রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৮:০৭

অভিবাসন নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ যুক্তরাজ্য

অভিবাসন নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ যুক্তরাজ্য

/ ১০৭
প্রকাশ কাল: বৃহস্পতিবার, ২ মে, ২০১৩

সুমন আহমেদ: পরিসংখ্যান মতে দেখা যায়, গত কয়েক দশকে লাখো লাখো বিভিন্ন ভাষাভাষীরা অভিবাসী হয়েছেন যুক্তরাজ্যে। ইউরোপের এই দেশে সময়ের চাহিদার চেযে অভিবাসনের চিত্র বদলে গেছে খুব দ্রুত। যদিও ব্রিটিশ শ্বেতাঙ্গ ও এশীয়দের অভিযোগ, পূর্ব ইউরোপের অভিবাসীরা সহজে অঙ্গীভূত হতে চান না। কানাডার পিটারবরো শহরে গত এক দশকে অন্তত ২৪ হাজার অভিবাসী আস্তানা গেড়েছেন।

ব্রিটিশ সোশ্যাল অ্যাটিটিউডের জরিপ অনুযায়ী, অভিবাসীরা নানা বৈষম্যের শিকার হন। তাঁদের অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। প্রথম বা দ্বিতীয় প্রজন্মের অভিবাসী যাঁরা হতদরিদ্র, পড়াশোনা কম, তাঁরা সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে আলাপকালে জানা যায়, ভবিষ্যত বলতে আদৌ কিছু থাকবে কি না নিশ্চিত নয়। অনেক উৎকন্ঠার মধ্যে কাঠছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্য হয়ে দাড়িয়েছে বেকারত্ব।

সম্প্রতি আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, পোল্যান্ড থেকে গত ১০ বছরে পিটারবরো শহরে সবচেয়ে বেশি অভিবাসী আশ্রয় গ্রহণ করেন। এ সংখ্যা সাড়ে ছয় হাজারের বেশি। একই সময়ের মধ্যে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত অন্তত পাঁচ হাজার অভিবাসী শহরটিতে পাড়ি জমান। এ শহরের মোট বাসিন্দার প্রতি পাঁচজনের একজনের জন্ম যুক্তরাজ্যের বাইরের কোনো দেশে। গত দশকে পূর্ব ইউরোপের ১০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা যুক্তরাজ্যে অভিবাসন গ্রহণ করেন। অবশ্য এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। এ নিয়ে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিবিদদের বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার পর নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাই দেশটির প্রধান তিনটি দলের শীর্ষ নেতারা কয়েক সপ্তাহ ধরে বিষয়টি নিয়ে সমাধানের পথ খোজার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমের সাথে মতবিনিময় করছেন।

অভিবাসীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মিলেমিশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পিটারবরো শহরের ইয়ান নামের এক বাসিন্দা জুতো মেরামতের একটি দোকানের মালিক। তিনি বলেন, ‘মনে হয় না, আমার ছেলে এ শহরে ভালো পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে। তাই বাড়ি বিক্রির চেষ্টা করছি।’

যুক্তরাজ্যে প্রতিষ্টিত একটি স্কুল কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা যায়, শহরের ১০ শতাংশ বাসিন্দা বাড়িতে ইংরেজিতে কথা বলে না।তাই তাদের মধ্যে অনেক শিক্ষার্থীর মাতৃভাষা ইংরেজি নয়। শুধু তা-ই নয়, অভিবাসীরা ইটভাটাসহ কঠোর পরিশ্রমের কাজ করতে বাধ্য হন। অপরিচ্ছনতার কাজ সাধারণত স্থানীয় বাসিন্দারা করেন না। অভিবাসীরাই এসব কাজ করে থাকেন। এসব কারণে অভিবাসীদের এক ধরনের বাঁকা চোখে দেখা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে অভিবাসন নীতি কঠোর করার পক্ষে। আবার অনেকে বলছেন, কে কোথা থেকে অভিবাসন গ্রহণ করছেন, এটা বড় নয়, বরং তিনি এ সমাজেরই একজন হতে পেরেছেন কি না, তা-ই দেখার বিষয়। রাজনীতিবিদদের কেউ কেউ বলছেন, অভিবাসীদের হাড়ভাঙা খাটুনির কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃত্তি বৃদ্ধি পেয়েছে।

অবশ্য যুক্তরাজ্য সরকার এ দেশে বিনিয়োগের বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন স্কিম চালু করে অভিবাসীদের স্বাগতম জানাচ্ছে। এশিয়ার মধ্যে এ রকম অনেক দেশ আছে যারা এদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী আবার নাগরিকত্ব নিতে চাচ্ছেন। ব্রিটিশ সরকার সব সময় এদরেকে স্বাগত জানায়। আশার কথা হয়তো এ থেকে ব্রিটিশরা নিজ দেশের ঘাটতি পুরণে সক্ষম হবে।

সূত্র:  বিবিসি




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮  
All rights reserved © shirshobindu.com 2022