সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৬:৩৬

সরকারের নানা হিসাব-নিকাশ

সরকারের নানা হিসাব-নিকাশ

/ ৮৫
প্রকাশ কাল: বুধবার, ১৫ মে, ২০১৩

 

 

 

 

 

 

 

 

 

লুৎফর রহমান: হঠাৎ করে আশা জাগালো সংলাপ আলোচনা। জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো’র সফর শেষে এ আশা আরও জোরালো হয়েছে। সংলাপের জন্য বিরোধী দলের নেতাকে আমন্ত্রণ জানাতে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে চিঠি দেয়ার প্রস্তুতির কথাও শোনা যাচ্ছে। চলমান সংঘাত কাটাতে জাতিসংঘের এ দূতও সরকারি ও বিরোধী দলকে সংলাপে বসার তাগিদ দিয়েছেন।

সর্বশেষ গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপুমনিকে সংলাপের বার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। তার সঙ্গে দীপুমনির সাক্ষাতের সময় তিনি সংঘাত নিরসনে সংলাপে বসার তাগিদ দিয়েছেন। আপাতদৃশ্যে সংলাপের হাওয়া বইলেও এ নিয়ে প্রধান দুই দলেই চলছে হিসাব-নিকাশ। লাভ-লোকসানের অঙ্কে থেমে আছে সংলাপের অগ্রগতি। আওয়ামী লীগ সূত্র জানিয়েছে, সংলাপে আমন্ত্রণ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেত্রীকে চিঠি দিতে এর মধ্যেই দলের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। চিঠির একটি খসড়াও তৈরি হয়েছে বলে সূত্র দাবি করেছে। তবে কবে কখন চিঠি দেয়া হবে গতকাল পর্যন্ত তা নিশ্চিত করা হয়নি।

সূত্র জানায়, বিভিন্ন মহল থেকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানাতে সরকারের ওপর চাপ আসছে। বিদেশী কূটনীতিক, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যমের তরফ থেকেও এ তাগিদ দেয়া হচ্ছে। এ কারণে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার সংলাপের আগ্রহ প্রকাশ করে বিরোধী দলের নেতার প্রতি আহ্বান জানান। কিন্তু এ পর্যন্ত সরকারি দলের তরফে সংলাপের জন্য আনুষ্ঠানিক কোন প্রস্তাব দেয়া হয়নি। সংলাপ নিয়ে দুই ধরনের মত রয়েছে ক্ষমতাসীন দলে। সরকারি দলের নেতাদের একটি অংশ মনে করছেন, আগ বাড়িয়ে সংলাপের আমন্ত্রণ জানানোতে সরকারের দুর্বলতা প্রকাশ পাবে। তাই বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া এই মুহূর্তে সংলাপের আমন্ত্রণ জানানো দলের জন্য কোন সুফল বয়ে আনবে না।

এছাড়া, নির্বাচনের সময় বাকি থাকতেই ক্ষমতাসীন দলের সংলাপ আমন্ত্রণকে বিরোধী পক্ষ পরে দুর্বলতা বলে প্রচার করার সুযোগ পাবে। এই পক্ষের নেতাদের মতে সরকার বর্তমানে শক্ত অবস্থানে আছে। পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে। এমন অবস্থায় সংলাপের চেয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি নেয়াই দলের জন্য ভাল হবে। এক সময়ের বাম রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগে আসা বেশির ভাগ নেতাই দলের নীতি-নির্ধারকদের এমন পরামর্শ দিচ্ছেন। এমন ধারণার বিপরীতে দলের সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ সারির কয়েকজন নেতা মনে করছেন, সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান হলে সামনে দলের জন্য স্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হবে যা আসন্ন নির্বাচনেও প্রভাব ফেলবে।

এ কারণে এখনই তারা সংলাপের প্রতি আগ্রহী। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী দুই ধারার মতকে গুরুত্ব দিয়েই এগোচ্ছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনের জন্য দলকে প্রস্তুত করতেও কাজ করছেন তিনি। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজ দলের নেতাদের নিয়ে বর্ধিত সভা করবেন তিনি। একই সঙ্গে চলছে জেলা নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়। আগামীকাল ১৪ দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানায়, সংলাপের চিঠি দেয়ার বিষয়ে বিরোধী দলের ইতিবাচক আগ্রহের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। ১৮ দলীয় জোটের সর্বশেষ অবস্থান এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

আজ রাজধানীতে ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশ রয়েছে। এই সমাবেশে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা হতে পারে। হরতাল অবরোধের মতো কোন কঠিন কর্মসূচি দেয়া হলে সরকারি দলের পক্ষ থেকে আলোচনার বিষয়ে নতুন করে চিন্তা করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে।

 




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮  
All rights reserved © shirshobindu.com 2022