স্বদেশ জুড়ে: বেকারত্ত্ব গোছাতে বিদেশ যাওয়ার নামে দুবাইভিত্তিক চক্রের মাধ্যমে ইরান-তুরস্কের সীমান্তে গোপন আস্তানায় আটক থাকাবস্থায় ৩ বার বিক্রি হওয়ার পর মুক্ত হয়ে ফিরেছে দুই বাংলাদেশি যুবক।
জানা যায়, বড়লেখা উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামের সুনাহর আলীর ছেলে আলতাফ হোসেন ও বর্ণি ইউনিয়নের নেওয়ার আলীর ছেলে কাসেম।এই দুই জন জানান, তাদের সাথে নোয়াখালীর আব্দুর রহিম ও কুমিল্লার লাঙ্গলকোট থানার আবুল কালামসহ আরও কয়েকজন দেশে ফিরে এসেছে। আন্তর্জাতিক অপহরণকারী চক্র মুন্সিগঞ্জের মায়া রাণী মলের ছেলে সুমন মল, লক্ষ্মীপুরের মোহাম্মদ হিরণকেও আটক করে অপহরণকারীরা তুরস্ক-ইরাক সীমান্তে। এদের সাথে দেশের বিভিন্ন এলাকার কয়েকশত যুবক অপহরণ হয়।
এসব ঘটনায় মুন্সিগঞ্জের মায়া রাণী মলের দায়েরকৃত মামলায় অপহরণকারী চক্রের দেশীয় সহযোগী বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের আলম উদ্দিন গ্রেফতার হয় পুলিশের হাতে। গ্রেফতার হওয়া আলমের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ঘটনার সাথে তার অপর ভাই সম্পৃক্ততার স্বীকারোক্তি পাওয়া গেলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ তার ওপর এক ভাইকে ছেড়ে দেয়। অপহরণকারী চক্রের দেশীয় সহযোগী সদস্য বড়লেখার আলম গ্রেফতার হওয়ার পর বড়লেখার আলতাব ও কাসেমের পরিবার থানায় গিয়ে আলমকে সনাক্ত করে এবং আলম তাদের পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা নিয়েছে বলে সাক্ষী দেয়। এরপর আলতাব ও কাসেমের পরিবার জাকির, আলিম, আলম গংদের বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি মামলা করে। এছাড়া গত বছর রমজান মাসে এ দালালচক্রের এক সদস্য মৌলভীবাজার এসএ পরিবহন থেকে টাকা গ্রহণের সময় টাকা এবং একাধিক স্থানের টাকার টোকেনসহ র্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের হাতে আটক হয়। তার বাড়ি নবীগঞ্জ উপজেলায়। ১০/১২ জন জিম্মী ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজন র্যাব ক্যাম্পে গিয়ে টোকেনের টাকা দেওয়ার কাহিনীর বর্ণনা দেন। তারা তাদের জিম্মী ব্যক্তির খোঁজও জানতে চায়। ওই দালালের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার আদালতে মামলাও রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
Leave a Reply