স্বদেশ জুড়ে

থ্রিজির যুগে বাংলাদেশ

বর্তমানে আমরা যে মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করছি এটি দ্বিতীয় প্রজন্মের (টুজি) মোবাইল। এ প্রযুক্তির মোবাইলে আধুনিক প্রযুক্তিগত অনেক সুবিধা পাওয়া যায় না। ইন্টারনেটের গতি কম হওয়াই এ ক্ষেত্রে মূল প্রতিবন্ধকতা। তৃতীয় প্রজন্মের (থ্রিজি) মোবাইল ফোন সেই প্রতিবন্ধকতার অনেকটাই দূর করেছে। বিশ্বের প্রায় ১৩০টি দেশে এখন থ্রিজি মোবাইল ব্যবহার হচ্ছে। আজ থেকে বাংলাদেশও এ দলে যুক্ত হচ্ছে। এর আগে যেগুলো অবাস্তব মনে হয়েছে এমন অনেক কাজই থ্রিজির মাধ্যমে বাস্তবতায় চলে আসবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সঙ্গে আজ ভিডিও কলে কথা বলে টেলিটকের থ্রিজির ‘পরীক্ষামূলক’ বাণিজ্যিক উদ্বোধন করবেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এরপর প্রধানমন্ত্রী কথা বলবেন তার ছেলেবেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজিমপুর গার্লস স্কুলের দুই হাজার শিক্ষার্থীর সঙ্গে। প্রস্তুতি হিসেবে ইতিমধ্যে স্কুল ক্যাম্পাসে বড় পর্দা স্থাপিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উচ্চগতিতে তথ্য পরিবহনই হবে থ্রিজির প্রধানতম কাজ। প্রধানমন্ত্রী চাইলে থ্রিজির মাধ্যমে নিজের অফিসে বসেই দেখতে পারবেন দূরের কোন দফতরে কী কাজ হচ্ছে। মন্ত্রী-সচিবরা কে অফিস করছেন, কে করছেন না। শহরের সব সড়কের গাড়ির গতিবিধি দেখে অনাকাঙ্ক্ষিত জ্যাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে পুলিশ। তাছাড়া দূরশিক্ষণ কার্যক্রম সহজতর হবে। সহজ হবে স্বাস্থ্যসেবাও। একই সঙ্গে চলতি পথে মোবাইল ফোনেই টেলিভিশন দেখা যাবে। সহজতর হবে অন্যান্য বিনোদনও। যে কোনো স্থানে থেকে যখন খুশি ভিডিও কনফারেন্সও করা যাবে। দ্রুতগতিতে খেলতে পারবেন নানা গেমও।
থ্রিজি টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে বিপ্লব আনবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। টুজিতে ইউটিউব দেখা বা ইন্টারনেটে ভিডিও ক্লিপস দেখার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। সে কারণে বিশ্বের অনেক দেশে সফল হলেও এ দেশে এখনও ইন্টারনেট টিভির প্রবর্তন হয়নি। একই সমস্যায় যেসব ওয়েবপেজে মাল্টিমিডিয়া বা ভিডিও কনটেন্ট থাকে সেগুলো খুলতে সমস্যা হয়। থ্রিজি নিমেষেই করে দেবে এসব। ফলে দেশে মাল্টিমিডিয়া অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহার এবং এর উৎপাদন বাড়বে।
থ্রিজি প্রযুক্তির সেবা পেতে সব কিছুর আগে প্রয়োজন হবে থ্রিজি সিমের। যে মোবাইল সেটে সিমটি ব্যবহার হবে সেটিকেও থ্রিজির উপযুক্ত হতে হবে। তাছাড়া যার সঙ্গে থ্রিজির প্রযুক্তির মাধ্যমে যোগাযোগ করতে চান সেই পক্ষেরও একই সুবিধা থাকতে হবে। তাহলে কথা বলার সময় অবস্থান, ছবি সব কিছুই পরিষ্কার হয়ে উঠবে পরস্পরের কাছে। টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমান থ্রিজির উদ্বোধনকে দেখছেন যুগান্তকারী আয়োজন হিসেবে। তিনি বলেন, থ্রিজিতে গ্রাহকরা সবচেয়ে বেশি করবেন ভিডিও কল। এতে প্রতি মিনিটের খরচ দুই টাকা। থাকবে ১০ সেকেন্ডে পালসও। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘরে বসেই সম্পদের নিরাপত্তা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা যাবে। অন্যদিকে এখনই মোবাইলে বিটিভির পাশাপাশি জিটিভি, আরটিভি, সময় এবং মাইটিভি দেখা যাবে।
মুজিবুর রহমান জানান, আজ উদ্বোধনের পর কাল থেকেই থ্রিজি সিম বিক্রি শুরু হবে। তবে সিমটি ব্যবহার উপযোগী করার আগে গ্রাহকের পরিচয় পুরোপুরি নিশ্চিত হতে হবে। অন্যদিকে কয়েক মাসে যারা ‘গ্রাভিটি’ ক্লাবে যুক্ত হয়েছেন তাদের সঙ্গে খুব দ্রুতই টেলিটক কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ শুরু করবে। তিনি জানান, রাজধানীতে তিন হাজার রিটেইলার পয়েন্ট ও ৮টি কাস্টমার সেন্টারে সিম বিক্রি হবে। মুজিবুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ঢাকার ৪ লাখ গ্রাহক থ্রিজি সুবিধা পাবেন। বছর শেষে চট্টগ্রামে চালু করা হবে থ্রিজি।
গত বছরের ৩ মে টেলিটকের থ্রিজির জন্য সরকার ১ হাজার ৯০১ কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। যার মধ্যে সরকার দেবে ৪২৪ কোটি টাকা। বাকি ১ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা দেওয়ার কথা চীনের এক্সিম ব্যাংকের। থ্রিজির মাধ্যমে টেলিটক প্রাথমিকভাবে ১৭ লাখ ২৮ হাজার গ্রাহক ধরার পরিকল্পনা করছে। এর আগে ২০০৮ সালের আগস্টে ‘আলোকিত বাংলাদেশ’ নামে দেশে প্রথম থ্রিজি প্রযুক্তির প্রদর্শনী করে টেলিযোগাযোগ পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানি এরিকসন। তখন রাজধানীর একটি বড় হোটেলে বসেই অজপাড়াগাঁয়ের মানুষদের নানা সেবা কার্যক্রমে প্রদর্শন করায় তারা। ২০০৯ সালের মে মাসে হুয়াওয়ে নামে অপর একটি চায়নিজ কোম্পানি রাজধানীতে এ বিষয়ে পাঁচ দিনের রোড শোর আয়োজন করে।
টেলিটককে সুযোগ দেওয়া হলেও অন্য বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো বলছে, সুযোগটি সবার জন্য সমান হলে তারাও তাদের গ্রাহকদের নতুন অভিজ্ঞতা দিতে পারতেন। তবে টেলিটক আগে সুযোগ পেয়ে বাজার তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে জানান তারা।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close