মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:২৯

নতুন বলে পুরনো খেলা

নতুন বলে পুরনো খেলা

/ ১১৯
প্রকাশ কাল: শুক্রবার, ২৪ মে, ২০১৩

 

 

 

 

 

 

 

 

সাজেদুল হক: চরিত্রটি পুরনো। তিন দশকের বেশি সময় ধরেই আলোচিত-সমালোচিত। পাকিস্তান ক্রিকেটের মতোই রহস্যময় তিনি। অননুমেয় চরিত্রের  কারণে যে ক্রিকেট টিমকে বলা হয় আনপ্রেডিক্টেবল। বাংলাদেশের রাজনীতিতেও তেমনি এক চরিত্র এইচ এম এরশাদ। এত কিছুর পরও মঙ্গলবার জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সভায় যে রূপে হাজির হলেন তিনি তাতে অবাক না হয়ে পারা যায়নি। স্মরণ করে দেখুন এই সেই এরশাদ যিনি ৫ই এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের ঢাকায় অভিষেকের দিনে রাজপথে ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দিয়েছিলেন। বারবার বলছিলেন, দেশ এখন দু’ ভাগে বিভক্ত। এক ভাগে নাস্তিকরা আরেক ভাগে মুসলমান। শাহবাগকে সমর্থন দেয়ায় সরকারেরও সমালোচনা করেছিলেন। অথচ সে এরশাদই হেফাজতের কর্মসূচিতে যোগ দেয়ার জন্য এখন দলীয় নেতা-কর্মীদের তীব্র ভাষায় তিরস্কার করছেন। শোকজও করা হয়েছে কাউকে কাউকে। সবকিছুই ঘটেছে দুই মাস সময়ের মধ্যে। এ যেন নতুন বলে পুরনো খেলাই খেলছেন তিনি। সবদিক থেকে সুবিধা আদায়ের এ নীতিই অবশ্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে এতদিন পরও তাকে এতটা গুরুত্বপূর্ণ করে রেখেছে। এর শুরু আসলে বহু আগে। প্রয়াত মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী তার লেখা ‘এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য’ গ্রন্থে এরশাদ প্রসঙ্গে লিখেছেন, একজন দক্ষ, চৌকস ও বিচক্ষণ সেনা কর্মকর্তা হিসেবে যদিও তার সুনাম ছিল না, কিন্তু চতুর সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে তার প্রচুর দক্ষতা ছিল। সেই বইয়ের তথ্যমতেই এরশাদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন ১৯৭৩ সালে। এরপর মাত্র সাত বছরে তিনি লে. কর্নেল থেকে তর তর করে লে. জেনারেল ও সেনাবাহিনী প্রধান হয়ে যান। আর আট বছরের মাথায় তিনি সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ও বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হয়ে যান। বিরোধী জোটের যৌথ আন্দোলন আর সেনাবাহিনীর সমর্থন প্রত্যাহারে ৯ বছর ক্ষমতায় থাকার পর তার পতন হয়েছিল। কারাগারেও গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এরশাদই মনে হয়, পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র স্বৈরশাসক পতনের পরও যিনি আবার মঞ্চে আবির্ভূত হন। প্রধান দু’টি দল বিস্তর টানাটানি করেছে তাকে নিয়ে। কখনও তিনি ঝুঁকেছেন আওয়ামী লীগের দিকে, কখনও বিএনপির দিকে। যদিও সবসময় তার চূড়ান্ত সম্পর্ক আওয়ামী লীগের সঙ্গেই হয়েছে। সর্বশেষ অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কাছ থেকেও সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করলেন এরশাদ। এ যেন ‘দুধের অগ্র, ঘোলের শেষ, কচি পাঁঠা, বৃদ্ধ মেষ’ সবই খেতে চাওয়া। তবে নতুন খেলা শুরু হলেও পুরনো প্রশ্নটি রয়েই যাবে। এরশাদের গন্তব্য কোথায়? এই মুহূর্তে এই প্রশ্নের জবাব দেয়াই সবচেয়ে কঠিন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *



পুরানো সংবাদ সংগ্রহ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
All rights reserved © shirshobindu.com 2024