মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৩৯

নির্বাচন যতই এগিয়ে আসবে, পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাবে

নির্বাচন যতই এগিয়ে আসবে, পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাবে

/ ১৪৮
প্রকাশ কাল: মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৩

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

স্বদেশ জুড়ে ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে কড়া হরতাল, প্রতিবাদ ও সংঘর্ষে  কাবু পুরো দেশ। তারপরও এখানে উত্তেজনা চরমে। বিএনপির মূল মিত্র জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের প্রধানত টার্গেট করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তাদের বিচার হচ্ছে। এ দলটিকে টার্গেট করে বিচার করায় এ বিচার মারাত্মকভাবে বিতর্কিত। বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, শুধু এই আদালত নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন নন। বর্তমান সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে বাতিল করেছে, সেজন্য তারা বেশি উদ্বিগ্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বছরের শেষের দিকে বা আগামী বছরের শুরুর দিকে বাংলাদেশে যে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা তার সময় যত এগিয়ে আসবে দেশের অস্থিতিশীলতা তত খারাপের দিকে যাবে। যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী পত্রিকা গার্ডিয়ানের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ফেসেস শাটডাউন অ্যাজ পার্ট অব প্রোটেস্ট ওভার অপোজিশন অ্যারেস্টস’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।

এতে আরও বলা হয়, জেলে বন্দি বিএনপির সিনিয়র ৭ কর্মকর্তার মুক্তির দাবিতে বিরোধীদলীয় জোট ৩৬ ঘণ্টার হরতাল আহ্বান করেছে। এ হরতাল আজ থেকে শুরু হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমাগত নাজুক হচ্ছে। এখানে সর্বশেষ এ হরতালে সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ থাকতে পারে। এ বছরের শুরুর দিকে দেশে অস্থিরতা চলার সময় সহিংসতা ও ভাঙচুর উসকে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে বিএনপির ৭ নেতার বিরুদ্ধে। তাদেরকে এ মাসেই আটক করা হয়েছে।

সমর্থকরা বলছেন, এ অভিযোগ উদ্দেশ্যমূলক। যুদ্ধকালীন সময়কার নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যারা নৃশংসতা চালিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে বিচার করার জন্য গঠন করেন নতুন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। এই আদালতের প্রথম রায়েই গরিব কিন্তু উন্নয়নশীল এ দেশটিতে সহিংসতা দেখা দেয়।

বিএনপি নেতা খালেদা জিয়া অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এ আদালত ব্যবহার করছেন শেখ হাসিনা। বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, সরকার আমাদের দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করে দলকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এমন হুমকিতে আমাদের আন্দোলন, প্রতিবাদ থামবে না। দেশ বড় ধরনের অস্থিরতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক। একই সময় আটককৃতদের মধ্যে ৭ জন জেলে রয়েছেন। কিন্তু তিন নেতার গতকাল জামিনে বেরিয়ে আসার কথা। তাদের বিরুদ্ধে একই রকম অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ৭৩ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তার চিকিৎসা প্রয়োজন।

মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা মওদুদ বলেছেন, তিনি গতকালও উৎকণ্ঠায় ছিলেন। তিনি বলেছেন, তাকে (মওদুদ) তখনও মুক্তি দেয়া হয়নি। তার বিরুদ্ধে এখনও অভিযোগ আছে। তিনি প্রকৃতপক্ষে মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারব না তাকে মুক্তি দেয়া হবে। তাকে নিয়ে আমি ভীষণ উদ্বিগ্ন। আমি উদ্বিগ্ন বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম. খা. আলমগীর বলেছেন, বিরোধী দলের যেসব নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তারা জনগণকে উসকে দিয়েছেন। যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করতে লোকজনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তারা রেলগাড়ি লাইনচ্যুত করাতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে পেশ করা হয়েছে। তিনি (মওদুদ) অপরাধী নাকি নিরপরাধ তা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত আদালতের। প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে তিনি দোষী। সে জন্য তার বিচার হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের আর খুব বেশি দেরি নেই। নির্বাচন যতই এগিয়ে আসবে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ততই খারাপের দিকে যাবে। দুর্নীতিবিরোধী বার্লিনভিত্তিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, দুই প্রধান রাজনৈতিক দল ও তাদের মিত্ররা একে অন্যের ঘোর বিরোধী। তারা এতটাই শক্ত অবস্থানে যে, কোন সমঝোতা চান না। দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও চারজন ব্লগারকে আটক করে বর্তমান প্রশাসন এরই মধ্যে বিতর্কিত হয়েছে। দেশজুড়ে ফের হরতাল ডাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, বিশেষ করে বৃহৎ গার্মেন্ট প্রস্তুতকারক খাত খুব উদ্বেগে। শাহবাগে তরুণ প্রজন্মের বিশাল বিক্ষোভ ও হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভের ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক উত্তাল পরিস্থিতিতে আরও উত্তেজনাকর করে তুলেছে। বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ডানপন্থিদের ক্ষেপিয়ে তোলার জন্য বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এরই মধ্যে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। শুধু মার্চেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হরতাল হয়েছে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময়। এতে অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত লেগেছে।  আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে মূলধারার দু’টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি কোন ধরনের সমঝোতা না হয় তাহলে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার আরও করুণ পরিণতি হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

 




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2024