প্রযুক্তি আকাশ

ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের সাতকাহন

মামুন আল করিম: বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেটের প্রসারতা বাড়ছে প্রতিনিয়ত। বর্তমানে বেশির ভাগ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীই ব্রাউজিংয়ে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করছেন। আর এ কাজে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে প্রতিনিয়ত। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সফটওয়্যার নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের তৈরি ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ব্রাউজার অত্যন্ত জনপ্রিয়। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের আদ্যোপান্ত নিয়ে লিখেছেন মামুন আল করিম। সাধারণত মাইক্রোসফটের অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজের সাথে দেয়া থাকে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ব্রাউজারটি। আর উইন্ডোজের প্রতিটি নতুন সংস্করণের সাথে পরিবর্তিত হয়ে আসছে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার। উইন্ডোজ এক্সপির সাথে ছিল ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ৬, উইন্ডোজ ভিসতার সাথে রয়েছে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ৭। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের রয়েছে নানাবিধ সুবিধা।
অ্যাকসেলারেটর : ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ব্রাউজারটির মাধ্যমে অ্যাড্রেস ম্যাপ করা, শব্দের অনুবাদ করা বা অনলাইনে অন্য যেকোনো নিয়মিত কাজ শেষ করতে হয়। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের অ্যাকসেলারেটর অন্য ওয়েবসাইটগুলোতে নেভিগেট করা ছাড়া আপনার প্রতিদিনের ব্রাউজিং টাস্কগুলো খুব দ্রুত করে নিতে পারবেন। যেকোনো ওয়েবপেজ থেকে খুব সাধারণভাবে কোনো টেক্সট হাইলাইট করুন এবং পরবর্তী নির্দেশনা পাওয়ার জন্য, শব্দের অর্থ ও ব্যাখ্যা জানার জন্য, অন্য কাউকে এ কনটেন্ট ই-মেইল করার জন্য, সহজে এ বিষয়ে কিছু সার্চ করতে কিংবা এ রকম আরো অনেক কিছু করতে আপনার সিলেকশনের ওপর অবস্থিত নীল রঙের অ্যাকসেলারেটর আইকনে কিক করুন। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের ‘ম্যাপ উইথ লাইভ ম্যাপস’ অ্যাকসেলারেটর ব্যবহার করে আপনার পেজে সরাসরি মানচিত্রের কোনো নির্দিষ্ট অবস্থান দেখতে পারবেন।
অটোমেটিক ক্রাশ রিকভারি : ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ব্যবহারে আপনি যথেষ্ট নিরাপত্তা বোধ করতে পারবেন। অনাকাক্সিত কোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাড-অনের মাধ্যমে কোনো একটি ট্যাব ক্রাশ করে তাহলে শুধু ওই ট্যাবটিই তিগ্রস্ত হবে। অন্য ট্যাবসহ সম্পূর্ণ ব্রাউজারটি অত থাকবে। যদি কোনো অনাকাক্সিত কারণে আপনার এক বা একাধিক ট্যাব বন্ধ হয়ে যায় বা ক্রাশ করে তাহলে স্বয়ংক্রিয় ট্যাবগুলো আবার লোড হবে এবং ক্রাশ করার আগে আপনি যে সাইটে ছিলেন সেই সাইটে ফিরে যাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই।
নেভিগেশন : ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের নেভিগেশন পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রুপ ট্যাব ব্রাউজিং, যা আপনার ট্যাব ব্রাউজিংয়ের কাজকে আরো সহজ করবে। এতে রয়েছে একটি Find on Page অপশন। টুলবারে সাধারণভাবে আমাদের আকাক্সিত বিষয়টি খোঁজার ক্ষেত্রে পুরো বিষয়টি সার্চ বক্সে দিয়ে এন্টার কী চাপলে ফলাফল আসে কিন্তু ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের Find on Page টুলবারের মাধ্যমে একটি একটি করে বর্ণ সার্চ বক্সে দেয়ার সাথে সাথে সেই বর্ণ বা বর্ণগুলোর সাথে যেসব বিষয়ের মিল খুঁজে পাওয়া যাবে সেসব বিষয় দেখাবে।
অ্যাড্রেসবার : ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারে রয়েছে একটি অত্যাধুনিক অ্যাড্রেসবার। অনেক সময় কয়েক দিন আগে ভিজিট করা ওয়েবসাইটের ঠিকানা আপনি ভুলে গেছেন। কিন্তু সেসব সাইটে আপনি যেতে চান। এ ক্ষেত্রে আপনাকে সহায়তা করবে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের অ্যাড্রেসবারে সেই সাইটের কয়েকটি ক্যারেক্টার দেয়ার সাথে সাথেই এটি সেই সাইট বের করে দেবে। এর পাশাপাশি ইন্টারনেট অ্যাড্রেসবারে রতি যেকোনো সাইটকে আপনি মুছেও ফেলতে পারবেন।
হিস্টরি ম্যানেজমেন্ট : ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের হিস্টরি ব্যবস্থাপনা অনেক উন্নত। এতে আপনার সেরা সাইটগুলোকে ফেভারিট হিসেবে যোগ করে রাখার জন্য এখানে একটি উপযুক্ত জায়গা রয়েছে। এর মাধ্যমে আপনি ব্রাউজারের সবচেয়ে ওপরে লিংকবারে আপনার পছন্দের সাইটগুলো ফেভারিট হিসেবে সেভ করে রাখতে পারেন। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ব্রাউজিং হিস্টরি সাইটগুলোতে সাইটের নাম, বেশির ভাগ সময় পরিভ্রমণকারী সাইটের নাম, সময়ের অগ্রগণ্যতা অনুযায়ী শর্টিং করা যায়। এ ছাড়া এখানে হিস্টরিতে কি-ওয়ার্ড টাইপ করে হিস্টরিতে রতি সাইটগুলো খুঁজে বের করা যায়।
ইনস্টান্ট সার্চ : ব্রাউজিংয়ের কাজে সার্চিং একটি বিশাল সুবিধা। এ সুবিধাকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারে। এতে রয়েছে ভিজুয়াল সার্চিংয়ের ব্যবস্থা। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ইন্টারনেট জগতের সবচেয়ে বড় সার্চ প্রোভাইডার যেমনÑ লাইভ সার্চ, উইকিপিডিয়া, ইয়াহু, আমাজন ও আরো অনেকের সাথে ‘ভিজুয়াল সার্চ’ বিষয়ে কাজ করছে।
ওয়েব স্লাইস : আপনার প্রতিদিনের ই-মেইল আপডেট, আবহাওয়ার খবর, স্পোর্টস স্কোর প্রভৃতির জন্য নিশ্চয়ই একাধিক সাইটে বারবার ঘুরতে হয় এবং এতে নিশ্চয়ই অনেক সময় ব্যয় করতে হয়। তবে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের ওয়েব সøাইস ব্যবহার করে আপনি নতুন ফেভারিট বার থেকে সরাসরি এসব আপডেট নিতে পারবেন। যদি কোনো পেজে ওয়েব সøাইস থাকে তাহলে ব্রাউজারের ওপরের ডান কোনায় একটি সবুজ ওয়েব সøাইস আইকন দেখা যাবে। খুব সহজেই আপনার ফেভারিট বারে এসব স­াইস সাবস্ক্রাইব এবং যোগ করার জন্য আইকনটিতে কিক করুন। এরপর যখনই কোনো নতুন তথ্য আসবে, তখনই ওয়েব সøাইসটি হাইলাইট হবে। যখনই ফেভারিট বারের ওয়েব স­াইসে কিক করবেন, তখনই এটি প্রাসঙ্গিক তথ্যগুলোর প্রিভিউ দেখাবে। প্রিভিউতে কিক করার সাথে সাথে আরো তথ্যের জন্য আপনি সরাসরি ওই সাইটে যেতে পারবেন।
পারফরম্যান্স : ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ব্রাউজার তুলনামূলক ব্রাউজারগুলোর তুলনায় দ্রুত চালু হয়। এ ব্রাউজারটির পেজগুলো খুব দ্রুত লোড করে এবং আপনার পরবর্তী কমান্ডকে নতুন ট্যাব পেজের মাধ্যমে পূরণ করে। এ ছাড়াও জাভাস্ক্রিপ্ট ও অ্যাজাক্স-ভিত্তিক ওয়েবপেজগুলোর লোড টাইম কমিয়ে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার দ্রুত ওপেন করতে সক্ষম।
ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের এসব বৈশিষ্ট্য থেকে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন পূর্ববর্তী যেকোনো ব্রাউজারের তুলনায় ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার অনেক বেশি বৈশিষ্ট্যসমৃদ্ধ। এ ব্রাউজারটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ব্রাউজিং অভিজ্ঞতায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা যায়। আপনি চাইলে অনলাইনে www.microsoft.com সাইট থেকে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের সর্বশেষ সংস্করণটি ডাউনলোড করতে পারবেন।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close