বিনোদন

দীর্ঘতম দাম্পত্য জীবনের নতুন রেকর্ড

পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আর নিখাদ ভালবাসায় কারাম (১০৭) ও কাটারি (১০০) দম্পতির ৮৭ বছরের দাম্পত্য জীবন !। শতায়ু পাওয়া বিরল এই দম্পতি গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে দীর্ঘতম দাম্পত্য জীবনের নতুন রেকর্ডধারী জুটি হতে চলেছেন। হিসেব অনুযায়ী চলমান বিবাহিত দাম্পত্য জীবনের বিশ্ব রেকর্ড থেকে তাদের সংসার আরও পাঁচ বছর বেশি । ভারতের পাঞ্জাব থেকে আসা এই দম্পতির বর্তমান আবাস যুক্তরাজ্যের ব্রাডফোর্ড এলাকায়। ৮ সন্তান ও ২৮ নাতি নাতনির সংসারে এখনও সদা উতফুল্ল তাঁরা।   সুদীর্ঘ সুখী দাম্পত্য জীবনের রহস্য সম্পর্কে তারা বলেছেন, ’ কোন রহস্য নেই বিশ্বাস আর ভালবাসার জোরেই আমাদের পথচলা । আমরা সব সময় একজন আরেক জনের খেয়াল রাখার চেষ্টা করেছি।’ কারাম জানালেন, আমার সবসময় চেষ্টা কাটারিকে হাসিখুশি রাখা। সংসারকে আনন্দময় করে তোলার মাঝেই ভালবাসা জিইয়ে থাকে। মুখের হাসি জীবন ও সম্পর্ককে দীর্ঘায়িত করে। ভালবাসার জোরে আরও আশি বছর আমার স্ত্রীর পাশে থাকতে চাই।
এদিকে কাটারি বলেছেন, আমরা দুজনেই নিরামিষ ভোজী। একটা সময় ছিল, রোজ রাতেই ওর জন্য নানা সবজির খাবার তৈরী করতাম। আর ভাবতাম স্বাস্থ্য সম্মত খাবার খেলে দু’জনে একসাথে বুড়ো হতে পারব। আমাদের পূর্ব পছন্দ ছিলনা, পারিবারিক ভাবেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলাম। এইতো সেদিন, একবারও মনে হয়না আমাদের ৮৭ বছরের সংসার।
প্রায় নয় দশকের বিবাহিত জীবনে খুব কম সময়ই এই দুজন আলাদা থেকেছেন। আর কারাম বিশ্বাস করেন এসাথে সুখ, দু:খ কষ্ট ভাগাভগি করার মাঝেও আনন্দ আছে। তাছাড়া একে অন্যকে সময় দিলে বিশ্বাস ও স্থায়ীত্ব প্রগাঢ় হয়। গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্বীকৃতি সনদ প্রাপ্তির অপেক্ষায় পৃথিবীর দীর্ঘতম বিবাহিত দাম্পত্য জীবনের নতুন রেকর্ড সৃষ্টিকারী এই দম্পতি।
তবে বর্তমান আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্য জীবন নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় কারাম বলেছেন,’  একটা সময় ছিল, মানুষ অন্যের কথা শোনত। আর এখন মানুষ জীবনসঙ্গীর বাইরেও নানা কিছু নিয়ে বেশি ব্যস্ত সময় কাটায়। একে অন্যের সমস্যা, ভাললাগা সবকিছুর সহভাগি হতে সময় দেয়া জরুরী, তা না হলে বন্ধন অটুট হবে কি করে ?।
পৃথিবীতে ভালবাসা আর বিশ্বাসের নজির সৃষ্টিকারী বাবা মাকে নিয়ে গর্বিত তাদের ছেলে সত্যপল। বলেছেন, আমার মা বাবার সহজ সরল জীবনযাপন। তাদের ভালবাসার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধার শেষ নেই। আমরা সবাই চাই তারা সবসময় পাশাপাশি, হাসি খুশি থাকুক। চলতি মাসেই ঘটা করে মা (১০০) ও বাবা (১০৭) দু’জনের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন করার প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close