উর্বশী

বাহারি ব্যাগ

মরিয়ম মনি: অনেক কিছু এক সাথে বহন করতে দরকার ব্যাগ। আর সেই ব্যাগ যদি হয় নজর কাড়া কারুকাজে পূর্ণ, তাহলে সেটা হতে পারে আপনার ফ্যাশনের অনুষঙ্গ।

ফ্যাশনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোন সূত্র কাজ করে না। যাকে যে ধরনের জিনিস মানায় সে সেদিকেই ঝুঁকে পড়ে।বর্তমানে যেমনটি দেখা যায় মেয়েদের ব্যাগের ক্ষেত্রে।একসময় মেয়েরা ছোট থলে বা পার্স ব্যবহার করলেও এখন সময় পাল্টেছে।কপালে বড় টিপ, চোখে সানগ্লাস, সঙ্গে সুন্দর নকশার একটি বড় ব্যাগ না হলে কি এখন চলে! তাছাড়া মেয়েরা এখন পুরুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাইরের সব ধরনের কাজ করছেন। বাইরে যাচ্ছেন বিভিন্ন কাজে।সঙ্গে প্রয়োজনীয় জিনিস বহন করার জন্যেও দরকার ব্যাগ।অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য সাথের ছোট ব্যাগটি যেমন হয় সুন্দর নকশা করা, তেমনি কাজের জন্য বড় ব্যাগটিও হতে হবে নজর কাড়া।আর সেই চাহিদা মেটাতেই বাজারে পাওয়া যায় বিভিন্ন আকার-প্রকারের সুন্দর সুন্দর ব্যাগ।

জিনিসপত্র বহনকে সহজ করতেই প্রথমে ব্যাগের আবিস্কার ঘটে।তখন এটি তৈরির উপকরণ ছিল কাগজ।ধারণা করা হয় চীন দেশে চা পাতার গন্ধ ও স্বাদ অটুট রাখতেই প্রথমে কাগজের তৈরি ব্যাগের আবিস্কার হয়।আর সেখান থেকেই আজ মানব জাতির ফ্যাশন আর ব্যবহার উপযোগী ব্যাগের সৃষ্টি।পুটুলি আকৃতির একটি ব্যাগে একসাথে অনেক জিনিস সহজে বহন করা সম্ভব।তবে হাল আমলের ব্যাগগুলো এখন আর শুধু জিনিসপত্র বহনে ব্যবহার হয় না।বরং বলা চলে পুরোপুরি এটি হয়ে গেছে স্টাইলের একটি অংশ।আগে বিদেশ থেকে আমদানি করা ব্যাগ মেয়েদের বেশি পছন্দের হলেও এখন আমাদের দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো তৈরি করছে যুগোপযোগী ও বৈচিত্রময় নানা ধরনের ব্যাগ।এর মধ্যে পার্স, ঝোলানো ব্যাগ, হ্যান্ডব্যাগ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

বাজারে বিভিন্ন ধরনের আর দামের ব্যাগ পাওয়া যায়।এরমধ্যে কাঁধে ঝুলিয়ে ব্যবহার করা ব্যাগগুলো এখন অফিস ও বাসা দুই জায়গাতেই মেয়েরা ব্যবহার করেন।যেগুলো শোল্ডার ব্যাগ নামেই পরিচিত।নিত্যব্যবহার্য বড় ব্যাগকে বলা হয় টোটি ব্যাগ।এখন চামড়ার টোটি ব্যাগ জনপ্রিয় স্টাইল।এসব ব্যাগ জিন্স-ফতুয়া, সালোয়ার-কামিজ এমনকি শাড়ির সাথেও মানানসই।তবে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের জন্য স্টাইলিশ ব্যাগ হচ্ছে ন্যাপস্যাক।একে ব্যাকপ্যাকও বলা হয়।তরুণ ছেলে-মেয়েদের কাঁধে এগুলো বেশি দেখা যায়।ভ্রমনের জন্যেও এই ব্যাগ বেশ কাজের।এ ধরনের ব্যাগের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো শরীরের সাথে আঁটসাঁট হয়ে ঝুলে থাকে।এই ব্যাগ স্টাইলের তুলনায় প্রয়োজনটাই বেশি মেটায়।দামও কম।এখন এই ধরনের ব্যাগের সাথে আলাদা খোপ থাকে ল্যাপটপ রাখার জন্য।বর্তমানে মেয়েদের নানান ধরনের হাত ব্যাগের মধ্যে ক্লাচ-ব্যাগকে নিশ্চিতভাবে আইকন হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে এই ব্যাগগুলো ব্যবহার হয় না।এগুলো অনেক ছোট আকৃতির হয়।শক্ত অথবা নরম উপাদানে তৈরি এই ব্যাগ হাতের মুঠোয় রাখা যায়।সাধারণত বিভিন্ন জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে এই ব্যাগ ব্যবহার হয়।অন্যদিকে হ্যান্ডব্যাগের ব্যবহার প্রায় সবার মাঝেই লক্ষণীয়।

বিভিন্ন শপিংমল ছাড়াও দেশীয় প্রায় সব বুটিক হাউসেই এসব ব্যাগ পাওয়া যাবে। এছাড়া নিউমার্কেট কিংবা যেকোন বড় শপিংমলেও যেতে পারেন।ইতালিয়ান গুচি, ডানহিল, প্যাটেল লেদার ব্যাগ প্রভৃতি ব্র্যান্ডের ব্যাগ পাওয়া যাবে বাজারে।টোটি ব্যাগও পাওয়া যাবে ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায়।ছাত্রদের উপযোগী ঝোলানো কাঁধের ব্যাগগুলোর দাম পরবে ৩০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে।পোলো, বার্জাস, ভার্সেস, ডানহিল ব্র্যান্ডের ব্যাগগুলো ৭০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে।পুঁতি, লেস, কাপড়ের তৈরি ব্যাগ পাওয়া যাবে ২০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে।চট বা প্লাস্টিকের তৈরি ব্যাগ পাওয়া যাবে ২০০-৫০০ টাকায়। এছাড়া ঢাকার ট্যানারির মোড় হিসেবে পরিচিত হাজারিবাগে বেশ কয়েকটি চামড়াযাত পণ্যের দোকান আছে।যেখানে বাজার মূল্যের চেয়ে অন্তত এক থেকে দুই হাজার টাকা কমে চামড়ার ব্যাগ পাওয়া যাবে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close