স্বদেশ জুড়ে

সিলেট সিটি নির্বাচন : মেয়র পদে বিএনপির তালিকা দীর্ঘ

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে: সিলেটে মেয়র পদে প্রার্থী তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে বিএনপিতে। এ পর্যন্ত প্রার্থী তালিকায় ১২ জন নেতার নাম পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে প্রাক প্রচারণা শুরু করেছেন। দোয়া পেতে করছেন পোস্টারিং। ব্যানার ও বিলবোর্ড টানিয়ে দিয়েছেন শহরের মোড়ে মোড়ে। মুখে মুখে চাইছেন দোয়াও। বিএনপির নেতাদের তোড়জোড়ে আগাম নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে সিলেট নগরীতে। শুধু মেয়র প্রার্থী নয়, যুবদল ও ছাত্রদলের অনেক নেতাও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়ে ইতিমধ্যে নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণা করে চলেছেন। তবে এক ডজন নেতা মেয়র পদে ইতিমধ্যে প্রার্থী হিসেবে প্রচার হওয়ায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন বিএনপির কর্মী ও সমর্থকরা। ইলিয়াসবিহীন সিলেট বিএনপি এখন অনেকটা অভিভাবকহীন। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথমে আন্দোলনে এক থাকলেও নানা কারণে এখন বিভক্তি আরও বাড়ছে। এর মধ্যে মেয়র পদের নির্বাচন নিয়ে এই বিভক্তি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
দলের তৃণমূলের নেতারা জানান, মেয়র পদে এতো প্রার্থীর নাম আসাটা দলের অভ্যন্তরে কোন্দলেরই বহিঃপ্রকাশ। সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে হওয়ার কথা। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই হিসেবে ৫ বছর মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে। ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচন করার কথা ঘোষণা দিয়েছে। ইসির এই ঘোষণার পর থেকে ধীরে ধীরে নির্বাচনী আমেজ বইতে শুরু করেছে।
এ পর্যন্ত শোনা গেছে, আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র পদে একক প্রার্থী হচ্ছেন মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানই। এখনও এই পদে আওয়ামী লীগ থেকে আর কারও নাম শোনা যায়নি। আর বিএনপিতে প্রার্থী সংখ্যা গুনে গুনে ১২ জন। বিগত নির্বাচনে বিএনপি থেকে তিনজন প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি এম এ হক, সাবেক পৌর মেয়র আ ফ ম কামাল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও সিলেট মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট শামসুজ্জামান জামান। কিন্তু নির্বাচনে ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপির তিন প্রার্থী যে ভোট পেয়েছেন, কারাগারে থেকে সেই ভোটের দ্বিগুণ ভোট পান মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। এবারও মেয়র পদে প্রার্থী তালিকায় গতবারের প্রতিদ্বন্দ্বী সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হক, সিলেট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আ ফ ম কামাল, সিলেট মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সামসুজ্জামান জামানের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে তারা তিনজনই এখনও প্রার্থী হিসেবে প্রচারণায় নামেননি। তাদের কর্মী ও সমর্থকরা ইতিমধ্যে প্রার্থী হিসেবে নাম প্রচার করতে শুরু করেছেন। বিএনপিতে মেয়র পদে এবার নতুন প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন-সংক্রান্ত কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক আহবায়ক বর্তমান কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নাসিম হোসেইন, সহ সভাপতি বদরুজ্জামান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কমিশনার আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেক, সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সাবেক কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম, সিটি কাউন্সিলর দিনার খান হাসু। এর মধ্যে এবার প্রার্থী হয়ে ইতিমধ্যে প্রচারণায় নেমেছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নাসিম হোসাইন। তিনি নগরীতে পোস্টারিং করেছেন। প্রতিটি মোড়ে মোড়ে বিলবোর্ড বসিয়েছেন। নাসিম হোসাইন গত নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত দল থেকে সমর্থন না পাওয়ায় তিনি এগোননি। এবার তিনি দল থেকে সমর্থন পাবেন বলে তার সমর্থকরা আশাবাদী। ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সিলেট মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল হাসান কয়েস লোদীও পোস্টারিং করেছেন। গত নির্বাচনের পর থেকে তিনি মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করে চলেছেন। নগর উন্নয়ন কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান আরিফুল হক চৌধুরী নীরবে চালাচ্ছেন প্রচারণা। সিলেট নগরীতে সাংগঠনিকভাবে তার রয়েছে আলাদা অবস্থান। এর বাইরে নগরীর মুরব্বি পর্যায়ের ব্যক্তিদের কাছে রয়েছে তার গ্রহণযোগ্যতা। প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে তিনি বিগত সরকারের সময় নগর উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে সিলেটে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালান। এ ক্ষেত্রে তিনি প্রার্থী হিসেবে বেশ শক্তিশালী বলে মনে করা হচ্ছে। বদরুজ্জামান সেলিম একবার এর আগে পৌরসভার চেয়ারম্যান পদে লড়েছিলেন। সিলেট নগরীর পাড়ায় পাড়ায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন প্রার্থীরা। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৩ সালের ২০শে মার্চ। সে নির্বাচনে ৫৭ হাজার ৫৫৮ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এম এ হক। এম এ হকের প্রাপ্ত ভোট ছিল ৩৫ হাজার ৫৭ ভোট। ১৫ হাজার ২শ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন বিএনপির আরেক নেতা সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আ ফ ম কামাল। ৪৪৯৪ ভোট  পেয়ে চতুর্থ স্থানে থাকেন বিএনপির অপর নেতা সামসুজ্জামান জামান। ওই নির্বাচনে আরও ৯ জন মেয়র প্রার্থী ছিলেন। ২০০৮ সালের  ৪ঠা আগস্ট অনুষ্ঠিত হয় সিলেট সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচন। এ নির্বাচনেও বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী মেয়র  প্রার্থী ছিলেন।  নির্বাচনে মেয়র পদে কারাগার থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১ লাখ ১৫ হাজার ৪০৯ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। আ ফ ম কামাল পান ৩২ হাজার ৯৭ ভোট আর এম এ হক পান ২৩ হাজার ৪৮৭ ভোট। যুবদল সমর্থক সালাউদ্দিন লিমন পান ৪৭০ ভোট।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close