দুনিয়া জুড়ে

১লাখ ৮০ হাজার এসাইলাম প্রার্থীর ব্রিটেনে বসবাসের অনুমতি লাভ

এনাম চৌধুরী: ব্রিটেনে এসাইলাম প্রার্থীদের ভাগ্যের দরোজা খুলে যাচ্ছে। ব্রিটিশ হোম অফিসের নমনীয়তায় ব্রিটেনে থাকার অধিকার পাচ্ছেন ১ লাখ ৮০ হাজার এসাইলাম প্রার্থী। দীর্ঘ দিন থেকে ব্রিটেনে থাকার এসাইলাম আবেদন করে হোম অফিসের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলেন যারা, তাদের মুখে এখন স্বপ্ন পূরণের অপূর্ব ঝিলিক। তবে এখানেও হোম অফিস পড়েছে বড় ধরনের সমস্যায়। আবেদনকারী এসাইলাম প্রার্থীদের বিপুল সংখ্যককে খুঁজে পাচ্ছে না ইউকে বর্ডার এজেন্সী। আবেদনকারী আশ্রয় প্রার্থীরা কোঁথায় কিভাবে আছেন সে সম্পর্কে কিছুই জানে না তারা।
ইউকে বর্ডার এজেন্সীর প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, তাদের হাতে জমা হওয়া প্রায় অর্ধমিলিয়ন আবেদনের মধ্যে ৮০ হাজার নিঁখোজ এসাইলাম প্রার্থীও রয়েছেন। দীর্ঘ দিন থেকে এসব এসাইলাম প্রার্থীর কোন খোঁজ জানে না হোম অফিস।
এদিকে ইউকে বর্ডার এজেন্সীতে (হোম অফিস) অসংখ্য ফাইলের ব্যাকলগ ও এসাইলাম প্রার্থীদের নিখোঁজ হয়ে যাওয়াকে যে মূহুর্তে ব্রিটেনের ইমিগ্রেশন ইতিহাসের সব চেয়ে বড় স্ক্যান্ডাল আখ্যায়িত করা হচ্ছিল তখন ক্ষমতাসীন টোরি সরকার ৪০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিশাল এক প্রজেক্ট বাস্তবায়নে হাত দিয়েছিলো। তাদের সমালোচিত সেই বিখ্যাত প্রজেক্টটি ছিলো, অবৈধ ইমিগ্রেন্ট ধরতে একটি প্রাইভেট কোম্পানীর হাতে দায়িত্ব প্রদান এবং পেমেন্ট বাই রেজাল্ট পদ্ধতি। যত অবৈধ ইমিগ্রেন্ট ধরতে পারবে তত বেশী আর্থিক বেনিফিট।
‘ক্যাপিটা’ নামক সার্ভিস কোম্পানীটি চার বছরে চুক্তিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেই কাজে লেগে যায়। স্বল্প সময়ে তারা ৭ মিলিয়ন পাউন্ড আদায় করলেও প্রচন্ড চাপের মুখে পড়তে হয় টোরি সরকারকে। মানবাধিকার গ্র“পও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত ৪০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিশাল ঐ প্রজেক্টটি বাস্তবায়ন থেকে তাদের সরে আসতে হয়।
ইউকে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের অদক্ষতার কারনেই সৃষ্ট ফাইল ব্যাকলগ পরিস্থিতি যখন তাদের প্রচন্ড সমালোচনার মধ্যে ফেলেছে, তখন ভাগ্যের দরোজা খুলে দিয়েছে অনেকের। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন থেকে হোম অফিসে এসাইলাম আবেদন করে কোন সিদ্ধান্ত না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছিলেন, তারা ব্রিটেনে থাকার বৈধতা পেতে যাচ্ছেন।
সম্প্রতি প্রভাবশালী সংবাদপত্র ডেইলি টেলিগ্রাফে প্রকাশিত এবং প্রতিবেদনে জানা যায়, ইউকে বর্ডার এজেন্সীতে জমা ফাইলের সংখ্যা এত বেশী হয়েছে যে, বর্ডার চীফ বাধ্য হয়েছেন ৮০ হাজার নিখোঁজ এসাইলাম প্রার্থীদের খুঁজে বের করার কাজকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে।
ইতোমধ্যে এসাইলাম আবেদনকারীদের মাঝ থেকে ১’শ ৮০ হাজার অবৈধ ইমিগ্রেন্টকে ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার প্রদান করা হয়েছে। হোম অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৪১ হাজার ৩’শ জন তাদের নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন। পরিসংখ্যানে আরো দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন এসাইলাম আবেদনকারীর মধ্যে মাত্র ১ জন ব্রিটেন ত্যাগ করেছেন। বাকী আবেদনকারীরা কোঁথায় কোন অবস্থায় আছেন সেটা বর্ডার এজেন্সীর জানা নেই।
বর্ডার এজেন্সী সূত্রে জানা যায়, গত বছর ইউকে বর্ডার এজেন্সী’র স্টাফ খরচ ও এসাইলাম আবেদনকারীদের পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪ মিলিয়ন পাউন্ড। এছাড়া মামলার ক্ষতিপূরণ বাবৎ আরো ব্যায় হয়েছে ১৪ মিলিয়ন পাউন্ড। এতো বিশাল ব্যয় করে ইউকে বর্ডার এজেন্সী নিখোঁজ এসাইলাম প্রার্থীদের অনুসন্ধান চালিয়ে যেতে আর রাজি নয়। বর্ডার এজেন্সী’র চীফ এক্সিকিউটিভ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ৮০ হাজার নিখোঁজ ইমিগ্রেন্টকে খুঁজে বের করতে আর কোন অনুসন্ধান বা অভিযান নয়। বর্ডার এজেন্সী চীফ রব হোয়াইটম্যান বলেন, ট্যাক্সদাতাদের অর্থে ইমিগ্রেন্ট খুঁজা কোন লাভজনক প্রক্রিয়া নয়।
বর হোয়াইটম্যানের এ মন্তব্যের সাথে সাথে ভাগ্যের দরোজা খুলে গেলো নিখোঁজ প্রায় ৮০ হাজার ইমিগ্রেন্ট-এর। যারা ইউকে বর্ডার এজেন্সীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বছরের পর বছর অপেক্ষা করছিলেন। ইমিগ্রেন্টদের খুঁজে বের করার অভিযান বন্ধ ঘোষণা মানে তারা ব্রিটেনে থাকার বৈধতা পেয়ে যাবেন।
২০০৬ সালে ইউকে বর্ডার এজেন্সী ঘোষণা দিয়েছিলো ৫ বছরের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে এমন ৪ লক্ষ ৫০ হাজার আশ্রয় প্রার্থীর একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। যারা মেয়াদ চলতি বছরের সামারে শেষ হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ১লাখ ৮০ হাজার ৯’শ জনকে ব্রিটেনে থাকার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। হিউম্যান রাইটস এ্যাক্ট এর ধারা-৮ অনুযায়ী উল্লেখিত সংখ্যক অবৈধ ইমিগ্রেন্টকে ব্রিটেনে বসবাসের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। যারা দীর্ঘদিন থেকে ব্রিটেনে অবৈধভাবে বসবাসের পাশাপাশি পারিবারিক জীবন-যাপনও শুরু করেছিলেন। হোম অফিসের এমন সিদ্ধান্তে তাদের মধ্যে স্বস্তি নেমে এসেছে।
এদিকে ৪ লাখ ৫০ হাজার এসাইলাম প্রার্থীকে ব্রিটেনে বসবাসের অনুমতি প্রদানের সময় ১৮ হাজার এসাইলাম আবেদনকারীকে ব্রিটেন ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো, কিন্তু তারা ব্রিটেন ত্যাগ  করেননি। এছাড়া ৮০ হাজার এসাইলাম প্রার্থীরও কোন খোঁজ নেই বর্ডার এজেন্সীর কাছে। ঐ ৮০ হাজার এসাইলাম প্রার্থী অন্য কোন দেশে চলে গেছেন নাকি ব্রিটেনে লুকিয়ে আছেন সেটা জানে না হোম অফিস। এখন ঐ ৮০ হাজার অবৈধ ইমিগ্রেন্ট খুঁজার কার্যক্রমও পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে হোম অফিস। যার ফলে তারাও ব্রিটেনে বসবাসের অনুমতি পেতে যাচ্ছেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close