হন তখন ওই ৫ই এপ্রিল বিকাল থেকে তারা অবস্থান নেন সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে। দিন-রাত টানা ২৮ ঘণ্টা দখলে রাখেন সিলেটের কোর্ট পয়েন্ট। ওই পয়েন্টে তারা গণজমায়েত গড়ে তোলে আন্দোলন চাঙ্গা করে তোলেন। সর্বশেষ গত শনিবার সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে হেফাজতে ইসলাম সিলেট বিভাগীয় শানে রাসুল (সা.) সমাবেশ করেছে।

কিন্তু সব ফাঁকা হয়ে গেলেও সিলেটের কোর্ট পয়েন্ট এখনও স্ব-মহিমায় আন্দোলনের সূতিকাগার বলে পরিচিত। বিশেষ করে সব সরকারের সময়েই বিরোধী দলের কাছে কোর্ট পয়েন্ট আন্দোলনের জনপ্রিয় স্থান। এ কারণে মাসের বেশির ভাগ সময়ই কোর্ট পয়েন্ট মেতে থাকে সভা, মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশে। হরতাল পালনে নেতাকর্মীদের জড়ো হওয়ার স্থানও সিলেটের কোর্ট পয়েন্ট। কোর্ট পয়েন্ট দখলে নেয়াটা বিরোধী দলের কাছে গৌরবের বিষয়। আবার হরতালবিরোধী মিছিলেও বর্তমানে সরকারি দলের কাছে প্রিয় স্থান সিলেটের কোর্ট পয়েন্ট।

গত বছর সিলেটের এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিমর্মভাবে প্রাণ হারান সিলেট আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার হোসেন শামীম। তার মৃত্যুর পর সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা মরহুম ইফতেখার হোসেন শামীমের স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে কোর্ট পয়েন্টকে শামীম চত্বর নামকরণের প্রস্তাব করেন। ওই সময় মেয়র কামরান জানিয়েছিলেন, কোর্ট পয়েন্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে শামীম চত্বর ঘোষণা করতে দাপ্তরিক কাজ শুরু করা হবে। পরে সিলেটে সফরে আসেন যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সিলেট সার্কিট হাউসে বৈঠককালে সিলেট আওয়ামী লীগের নেতারা মরহুম ইফতেখার হোসেন শামীমের নামে দুঘর্টনাস্থলে ফলক নির্মাণ ও কোর্ট পয়েন্টকে শামীম চত্বর করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। অর্থমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর কাছেও কোর্ট পয়েন্টকে শামীম চত্বর ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছিলেন সিলেটের নেতারা।

সিলেটে টানা ২৮ ঘণ্টা ‘ইসলামী জাগরণ মঞ্চ’ বসিয়ে সেখানে অবস্থান করেন হেফাজতে ইসলামের নেতারা। আর পরবর্তীকালে সমাবেশ থেকে তারা সিলেটের কোর্ট পয়েন্টকে ‘শাহজালাল চত্বর’ হিসেবে ঘোষণা দেন। তবে এখনও এই নামটি রাজনৈতিক নেতাদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েনি। তারা জানান, আনুষ্ঠানিক নামকরণ করতে তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জানাবেন।

এদিকে, নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর সন্ধানে গত তিন দিন টানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে। ইলিয়াস আলীর সন্ধান দাবিতে গতকাল সেখানে সমাবেশ করেছে মহানগর বিএনপি। এর আগে মঙ্গলবার জেলা বিএনপি ও সোমবার স্বেচ্ছাসেবকদল ও ইলিয়াস মুক্তি সংগ্রাম পরিষদ কর্মসূচি পালন করেছে। মোট কথা সিলেটের সব আন্দোলন চলে কোর্ট পয়েন্টকে ঘিরেই। সিলেটের কোর্ট পয়েন্ট দিনে দিনে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আরও বেশি আকর্ষণ কেড়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশন এক দায়িত্বরত কর্মকর্তা বলেন, কোন স্থানের নামকরণ করতে হলে অনুমতি নিয়ে সিটি করপোরেশন থেকে করতে হয়। সেভাবে অনুমতির জন্য কোন আবেদন আসেনি। তবে, ‘শামীম চত্বর’ করার আশ্বাসটি মেয়রের কাছ থেকে একবার এসেছিল।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
All rights reserved © shirshobindu.com 2021